পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

এখন আর পারছি না

রাজশাহী: জরুরি বিভাগের কাছে দাঁড়িয়ে সাত/আট বছরের একটা মেয়ে। হাতে জামা-কাপড়ের ছোট্ট একটা ব্যাগ। অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে। আশেপাশে কেউ নেই। এভাবেই কেটে যায় কয়েক ঘণ্টা। এরপরেও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে শিশুটি।

শুক্রবার সন্ধ্যার পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আনসার সদস্য ও বক্স পুলিশের সদস্যদের চোখ যায় শিশুটির দিকে। তারা এগিয়ে গিয়ে যায় শিশুটির দিকে।

আনসার সদস্যরা জানতে চায় সে কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে, সঙ্গে আছে কিনা। কিন্তু মেয়েটি বলছে না কিছুই। এরপর শিশুটির হাতে দেখতে পান একটা চিঠি।

রামেক হাসপাতালের আনসার কমান্ডার জাকারীয়া হোসেন জানান, মেয়েটির বয়স অনুমানিক চার বছর। তার পরনে হাফ ফ্যান্ট ও ফ্রক রয়েছে। মেয়েটি তার নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না। আমরা তাকে উদ্ধার করে বেশ কয়েকবার মাইকিংও করেছি।

মেয়েটির হাতে থাকা চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জাকারীয়া হোসেন বলেন, অজানা কাউকে উদ্দেশ করে চিঠিটি লেখা হয়েছে। মেয়েটিকে নিজের সন্তান মনে করে আদর যত্ম দিয়ে মানুষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিটিতে লেখা ছিলো…‘শ্রদ্ধেয়, স্নেহের ভাই, বোনেরা, প্রথমে আমার সালাম নিবেন, আমি এই মেয়েটিকে কুড়িয়ে নিয়ে গিয়ে মানুষ করেছি, কিন্তু এখন আর পারছি না, কারণ আমার স্বামী নাই, তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাই, এতোদিন এই মেয়েটিকে অনেক কষ্ট করে রেখেছি, কিন্তু এখন ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে আমি হিমসিম খাচ্ছি, কোনো রকমে কষ্টে দিন কাটাই, তাই আর এই মেয়েকে আমার কাছে না রেখে যেখান থেকে কুড়িয়ে পেয়েছি সেখানে রেখে গেলাম, দয়া করে যে এই শিশুটিকে পাবেন, দয়া করে নিজের সন্তান মনে করে আদর যত্ম দিয়ে মানুষ করবেন।

আমি আবারো বলছি আমি খুব গরীব এক মেয়ে।’

রামেক হাসপাতাল বক্স পুলিশের ইনচার্জ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল জানান, সন্ধ্যা থেকেই জরুরি বিভাগের কাছে হাতে একটি জামা-কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে শিশুটি দাঁড়িয়েছিল। কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে বা সঙ্গে কে আছে এসব বিষয় নিয়ে মেয়েটি কোনো কথাই বলছে না। বর্তমানে শিশুটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসেস সেন্টারে (ওসিসি) রাখা হয়েছে। রাতেই রাজপাড়ায় পাঠানো হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

এখন আর পারছি না

আপডেট টাইম : ০৫:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০১৫

রাজশাহী: জরুরি বিভাগের কাছে দাঁড়িয়ে সাত/আট বছরের একটা মেয়ে। হাতে জামা-কাপড়ের ছোট্ট একটা ব্যাগ। অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে। আশেপাশে কেউ নেই। এভাবেই কেটে যায় কয়েক ঘণ্টা। এরপরেও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে শিশুটি।

শুক্রবার সন্ধ্যার পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আনসার সদস্য ও বক্স পুলিশের সদস্যদের চোখ যায় শিশুটির দিকে। তারা এগিয়ে গিয়ে যায় শিশুটির দিকে।

আনসার সদস্যরা জানতে চায় সে কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে, সঙ্গে আছে কিনা। কিন্তু মেয়েটি বলছে না কিছুই। এরপর শিশুটির হাতে দেখতে পান একটা চিঠি।

রামেক হাসপাতালের আনসার কমান্ডার জাকারীয়া হোসেন জানান, মেয়েটির বয়স অনুমানিক চার বছর। তার পরনে হাফ ফ্যান্ট ও ফ্রক রয়েছে। মেয়েটি তার নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না। আমরা তাকে উদ্ধার করে বেশ কয়েকবার মাইকিংও করেছি।

মেয়েটির হাতে থাকা চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জাকারীয়া হোসেন বলেন, অজানা কাউকে উদ্দেশ করে চিঠিটি লেখা হয়েছে। মেয়েটিকে নিজের সন্তান মনে করে আদর যত্ম দিয়ে মানুষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিটিতে লেখা ছিলো…‘শ্রদ্ধেয়, স্নেহের ভাই, বোনেরা, প্রথমে আমার সালাম নিবেন, আমি এই মেয়েটিকে কুড়িয়ে নিয়ে গিয়ে মানুষ করেছি, কিন্তু এখন আর পারছি না, কারণ আমার স্বামী নাই, তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাই, এতোদিন এই মেয়েটিকে অনেক কষ্ট করে রেখেছি, কিন্তু এখন ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে আমি হিমসিম খাচ্ছি, কোনো রকমে কষ্টে দিন কাটাই, তাই আর এই মেয়েকে আমার কাছে না রেখে যেখান থেকে কুড়িয়ে পেয়েছি সেখানে রেখে গেলাম, দয়া করে যে এই শিশুটিকে পাবেন, দয়া করে নিজের সন্তান মনে করে আদর যত্ম দিয়ে মানুষ করবেন।

আমি আবারো বলছি আমি খুব গরীব এক মেয়ে।’

রামেক হাসপাতাল বক্স পুলিশের ইনচার্জ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল জানান, সন্ধ্যা থেকেই জরুরি বিভাগের কাছে হাতে একটি জামা-কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে শিশুটি দাঁড়িয়েছিল। কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে বা সঙ্গে কে আছে এসব বিষয় নিয়ে মেয়েটি কোনো কথাই বলছে না। বর্তমানে শিশুটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসেস সেন্টারে (ওসিসি) রাখা হয়েছে। রাতেই রাজপাড়ায় পাঠানো হবে।