পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

মোদীর সফর নিয়ে যোগাযোগ শুরু: দিনক্ষণ ঠিক হয়নি এখনো

ঢাকা : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা। সরকার এবং বিরোধী দলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ বিষয়ে আগ্রহের কমতি নেই। স্থল সীমান্ত বিনিময় চুক্তি ভারতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর মোদীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে বলে সরকার মনে করছে। তবে কূূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মোদীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো মনে করা হলেও এ বিষয়ে দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি এখনো।

অপরদিকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন সোমবার রাজশাহীর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে।

সফরের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে মাত্র। সফর ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় তৎপরতার বাইরেও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন- যাতে মোদীর সফর ইস্যুটি অন্যদিকে চলে না যায়, বিশেষ করে নিজেদের কাজে লাগানো যায়। জুনের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরের বাজেট অধিবেশন থাকায় মাসের মাঝামাঝি সময়কে প্রাথমিকভাবে সফরের দিনক্ষণ ধরে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জুন মাসের ২০ তারিখের পরেই মোদীর বাংলাদেশ সফর চাইছে সরকার। এতে করে রাজনৈতিক দল ও সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগ বেশি সুবিধা নিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মোদীর সফর নিয়ে সকল রকম জটিলতার অবসান হতে পারে সংশোধিত স্থল সীমান্ত বিনিময় চুক্তিটিতে ভারতের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরেই। কারণ হিসেবে সূত্রটি বলছে, সংশোধিত স্থল সীমান্ত বিনিময় চুক্তিটি ভারতের রাজ্যসভায় পাস হলেও তা আইনে পরিণত হতে গিয়ে নতুন করে এক জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। কিন্তু আইনে পরিণত হতে গেলে নতুন করে লোকসভার সহযোগিতার প্রয়োজন লাগবে কি না সে বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। ফলে সফর কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।

সম্ভাব্য পরাশক্তি ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেয়ার পরই প্রতিবেশি কয়েকটি রাষ্ট্র সফর করেছেন। এমনকি শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত সফর করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এখনো সফর করা হয়ে উঠেনি মোদীর।

যদিও ভারতের নতুন পররাষ্ট্র সচিব জয় শঙ্কর সার্কের সকল দেশ সফর করেছেন গত মার্চ মাসে। সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই তিনি সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সফর করেছেন। সে তালিকায় কিন্তু বাদ পড়েনি পাকিস্তানও।

মোদীর পাকিস্তান সফরে না যাওয়া নিয়ে আলোচনা না হলেও বাংলাদেশ সফর না করার আলোচনা এখনও থামেনি।

বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এটিকে নিজেদের জন্য এক প্রকার শীতল সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখছিলো। অপরদিকে এ বিষয়টিকে প্রধান বিরোধী দলগুলো দেখছিলো রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু, গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসাটা আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। অপরদিকে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এ বিষয়টিকে মূল্যায়ন করেছে ইতিবাচক রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হিসেবে।

মোদী যখন ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো সফর শুরু করেন তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল চরম অস্থিতিশীল। সে সময়ে মোদী বাংলাদেশ সফর করলে আওয়ামী লীগ সেই সফর থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করত। অপরদিকে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়ত মোদী সরকার। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তখন এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব কারণেই নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফর করবেন রাজনৈতিক হিসেব-কষেই।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

মোদীর সফর নিয়ে যোগাযোগ শুরু: দিনক্ষণ ঠিক হয়নি এখনো

আপডেট টাইম : ০১:২২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০১৫

ঢাকা : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা। সরকার এবং বিরোধী দলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ বিষয়ে আগ্রহের কমতি নেই। স্থল সীমান্ত বিনিময় চুক্তি ভারতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর মোদীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে বলে সরকার মনে করছে। তবে কূূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মোদীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো মনে করা হলেও এ বিষয়ে দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি এখনো।

অপরদিকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন সোমবার রাজশাহীর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে।

সফরের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে মাত্র। সফর ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় তৎপরতার বাইরেও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন- যাতে মোদীর সফর ইস্যুটি অন্যদিকে চলে না যায়, বিশেষ করে নিজেদের কাজে লাগানো যায়। জুনের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরের বাজেট অধিবেশন থাকায় মাসের মাঝামাঝি সময়কে প্রাথমিকভাবে সফরের দিনক্ষণ ধরে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জুন মাসের ২০ তারিখের পরেই মোদীর বাংলাদেশ সফর চাইছে সরকার। এতে করে রাজনৈতিক দল ও সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগ বেশি সুবিধা নিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মোদীর সফর নিয়ে সকল রকম জটিলতার অবসান হতে পারে সংশোধিত স্থল সীমান্ত বিনিময় চুক্তিটিতে ভারতের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরেই। কারণ হিসেবে সূত্রটি বলছে, সংশোধিত স্থল সীমান্ত বিনিময় চুক্তিটি ভারতের রাজ্যসভায় পাস হলেও তা আইনে পরিণত হতে গিয়ে নতুন করে এক জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। কিন্তু আইনে পরিণত হতে গেলে নতুন করে লোকসভার সহযোগিতার প্রয়োজন লাগবে কি না সে বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। ফলে সফর কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।

সম্ভাব্য পরাশক্তি ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেয়ার পরই প্রতিবেশি কয়েকটি রাষ্ট্র সফর করেছেন। এমনকি শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত সফর করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এখনো সফর করা হয়ে উঠেনি মোদীর।

যদিও ভারতের নতুন পররাষ্ট্র সচিব জয় শঙ্কর সার্কের সকল দেশ সফর করেছেন গত মার্চ মাসে। সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই তিনি সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সফর করেছেন। সে তালিকায় কিন্তু বাদ পড়েনি পাকিস্তানও।

মোদীর পাকিস্তান সফরে না যাওয়া নিয়ে আলোচনা না হলেও বাংলাদেশ সফর না করার আলোচনা এখনও থামেনি।

বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এটিকে নিজেদের জন্য এক প্রকার শীতল সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখছিলো। অপরদিকে এ বিষয়টিকে প্রধান বিরোধী দলগুলো দেখছিলো রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু, গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসাটা আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। অপরদিকে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এ বিষয়টিকে মূল্যায়ন করেছে ইতিবাচক রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হিসেবে।

মোদী যখন ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো সফর শুরু করেন তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল চরম অস্থিতিশীল। সে সময়ে মোদী বাংলাদেশ সফর করলে আওয়ামী লীগ সেই সফর থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করত। অপরদিকে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়ত মোদী সরকার। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তখন এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব কারণেই নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফর করবেন রাজনৈতিক হিসেব-কষেই।