পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

‘আমার লাশকে রাষ্ট্রীয় স্যালুট করা চলবে না’

ঢাকা : কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, “জীবিত থাকাকালে কোন মুক্তিযোদ্ধা যথাযথ সম্মান পায় না কিন্তু মৃত্যুর পর পুলিশের ময়লা বুট দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্যালুটের নামে মাটিতে লাথি মারা হয়। আমি মারা যাওয়ার পর আমার লাশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্যালুট করা হোক সেটা আমি চাই না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমি যদি মারা যেতাম, তবে আজ আমার স্মৃতির প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানাতেন। অথচ জীবিত আছি বলে ফুটপাথেও নিরাপদে থাকতে পারবো না, সেটা আমি ভাবিনি কখনো।”

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমি মারা গেলে আপনার স্মৃতি তর্পনের কোন সুযোগ হবে না, আপনি আমার মরদেহে ফুল দিতে পারবেন না। এমনকি আমার মরদেহের পাশে যাওয়ার অধিকারও আপনাকে দেব না।”

বঙ্গবীর বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের রক্ত আমাদের রক্তের সাথে একাকার হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রায় ১৬ বছর আমি ভারতের আশ্রয়ে ছিলাম বলে মাতৃভূমি বাংলাদেশের পরে আমি ভারতের একনিষ্ঠ সমর্থক। কিন্তু ৫ই জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশে ভারতের জনপ্রিয়তা অনেক নিচে নেমে গেছে। আর বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত যে আচরণ করেছে তাতে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় থেকে ভারতের নাম মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “ভারত যদি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন না চেয়ে শুধু শেখ হাসিনার সমর্থন চায় তবে এদেশে একদিন ভারতের নাম নেয়ার মানুষ থাকবে না।”

এ আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, দলের যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মীর আহমেদ মীরু, ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক রিফাতুল ইসলাম দীপ, কাওসার জামান খান, প্রকোশলী ফেরদৌস ইসলাম, শ্রমিক নেতা আনিসুর রহমান ও ছাত্রনেতা জিহাদ চৌধুরী।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আলোচনায় বসা এবং বেগম খালেদা জিয়াকে অবরোধ প্রত্যাহার করে দেশ ও মানুষ বাঁচানোর দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম মতিঝিলের ফুটপাথে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আইন সম্পাদক এডভোকেট মাহবুব হাসান রানা ও যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আলী হোসেন ম-লের নেতৃত্বে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।

এছাড়া আগামী ২৮ মার্চ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের অবস্থান কর্মসূচির ৬০দিন পূর্ণ হবে। যে সকল দেশবরেণ্য ব্যক্তি কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং যারা নানা কারণে আসতে না পারলেও কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেছেন তাদের নিয়ে এদিন সকাল ১১টায় দলীয় কার্যালয়ের (৮০ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০) সামনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

‘আমার লাশকে রাষ্ট্রীয় স্যালুট করা চলবে না’

আপডেট টাইম : ০১:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০১৫

ঢাকা : কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, “জীবিত থাকাকালে কোন মুক্তিযোদ্ধা যথাযথ সম্মান পায় না কিন্তু মৃত্যুর পর পুলিশের ময়লা বুট দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্যালুটের নামে মাটিতে লাথি মারা হয়। আমি মারা যাওয়ার পর আমার লাশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্যালুট করা হোক সেটা আমি চাই না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমি যদি মারা যেতাম, তবে আজ আমার স্মৃতির প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানাতেন। অথচ জীবিত আছি বলে ফুটপাথেও নিরাপদে থাকতে পারবো না, সেটা আমি ভাবিনি কখনো।”

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে মতিঝিলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমি মারা গেলে আপনার স্মৃতি তর্পনের কোন সুযোগ হবে না, আপনি আমার মরদেহে ফুল দিতে পারবেন না। এমনকি আমার মরদেহের পাশে যাওয়ার অধিকারও আপনাকে দেব না।”

বঙ্গবীর বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের রক্ত আমাদের রক্তের সাথে একাকার হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রায় ১৬ বছর আমি ভারতের আশ্রয়ে ছিলাম বলে মাতৃভূমি বাংলাদেশের পরে আমি ভারতের একনিষ্ঠ সমর্থক। কিন্তু ৫ই জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশে ভারতের জনপ্রিয়তা অনেক নিচে নেমে গেছে। আর বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত যে আচরণ করেছে তাতে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় থেকে ভারতের নাম মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “ভারত যদি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন না চেয়ে শুধু শেখ হাসিনার সমর্থন চায় তবে এদেশে একদিন ভারতের নাম নেয়ার মানুষ থাকবে না।”

এ আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, দলের যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মীর আহমেদ মীরু, ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক রিফাতুল ইসলাম দীপ, কাওসার জামান খান, প্রকোশলী ফেরদৌস ইসলাম, শ্রমিক নেতা আনিসুর রহমান ও ছাত্রনেতা জিহাদ চৌধুরী।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আলোচনায় বসা এবং বেগম খালেদা জিয়াকে অবরোধ প্রত্যাহার করে দেশ ও মানুষ বাঁচানোর দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম মতিঝিলের ফুটপাথে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আইন সম্পাদক এডভোকেট মাহবুব হাসান রানা ও যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আলী হোসেন ম-লের নেতৃত্বে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।

এছাড়া আগামী ২৮ মার্চ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের অবস্থান কর্মসূচির ৬০দিন পূর্ণ হবে। যে সকল দেশবরেণ্য ব্যক্তি কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং যারা নানা কারণে আসতে না পারলেও কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেছেন তাদের নিয়ে এদিন সকাল ১১টায় দলীয় কার্যালয়ের (৮০ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০) সামনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।