অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মুসলিম হওয়ায় চাকরির আবেদন নাকচ

ডেস্ক : মুম্বাইয়ের ম্যানেজমেন্ট স্নাতক জিশান আলি খান হরিকৃষ্ণ মুসলিম হওয়ার কারণে তার চাকরির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের একটি প্রথম সারির হিরা রফতানি কোম্পানি।

শুধু মুসলিম হওয়ার অপরাধে ওই যুবকের চাকরির আবেদন তারা প্রত্যাখ্যান করেছে, এই অভিযোগে ভারতের একটি প্রথম সারির হিরা রফতানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই কী তার সাথে বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে।

মুম্বাইয়ের ম্যানেজমেন্ট স্নাতক জিশান আলি খান হরিকৃষ্ণ এক্সপোর্ট নামে ওই সংস্থায় চাকরির আবেদন করেন। পরে তার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ইমেইল করে জানিয়ে দেওয়া হয় যারা মুসলিম নন, শুধু তাদেরই সেখানে চাকরি মিলবে।

ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করার অভিযোগে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ভারতীয় দ-বিধির ১৫৩বি ধারা অনুযায়ী কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াটা দ-নীয় অপরাধ এবং কোনও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সে কাজ করলে তাদের লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।

জিশান আলি খান বলেছেন, গত সপ্তাহে এমবিএ-র ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন হরিকৃষ্ণ এক্সপোর্টে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তাই অন্য বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ১৯শে মে সন্ধ্যায় সেখানে বায়োডাটা পাঠিয়ে ইমেইলে চাকরির আবেদন করেন।

“মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে আমার কাছে জবাব চলে আসে – দু:খিত, আমরা মুসলিমদের চাকরি দিতে পারব না, শুধু নন-মুসলিমদেরই আমরা কোম্পানিতে নিই,” তিনি জানান।

জিশান ফেসবুকে সেই ইমেইলের স্ক্রিনশট পোস্ট করার পরই সোশ্যাল মিডিয়াতে তোলপাড় পড়ে যায়।

আজ ওই হিরা কোম্পানির পক্ষ থেকে সাফাই দিয়ে বলা হয় তাদের এইচআর বিভাগের একজন শিক্ষানবিশ ভুল করে ওই ইমেইলটি পাঠিয়েছিলেন।

সেই শিক্ষানবিশকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

জিশান ও তার পরিবার অবশ্য এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি, তারা এদিন থানায় ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার পর মুম্বাই পুলিশ হরিকৃষ্ণ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

জিশানের যে হিন্দু বন্ধুরা তার সঙ্গেই ওই কোম্পানিতে আবেদন করেছিলেন তারা পরদিনই সেখানে ইন্টারভিউয়ের ডাক পান। কিন্তু বন্ধুর প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদে তারাও এখন সেই কোম্পানিকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হরিকৃষ্ণ এক্সপোর্টের ওয়েবসাইটেও দেখা যাচ্ছে এটা মূলত ঢোলাকিয়া পরিবারের পারিবারিক ব্যবসা এবং তাদের হরিকৃষ্ণ টিমেও কর্তারা সবাই হিন্দু।

ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, মুসলিমদের চাকরি না দেওয়াটাই ওই প্রতিষ্ঠানের নীতি কি না তা তারা খতিয়ে দেখবেন।

“যদি দেখা যায় মুসলিমদের বাইরে রাখাটাই তাদের প্র্যাকটিস, তাহলে সেই অনুযায়ী আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব,” কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিম আহমেদ বলেন।

জিশান আলি খানের বাবা আলি আহমেদ গোটা ঘটনায় আঙুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের দিকেও।

“সরকার বলে মুসলিমরা ছেলেমেয়েদের পড়াশুনো করায় না। কিন্তু আমি ছেলেকে এত কষ্ট করে পড়ানোর পরও যদি চাকরির ক্ষেত্রে তার এই হাল হয়, তখন আর কিছু বলার থাকে না।’

