পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

সৌদিতে বাংলাদেশের নারীরা ঘণ্টা চুক্তিতে যা করছেন

আরব নিউজ রোববার একজন বাংলাদেশী আইন বিশেষজ্ঞের জীবন সংগ্রামের এবং ৪০ বাংলাদেশী নারীর এক কৌতূহলী কাহিনী ছাপা হয়েছে। এই নারীরা সবাই কাজ করছেন ঘণ্টা চুক্তিতে। বাসাবাড়িতে মাসিক চুক্তিতে কাজের বেতন অল্প, খাটুনি বেশি। তারপর নানা গঞ্জনা। তাই তার এভাবে কাজ করে আয় করছেন তারা।

আর এই সুযোগ করে দিয়েছেন বাংলাদেশী আইনবিদ মাহবুব। তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজের বুয়া সরবরাহকারী ফার্ম খুলেছেন। তার এই নেটওয়ার্কে বর্তমানে ৪০ জন বাংলাদেশী বুয়া রয়েছেন। মাসে তাদের উপার্জন ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি। মজার বিষয় হলো, এই ৪০ বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মী হিসেবে চুক্তির আওতায় এসেছিলেন। কিন্তু তারা সবাই নিজেদের বৈধ কর্মক্ষেত্র থেকে নানা কারণে পালিয়েছেন।

গতকাল জেদ্দা ডেটলাইনে ‘পলাতক গৃহকর্মীরা আকর্ষণীয় ব্যবসায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব জুড়ে গৃহকর্মীদের তীব্র সঙ্কট চলছে। বিশেষ করে পলাতকদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। ইদানীং আরও একটি বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে। সে কারণেই এই ব্যবসা জমে উঠতে পেরেছে। পুরো বিষয়টি ‘ব্ল্যাক মার্কেটে’ ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ ধাওয়া করছে না এখনও।

আরব নিউজ বলেছে, সৌদি পরিবারগুলোর মধ্যে একটি পরিবর্তন এসেছে। তারা আর আগের মতো গৃহকর্মী পালিয়ে গেলেই পুলিশে নালিশ করে না। এমনকি কারও পালিয়ে যাওয়া দেখে তারা যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। পলায়নকে স্বাগত জানান। তবে অনেক পরিবার অবশ্য এ জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। তাদের ভাষায়, এ রকম পলায়নের খবরকে পুলিশ আর পাত্তা দেয় না। তারা কাউকে খুঁজে বের করতে আর কোন চেষ্টাই করে না।

বাংলাদেশী মাহবুব বলেন, আমি একজন আইনবিদ তবে সৌদিতে ট্যাক্সি চালাই। আমার গাড়িতে অনেক সৌদি মহিলা চলাচল করেন। তারা আমার কাছে গৃহকর্মী চান। এ অবস্থায় আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, আমি তো অনেক বাংলাদেশী মেয়েকে চিনি-জানি। তখনই পরিকল্পনা করি যে, ঘণ্টার ভিত্তিতে বুয়া সাপ্লাই দেবো।

বুয়ারা দারুণ খুশি। কারণ কোন বাড়িতে মাসভর থাকলে বেতন মেলে ১৫০০ রিয়াল (প্রায় ৩১ হাজার টাকা)। অথচ ঘণ্টা হিসেবে কাজ করলে মাসে তাদের আয় আসে আড়াই হাজার রিয়াল। বাংলাদেশী টাকায় সাড়ে ৫১ হাজার টাকার বেশি। আমি তাদেরকে সরবরাহের বিনিময়ে একটি কমিশন লাভ করে থাকি।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

সৌদিতে বাংলাদেশের নারীরা ঘণ্টা চুক্তিতে যা করছেন

আপডেট টাইম : ০৬:৩২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৪

আরব নিউজ রোববার একজন বাংলাদেশী আইন বিশেষজ্ঞের জীবন সংগ্রামের এবং ৪০ বাংলাদেশী নারীর এক কৌতূহলী কাহিনী ছাপা হয়েছে। এই নারীরা সবাই কাজ করছেন ঘণ্টা চুক্তিতে। বাসাবাড়িতে মাসিক চুক্তিতে কাজের বেতন অল্প, খাটুনি বেশি। তারপর নানা গঞ্জনা। তাই তার এভাবে কাজ করে আয় করছেন তারা।

আর এই সুযোগ করে দিয়েছেন বাংলাদেশী আইনবিদ মাহবুব। তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজের বুয়া সরবরাহকারী ফার্ম খুলেছেন। তার এই নেটওয়ার্কে বর্তমানে ৪০ জন বাংলাদেশী বুয়া রয়েছেন। মাসে তাদের উপার্জন ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি। মজার বিষয় হলো, এই ৪০ বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মী হিসেবে চুক্তির আওতায় এসেছিলেন। কিন্তু তারা সবাই নিজেদের বৈধ কর্মক্ষেত্র থেকে নানা কারণে পালিয়েছেন।

গতকাল জেদ্দা ডেটলাইনে ‘পলাতক গৃহকর্মীরা আকর্ষণীয় ব্যবসায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব জুড়ে গৃহকর্মীদের তীব্র সঙ্কট চলছে। বিশেষ করে পলাতকদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। ইদানীং আরও একটি বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে। সে কারণেই এই ব্যবসা জমে উঠতে পেরেছে। পুরো বিষয়টি ‘ব্ল্যাক মার্কেটে’ ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ ধাওয়া করছে না এখনও।

আরব নিউজ বলেছে, সৌদি পরিবারগুলোর মধ্যে একটি পরিবর্তন এসেছে। তারা আর আগের মতো গৃহকর্মী পালিয়ে গেলেই পুলিশে নালিশ করে না। এমনকি কারও পালিয়ে যাওয়া দেখে তারা যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। পলায়নকে স্বাগত জানান। তবে অনেক পরিবার অবশ্য এ জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। তাদের ভাষায়, এ রকম পলায়নের খবরকে পুলিশ আর পাত্তা দেয় না। তারা কাউকে খুঁজে বের করতে আর কোন চেষ্টাই করে না।

বাংলাদেশী মাহবুব বলেন, আমি একজন আইনবিদ তবে সৌদিতে ট্যাক্সি চালাই। আমার গাড়িতে অনেক সৌদি মহিলা চলাচল করেন। তারা আমার কাছে গৃহকর্মী চান। এ অবস্থায় আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, আমি তো অনেক বাংলাদেশী মেয়েকে চিনি-জানি। তখনই পরিকল্পনা করি যে, ঘণ্টার ভিত্তিতে বুয়া সাপ্লাই দেবো।

বুয়ারা দারুণ খুশি। কারণ কোন বাড়িতে মাসভর থাকলে বেতন মেলে ১৫০০ রিয়াল (প্রায় ৩১ হাজার টাকা)। অথচ ঘণ্টা হিসেবে কাজ করলে মাসে তাদের আয় আসে আড়াই হাজার রিয়াল। বাংলাদেশী টাকায় সাড়ে ৫১ হাজার টাকার বেশি। আমি তাদেরকে সরবরাহের বিনিময়ে একটি কমিশন লাভ করে থাকি।