পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল

চৈত্র মাসে বন্যা! সুন্দরবনের নদীর বাঁধ ভেঙ্গে সাতক্ষীরায় ১৪টি গ্রাম প্লাবিত

সাতক্ষীরা : সুন্দরবনের খোলপেটুয়া নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দুটি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

গ্রামবাসী দুপুর থেকে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ভাটার টান না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাঁধের প্রায় চারশ’ ফুট এলাকা ভেঙ্গে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অনত্র পাড়ি জমিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার সকালে জোয়ারের পানির তোড়ে মাদিয়া এলাকায় পুরনো বেড়ি বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ভাঙ্গন এলাকা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তার ইউনিয়নের মাদিয়া, ভামিয়া, বীরসিংহ, পোড়াকাটলা, আড়পাঙ্গাশিয়া, দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি ও কলবাড়ি গ্রামে পানি ঢুকে যায়। এসব গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে পানি ঢুকে যাওয়া ছাড়াও কয়েকশ’ চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। এলাকার কিছু বৃদ্ধ, রোগগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও চেয়ারম্যান জানান ।

ঘটনাস্থলে শ্যামনগরের ইউএনও আবু সালেহ মঞ্জুরুল আলম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ভাঙ্গনরোধে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন ।

এদিকে আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ জানান ভাঙ্গনের ফলে তার ইউনিয়নের বয়ারসিংহ, হেনচি, মোল্লাপাড়া, বোয়ালিয়া, বাদুড়িয়া, বড়কুপোট ও ছোটকুপোট তলিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, বাড়িঘর ধসে না পড়লেও রাস্তাঘাট এবং বিপুল সংখ্যক চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনাল অফিসার ( এসও ) নিখিল দত্ত জানান, ভাঙ্গন পয়েন্টটি ২০০৯ এর আইলার আঘাতেও টিকে ছিল। ফলে বাঁধটির এই অংশ মেরামত না করায় জোয়ারের পানিতে তা ধসে গেছে। তিনি বলেন, বিকেল নাগাদ সর্বোচ্চ ২০০ ফুট বাঁধ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আছে। জোয়ারের পানির তোড় না কমলে বাঁধ মেরামত করা যাচ্ছেনা বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, জোয়ারের নোনা পানিতে এ এলাকার খাবারের মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস রিজার্ভ পুকুরগুলি তলিয়ে গেছে। ইরি ধানের খেতও পানির নিচে রয়েছে বলে জানান তিনি।

শ্যামনগর এলাকার সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার জানান, বাঁধ রক্ষার সব চেষ্টা চলছে। তবে পানির জোর না কমায় তা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পানি সম্পদ মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বাঁধ রক্ষা করতে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত রয়েছে ।

জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান (প্রশাসন) জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন নিয়ে প্লাবিত এলাকায় থেকে বাঁধ সংস্কার তদারকি করছেন।

Tag :

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

চৈত্র মাসে বন্যা! সুন্দরবনের নদীর বাঁধ ভেঙ্গে সাতক্ষীরায় ১৪টি গ্রাম প্লাবিত

আপডেট টাইম : ০৩:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০১৫

সাতক্ষীরা : সুন্দরবনের খোলপেটুয়া নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দুটি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

গ্রামবাসী দুপুর থেকে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ভাটার টান না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাঁধের প্রায় চারশ’ ফুট এলাকা ভেঙ্গে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অনত্র পাড়ি জমিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার সকালে জোয়ারের পানির তোড়ে মাদিয়া এলাকায় পুরনো বেড়ি বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ভাঙ্গন এলাকা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তার ইউনিয়নের মাদিয়া, ভামিয়া, বীরসিংহ, পোড়াকাটলা, আড়পাঙ্গাশিয়া, দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি ও কলবাড়ি গ্রামে পানি ঢুকে যায়। এসব গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে পানি ঢুকে যাওয়া ছাড়াও কয়েকশ’ চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। এলাকার কিছু বৃদ্ধ, রোগগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও চেয়ারম্যান জানান ।

ঘটনাস্থলে শ্যামনগরের ইউএনও আবু সালেহ মঞ্জুরুল আলম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ভাঙ্গনরোধে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন ।

এদিকে আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ জানান ভাঙ্গনের ফলে তার ইউনিয়নের বয়ারসিংহ, হেনচি, মোল্লাপাড়া, বোয়ালিয়া, বাদুড়িয়া, বড়কুপোট ও ছোটকুপোট তলিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, বাড়িঘর ধসে না পড়লেও রাস্তাঘাট এবং বিপুল সংখ্যক চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনাল অফিসার ( এসও ) নিখিল দত্ত জানান, ভাঙ্গন পয়েন্টটি ২০০৯ এর আইলার আঘাতেও টিকে ছিল। ফলে বাঁধটির এই অংশ মেরামত না করায় জোয়ারের পানিতে তা ধসে গেছে। তিনি বলেন, বিকেল নাগাদ সর্বোচ্চ ২০০ ফুট বাঁধ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আছে। জোয়ারের পানির তোড় না কমলে বাঁধ মেরামত করা যাচ্ছেনা বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, জোয়ারের নোনা পানিতে এ এলাকার খাবারের মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস রিজার্ভ পুকুরগুলি তলিয়ে গেছে। ইরি ধানের খেতও পানির নিচে রয়েছে বলে জানান তিনি।

শ্যামনগর এলাকার সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার জানান, বাঁধ রক্ষার সব চেষ্টা চলছে। তবে পানির জোর না কমায় তা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পানি সম্পদ মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বাঁধ রক্ষা করতে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত রয়েছে ।

জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান (প্রশাসন) জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন নিয়ে প্লাবিত এলাকায় থেকে বাঁধ সংস্কার তদারকি করছেন।