অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

মনপুরায় হাত বাড়ালেই মাদক

চরফ্যাশন : ভোলার মনপুরা এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। মনপুরার সর্বত্র হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য। আর এসব মাদকের পেছনে ছুটছে উঠতি বয়সের তরুণেরা।

সমাজের নামকরা পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও জড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবনে। মাদকের টাকা যোগাড় করতে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে এসব উঠতি বয়সের তরুণরা।

আর সুযোগ বুঝে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকে সয়লাব করছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক বিকি-কিনিতে জড়িত। আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় পুলিশ তাদের ধরছে না। ফলে মাদক বিক্রেতারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মাদক বিক্রেতারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নেশার দ্রব্য।

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ভারত থেকে বেনাপোল হয়ে দূরপাল্লার বাসযোগে বরিশাল ও ভোলায় পৌঁছে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য। ক্ষমতাসীন দলের একটি চক্র ভারত থেকে ভোলায় আসা নেশাদ্রব্য মনপুরার বিভিন্ন স্পটে মাদকাসক্তের কাছে সরবরাহ করছে।

ভোলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মনপুরা যাতায়াত নৌ-পথে হওয়ায় মনপুরার মেঘনা নদী হয়ে মনপুরা পৌঁছার নৌ-রুটগুলো মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে প্রতিনিয়ত ব্যবহার হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাজীরহাট ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানায়, মনপুরায় পুলিশের অভিযান না থাকায় মাদক বিক্রেতারা খুব সহজেই মাদক সংগ্রহ করে মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে মনপুরায় দিন দিন মাদক বিকিকিনি ও মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মনপুরা উপজেলার এক শ্রেণির যুবক নম্বরবিহীন মোটর সাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাতায়াত করছে। পুলিশ এ খবর জানলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। মনপুরার হাজীরহাট মৎস্য ঘাট, বাংলাবাজার, পোস্ট অফিসের পার্শ্বে, রামনেওয়াজ, চর জংলা ঘাট ও জনতাবাজার ঘাট সংলগ্ন মাঠে, হাজীরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে, উপজেলা পরিষদ চত্বর, আদালত চত্বর ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন কয়েকটি ঝুঁপড়ি ঘরে রাতে মাদকের আড্ডা বসে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ সিকদার জানান, মাদক বিকিকিনির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে জড়িতদের ব্যাপারে অনুসন্ধ্যান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধ্যান শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

মনপুরায় হাত বাড়ালেই মাদক

আপডেট টাইম : ০৩:০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

চরফ্যাশন : ভোলার মনপুরা এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। মনপুরার সর্বত্র হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য। আর এসব মাদকের পেছনে ছুটছে উঠতি বয়সের তরুণেরা।

সমাজের নামকরা পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও জড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবনে। মাদকের টাকা যোগাড় করতে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে এসব উঠতি বয়সের তরুণরা।

আর সুযোগ বুঝে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকে সয়লাব করছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক বিকি-কিনিতে জড়িত। আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় পুলিশ তাদের ধরছে না। ফলে মাদক বিক্রেতারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মাদক বিক্রেতারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নেশার দ্রব্য।

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ভারত থেকে বেনাপোল হয়ে দূরপাল্লার বাসযোগে বরিশাল ও ভোলায় পৌঁছে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য। ক্ষমতাসীন দলের একটি চক্র ভারত থেকে ভোলায় আসা নেশাদ্রব্য মনপুরার বিভিন্ন স্পটে মাদকাসক্তের কাছে সরবরাহ করছে।

ভোলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মনপুরা যাতায়াত নৌ-পথে হওয়ায় মনপুরার মেঘনা নদী হয়ে মনপুরা পৌঁছার নৌ-রুটগুলো মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে প্রতিনিয়ত ব্যবহার হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাজীরহাট ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানায়, মনপুরায় পুলিশের অভিযান না থাকায় মাদক বিক্রেতারা খুব সহজেই মাদক সংগ্রহ করে মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে মনপুরায় দিন দিন মাদক বিকিকিনি ও মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মনপুরা উপজেলার এক শ্রেণির যুবক নম্বরবিহীন মোটর সাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাতায়াত করছে। পুলিশ এ খবর জানলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। মনপুরার হাজীরহাট মৎস্য ঘাট, বাংলাবাজার, পোস্ট অফিসের পার্শ্বে, রামনেওয়াজ, চর জংলা ঘাট ও জনতাবাজার ঘাট সংলগ্ন মাঠে, হাজীরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে, উপজেলা পরিষদ চত্বর, আদালত চত্বর ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন কয়েকটি ঝুঁপড়ি ঘরে রাতে মাদকের আড্ডা বসে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ সিকদার জানান, মাদক বিকিকিনির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে জড়িতদের ব্যাপারে অনুসন্ধ্যান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধ্যান শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।