পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

২৪ ঘণ্টায় শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি ১৪৮

রাজশাহী : রাজশাহীতে শনিবার আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে দিনের সর্বনিম্ম তাপমাত্রা। হেসেছে সূর্য। ফলে কিছুটা হলেও শীতের তীব্রতা কমেছে। কিন্তু কমেনি শীতজনিত রোগ। এরই মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪৮ জন রোগী। এর মধ্যে ৪২ জনই শিশু। বাকিদের অধিকাংশই বৃদ্ধ।

শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, আক্রান্তরা হাসপাতালের ১০, ১৭ এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শীতজনিত রোগ ডাইরিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।

এর আগে গত রোববার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুদের তিন ওয়ার্ডে ১১৪ জন রোগী ভর্তি হয়। এদের মধ্যে মারা যায় ৫ জন।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান খান বাদশা বলেন, শীতে শিশুরা রোটা ভাইরাস ডাইরিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে শিশুদের ঠাণ্ডা না লাগে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বেশি বেশি মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে। আক্রান্ত হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এসময় শিশুদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য তরল খাবারও খাওয়ানো যেতে পারে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনোয়ারা বেগম জানান, শনিবার আগের দিনের চেয়ে শীতের দাপট কিছুটা হলেও কমেছে। অবশ্য সেটি খুব বেশি মাত্রায় নয়। রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা শুক্রবার ছিলো মৌসুম সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের জনজীবন। দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। ঘন কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রবি ফসলও। বোরো বীজতলা ও অন্যান্য ফসলে কোল্ড ইনজুরির আশঙ্কায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। টানা এ পরস্থিতি চলতে থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হযরত আলী।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, শীত মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি ১৪৮

আপডেট টাইম : ০৬:২৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

রাজশাহী : রাজশাহীতে শনিবার আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে দিনের সর্বনিম্ম তাপমাত্রা। হেসেছে সূর্য। ফলে কিছুটা হলেও শীতের তীব্রতা কমেছে। কিন্তু কমেনি শীতজনিত রোগ। এরই মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪৮ জন রোগী। এর মধ্যে ৪২ জনই শিশু। বাকিদের অধিকাংশই বৃদ্ধ।

শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, আক্রান্তরা হাসপাতালের ১০, ১৭ এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শীতজনিত রোগ ডাইরিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।

এর আগে গত রোববার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুদের তিন ওয়ার্ডে ১১৪ জন রোগী ভর্তি হয়। এদের মধ্যে মারা যায় ৫ জন।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান খান বাদশা বলেন, শীতে শিশুরা রোটা ভাইরাস ডাইরিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে শিশুদের ঠাণ্ডা না লাগে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বেশি বেশি মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে। আক্রান্ত হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এসময় শিশুদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য তরল খাবারও খাওয়ানো যেতে পারে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনোয়ারা বেগম জানান, শনিবার আগের দিনের চেয়ে শীতের দাপট কিছুটা হলেও কমেছে। অবশ্য সেটি খুব বেশি মাত্রায় নয়। রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা শুক্রবার ছিলো মৌসুম সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের জনজীবন। দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। ঘন কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রবি ফসলও। বোরো বীজতলা ও অন্যান্য ফসলে কোল্ড ইনজুরির আশঙ্কায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। টানা এ পরস্থিতি চলতে থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হযরত আলী।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, শীত মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।