সূত্র : বিবিসি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

মুসলিম হওয়ায় চাকরির আবেদন নাকচ

আপডেট টাইম : ০২:০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০১৫

ডেস্ক : মুম্বাইয়ের ম্যানেজমেন্ট স্নাতক জিশান আলি খান হরিকৃষ্ণ মুসলিম হওয়ার কারণে তার চাকরির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের একটি প্রথম সারির হিরা রফতানি কোম্পানি।

শুধু মুসলিম হওয়ার অপরাধে ওই যুবকের চাকরির আবেদন তারা প্রত্যাখ্যান করেছে, এই অভিযোগে ভারতের একটি প্রথম সারির হিরা রফতানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই কী তার সাথে বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে।

মুম্বাইয়ের ম্যানেজমেন্ট স্নাতক জিশান আলি খান হরিকৃষ্ণ এক্সপোর্ট নামে ওই সংস্থায় চাকরির আবেদন করেন। পরে তার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ইমেইল করে জানিয়ে দেওয়া হয় যারা মুসলিম নন, শুধু তাদেরই সেখানে চাকরি মিলবে।

ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করার অভিযোগে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ভারতীয় দ-বিধির ১৫৩বি ধারা অনুযায়ী কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াটা দ-নীয় অপরাধ এবং কোনও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সে কাজ করলে তাদের লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।

জিশান আলি খান বলেছেন, গত সপ্তাহে এমবিএ-র ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন হরিকৃষ্ণ এক্সপোর্টে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তাই অন্য বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ১৯শে মে সন্ধ্যায় সেখানে বায়োডাটা পাঠিয়ে ইমেইলে চাকরির আবেদন করেন।

“মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে আমার কাছে জবাব চলে আসে – দু:খিত, আমরা মুসলিমদের চাকরি দিতে পারব না, শুধু নন-মুসলিমদেরই আমরা কোম্পানিতে নিই,” তিনি জানান।

জিশান ফেসবুকে সেই ইমেইলের স্ক্রিনশট পোস্ট করার পরই সোশ্যাল মিডিয়াতে তোলপাড় পড়ে যায়।

আজ ওই হিরা কোম্পানির পক্ষ থেকে সাফাই দিয়ে বলা হয় তাদের এইচআর বিভাগের একজন শিক্ষানবিশ ভুল করে ওই ইমেইলটি পাঠিয়েছিলেন।

সেই শিক্ষানবিশকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

জিশান ও তার পরিবার অবশ্য এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি, তারা এদিন থানায় ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার পর মুম্বাই পুলিশ হরিকৃষ্ণ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

জিশানের যে হিন্দু বন্ধুরা তার সঙ্গেই ওই কোম্পানিতে আবেদন করেছিলেন তারা পরদিনই সেখানে ইন্টারভিউয়ের ডাক পান। কিন্তু বন্ধুর প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদে তারাও এখন সেই কোম্পানিকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হরিকৃষ্ণ এক্সপোর্টের ওয়েবসাইটেও দেখা যাচ্ছে এটা মূলত ঢোলাকিয়া পরিবারের পারিবারিক ব্যবসা এবং তাদের হরিকৃষ্ণ টিমেও কর্তারা সবাই হিন্দু।

ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, মুসলিমদের চাকরি না দেওয়াটাই ওই প্রতিষ্ঠানের নীতি কি না তা তারা খতিয়ে দেখবেন।

“যদি দেখা যায় মুসলিমদের বাইরে রাখাটাই তাদের প্র্যাকটিস, তাহলে সেই অনুযায়ী আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব,” কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিম আহমেদ বলেন।

জিশান আলি খানের বাবা আলি আহমেদ গোটা ঘটনায় আঙুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের দিকেও।

“সরকার বলে মুসলিমরা ছেলেমেয়েদের পড়াশুনো করায় না। কিন্তু আমি ছেলেকে এত কষ্ট করে পড়ানোর পরও যদি চাকরির ক্ষেত্রে তার এই হাল হয়, তখন আর কিছু বলার থাকে না।’

সূত্র : বিবিসি