অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

এবছরও কপোতাক্ষ তীরে জলাবদ্ধতা!

তালা(সাতক্ষীরা) : নদের ভেতরেই উঁচু করে রাখা হচ্ছে মাটির স্তূপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ মাটি ধসে ভরাট হবে নদ। এ কারণে এবছরও কপোতাক্ষ তীরে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

এভাবেই বলছিলেন- কপোতাক্ষ তীরের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী করিম শেখ।

তার ভাষ্যমতে, বর্ষা মৌসুমে এলাকার পানি পূর্বে কিছুটা নিষ্কাশন হলেও এবার হবে না। কারণ নদের তীরেই উঁচু করে মাটির স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এলাকায় এবারও স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

কপোতাক্ষ নদ প্রতি বছর খননের সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা মাটি সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে খনন কাজ শেষ করেন। কিন্তু পরে তারা আর ওই মাটি অপসরাণ করেন না। যে কারণে প্রতিবছরই একই স্থানে খনন করতে হয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না।

বর্তমানে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা অংশে কপোতাক্ষ নদ খননের কাজ চলছে। ২০১৩-১৪ ও ১৪-১৫ অর্থবছরে ২১ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খনন কাজে প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে, এ বছর তালা উপজেলা অংশে মূল নকশা অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে তালা উপজেলার মোবারকপুর, মাগুরা, বারুইপাড়া, মেলাবাজার ও চরগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষ নদের কোথায়ও এক পাশে, কোথাও দু’পাশে খনন করা হচ্ছে। খননের মাটি নদের ভেতরে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। অনেক জায়গায় পানির মধ্যে খনন করা হচ্ছে। কয়েকটি খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) এ কাজ করছে।

তালা উপজেলার মাগুরা গ্রামের ইনছার আলী জানান, কপোতাক্ষ নদ যেভাবে খনন করা হচ্ছে, তা বছর না যেতেই ভরাট হয়ে যাবে। কারণ খননকৃত মাটি নদের ভেতরে রাখা হচ্ছে। প্রতিবছরই তারা খননকৃত মাটি অপসারণের কথা বললেও তা বাস্তবায়ন করেন না।

কপোতাক্ষ নদ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার তাহেরপুর থেকে উৎপত্তি হয়ে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, যশোরের ঝিকরগাছা, কেশবপুর ও মনিরামপুর, সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া, আশাশুনি ও শ্যামনগর এবং খুলনার পাইকগাছার শিববাড়ি শিপসা নদীর ত্রি-মোহনায় মিশেছে। নদটির দৈর্ঘ প্রায় দুইশ’ কিলোমিটার।

যশোর পাউবো দপ্তর থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালের জুলাই মাসে কপোতাক্ষ নদ খননে চার বছর মেয়াদী প্রায় ২৬২ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খননে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় ধরা হয়। চলতি বছরও একই বরাদ্দে মূল নকশা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ জানান, কপোতাক্ষ খননে শুরু থেকে লুটপাট শুরু হয়েছে। নদটি খনন করে নদের ভেতরে মাটি উঁচু করে রাখা হচ্ছে। এতে কপোতাক্ষ তীরে এবার স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালা উপজেলার মাগুরা গ্রামের শিক্ষক জনাব আলী জানান, কপোতাক্ষ নদ খননে আগেও লুটপাট হয়েছে, এবারও তাই হচ্ছে। পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা কপোতাক্ষকে দুধের গাভী হিসেবে ব্যবহার করছে।

বারুইপাড়া গ্রামের নারায়ন দেবনাথ বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাজ তেমন তদারকি করে না, ফিল্ডেও আসে না ঠিকমতো। এজন্য ঠিকাদাররা সুযোগ পেয়ে কাজে অনিয়ম করে।’

একই গ্রামের নিমাই দেবনাথ বলেন,‘নদ খনন করে মাটি যেভাবে রাখা হচ্ছে, এতে এলাকার পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হবে। কোনোভাবেই পানি নিষ্কাশন হবে না।’

এমন কথা মাগুরা গ্রামের আনছার আলী, রোকেয়া বেগম, সাদ্দাম হোসেন, গণেশ মণ্ডল, বিধান রায়সহ অনেকেরই।

খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) চালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘খনন করে মাটি নদের তীরে রাখা হচ্ছে। পরে এ মাটি অপসারণ করা হবে।’ নিয়ম অনুযায়ী খনন হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যে ভাবে বলেছে, সেভাবে খনন করছি।’

কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কপোতাক্ষ নদ মূল নকশা অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। লোক দেখানো খনন করে লুটপাট করা হচ্ছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ তদারকি কর্মকর্তা (এসও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খনন কাজে কোনো প্রকার অনিয়ম হবে না। ফিল্ডে না আসার প্রশ্নই ওঠে না।’

তিনি বলেন,‘মাটির উঁচু করে রাখলেও সমস্যা নেই।পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপের ব্যবস্থা আছে। ওই পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হবে।’

তবে, তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন,‘কপোতাক্ষ নদ তীরের বিশাল এলাকার পানি কিভাবে কয়েকটি পাইপ দিয়ে নিষ্কাশন হবে, তা আমার জানা নেই। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতায় রূপ নেবে।’

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অখিল কুমার বিশ্বাষ বলেন,‘খননকৃত মাটি রাখার তেমন জায়গা নেই। এ কারণে তীরের পাশ দিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে, ওই মাটি অপসারণের কথাও মাথায় আছে।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

এবছরও কপোতাক্ষ তীরে জলাবদ্ধতা!

