অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

ঝিনাইদহ সীমান্তে অজ্ঞাত রোগে ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় অজ্ঞাত রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে ইতোমধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন।

সবশেষ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা’র মহাখালীর রোগতত্ত্ব ও উদারাময় গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে একটি মেডিকেল টিম এ রোগ নির্ণয় ও পর্যবেক্ষণে জন্য ঝিনাইদহে এসেছেন।

ভারত সীমান্তবর্তী সামন্তা ও কোলা গ্রাম এলাকায় জারি করা হয়েছে সতর্কাবস্থা। বাতিল করা হয়েছে স্থানীয় চিকিৎসকদের ছুটিও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সামন্তা ও কোলা গ্রাম। এ দুই গ্রামে সম্প্রতি একের পর এক অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও নারী-পুরুষ।

গত ২৯ মার্চ সামন্তা গ্রামের আবু হোসনের মেয়ে আসমা খাতুন (২২) এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। ওইদিনই হাসপাতালে মারা যান তিনি।

পরদিন একই ধরণের রোগী কোলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে এনামূল হক স্থানান্তর করেন। সেখানে তিনিও মারা যান।

এ নিয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৈ-চৈ শুরু হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে।

নতুন করে মৃত আসমা খাতুনের মা ছকিনা খাতুন (৪৫) এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে মহেশপুর থেকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এসব রোগীর শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এ রোগ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ভীতি দেখা দিয়েছে।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম জানান, অজ্ঞাত এ রোগের কারণে স্থানীয় সকল ডাক্তারদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে ওই এলাকায়। গঠন করা হয়েছে একাধিক মেডিকেল টিম। এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সবাই চিকেন পক্সে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই।

তিনি আরো জানান, রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকার মহাখালীর আইইডিসিআর থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম মঙ্গলবার ঝিনাইদহে এসেছেন।

মেডিকেল টিমের নেতৃত্বদানকারী ঢাকার মহাখালী আইইডিসিআর’র মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, কি কারণে দুই জন মারা গেছেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। আক্রান্ত রোগীদের রক্ত ও কফের নমুনা সহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হবে।

এদিকে দ্রুত এ রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে না পারলে এ রোগ আরো ছড়িয়ে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

ঝিনাইদহ সীমান্তে অজ্ঞাত রোগে ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬

আপডেট টাইম : ০১:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০১৫

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় অজ্ঞাত রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে ইতোমধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন।

সবশেষ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা’র মহাখালীর রোগতত্ত্ব ও উদারাময় গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে একটি মেডিকেল টিম এ রোগ নির্ণয় ও পর্যবেক্ষণে জন্য ঝিনাইদহে এসেছেন।

ভারত সীমান্তবর্তী সামন্তা ও কোলা গ্রাম এলাকায় জারি করা হয়েছে সতর্কাবস্থা। বাতিল করা হয়েছে স্থানীয় চিকিৎসকদের ছুটিও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সামন্তা ও কোলা গ্রাম। এ দুই গ্রামে সম্প্রতি একের পর এক অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও নারী-পুরুষ।

গত ২৯ মার্চ সামন্তা গ্রামের আবু হোসনের মেয়ে আসমা খাতুন (২২) এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। ওইদিনই হাসপাতালে মারা যান তিনি।

পরদিন একই ধরণের রোগী কোলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে এনামূল হক স্থানান্তর করেন। সেখানে তিনিও মারা যান।

এ নিয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৈ-চৈ শুরু হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে।

নতুন করে মৃত আসমা খাতুনের মা ছকিনা খাতুন (৪৫) এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে মহেশপুর থেকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এসব রোগীর শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এ রোগ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ভীতি দেখা দিয়েছে।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম জানান, অজ্ঞাত এ রোগের কারণে স্থানীয় সকল ডাক্তারদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে ওই এলাকায়। গঠন করা হয়েছে একাধিক মেডিকেল টিম। এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সবাই চিকেন পক্সে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই।

তিনি আরো জানান, রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকার মহাখালীর আইইডিসিআর থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম মঙ্গলবার ঝিনাইদহে এসেছেন।

মেডিকেল টিমের নেতৃত্বদানকারী ঢাকার মহাখালী আইইডিসিআর’র মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, কি কারণে দুই জন মারা গেছেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। আক্রান্ত রোগীদের রক্ত ও কফের নমুনা সহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হবে।

এদিকে দ্রুত এ রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে না পারলে এ রোগ আরো ছড়িয়ে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।