আপডেট টাইম : ০৩:০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০১৫

তালা(সাতক্ষীরা) : নদের ভেতরেই উঁচু করে রাখা হচ্ছে মাটির স্তূপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ মাটি ধসে ভরাট হবে নদ। এ কারণে এবছরও কপোতাক্ষ তীরে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

এভাবেই বলছিলেন- কপোতাক্ষ তীরের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী করিম শেখ।

তার ভাষ্যমতে, বর্ষা মৌসুমে এলাকার পানি পূর্বে কিছুটা নিষ্কাশন হলেও এবার হবে না। কারণ নদের তীরেই উঁচু করে মাটির স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এলাকায় এবারও স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

কপোতাক্ষ নদ প্রতি বছর খননের সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা মাটি সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে খনন কাজ শেষ করেন। কিন্তু পরে তারা আর ওই মাটি অপসরাণ করেন না। যে কারণে প্রতিবছরই একই স্থানে খনন করতে হয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না।

বর্তমানে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা অংশে কপোতাক্ষ নদ খননের কাজ চলছে। ২০১৩-১৪ ও ১৪-১৫ অর্থবছরে ২১ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খনন কাজে প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে, এ বছর তালা উপজেলা অংশে মূল নকশা অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে তালা উপজেলার মোবারকপুর, মাগুরা, বারুইপাড়া, মেলাবাজার ও চরগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষ নদের কোথায়ও এক পাশে, কোথাও দু’পাশে খনন করা হচ্ছে। খননের মাটি নদের ভেতরে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। অনেক জায়গায় পানির মধ্যে খনন করা হচ্ছে। কয়েকটি খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) এ কাজ করছে।

তালা উপজেলার মাগুরা গ্রামের ইনছার আলী জানান, কপোতাক্ষ নদ যেভাবে খনন করা হচ্ছে, তা বছর না যেতেই ভরাট হয়ে যাবে। কারণ খননকৃত মাটি নদের ভেতরে রাখা হচ্ছে। প্রতিবছরই তারা খননকৃত মাটি অপসারণের কথা বললেও তা বাস্তবায়ন করেন না।

কপোতাক্ষ নদ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার তাহেরপুর থেকে উৎপত্তি হয়ে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, যশোরের ঝিকরগাছা, কেশবপুর ও মনিরামপুর, সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া, আশাশুনি ও শ্যামনগর এবং খুলনার পাইকগাছার শিববাড়ি শিপসা নদীর ত্রি-মোহনায় মিশেছে। নদটির দৈর্ঘ প্রায় দুইশ’ কিলোমিটার।

যশোর পাউবো দপ্তর থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালের জুলাই মাসে কপোতাক্ষ নদ খননে চার বছর মেয়াদী প্রায় ২৬২ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খননে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় ধরা হয়। চলতি বছরও একই বরাদ্দে মূল নকশা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ জানান, কপোতাক্ষ খননে শুরু থেকে লুটপাট শুরু হয়েছে। নদটি খনন করে নদের ভেতরে মাটি উঁচু করে রাখা হচ্ছে। এতে কপোতাক্ষ তীরে এবার স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালা উপজেলার মাগুরা গ্রামের শিক্ষক জনাব আলী জানান, কপোতাক্ষ নদ খননে আগেও লুটপাট হয়েছে, এবারও তাই হচ্ছে। পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা কপোতাক্ষকে দুধের গাভী হিসেবে ব্যবহার করছে।

বারুইপাড়া গ্রামের নারায়ন দেবনাথ বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাজ তেমন তদারকি করে না, ফিল্ডেও আসে না ঠিকমতো। এজন্য ঠিকাদাররা সুযোগ পেয়ে কাজে অনিয়ম করে।’

একই গ্রামের নিমাই দেবনাথ বলেন,‘নদ খনন করে মাটি যেভাবে রাখা হচ্ছে, এতে এলাকার পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হবে। কোনোভাবেই পানি নিষ্কাশন হবে না।’

এমন কথা মাগুরা গ্রামের আনছার আলী, রোকেয়া বেগম, সাদ্দাম হোসেন, গণেশ মণ্ডল, বিধান রায়সহ অনেকেরই।

খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) চালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘খনন করে মাটি নদের তীরে রাখা হচ্ছে। পরে এ মাটি অপসারণ করা হবে।’ নিয়ম অনুযায়ী খনন হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যে ভাবে বলেছে, সেভাবে খনন করছি।’

কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কপোতাক্ষ নদ মূল নকশা অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। লোক দেখানো খনন করে লুটপাট করা হচ্ছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ তদারকি কর্মকর্তা (এসও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খনন কাজে কোনো প্রকার অনিয়ম হবে না। ফিল্ডে না আসার প্রশ্নই ওঠে না।’

তিনি বলেন,‘মাটির উঁচু করে রাখলেও সমস্যা নেই।পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপের ব্যবস্থা আছে। ওই পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হবে।’

তবে, তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন,‘কপোতাক্ষ নদ তীরের বিশাল এলাকার পানি কিভাবে কয়েকটি পাইপ দিয়ে নিষ্কাশন হবে, তা আমার জানা নেই। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতায় রূপ নেবে।’

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অখিল কুমার বিশ্বাষ বলেন,‘খননকৃত মাটি রাখার তেমন জায়গা নেই। এ কারণে তীরের পাশ দিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে, ওই মাটি অপসারণের কথাও মাথায় আছে।’