পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

‘পুরুষ মানুষ চেনা আছে: লিডাররা আমাকে ছাড়িয়ে নেবে’

ঢাকা: তোরা আমার কিছুই করতে পারবি না। সব পুরুষ মানুষ আমার চেনা আছে। সুযোগ পেলেই তারা বিছানায় যেতে চায়। আমাকে ছাড়িয়ে নিতে লিডারদের খবর দিয়েছি। ওরা এসে আমাকে গাড়িতে করে নিয়ে যাবে।

ব্ল্যাকমেইলার সুন্দরী মনিকে আটকের পর পুলিশ ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে এধরণেরই হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি। এসময় মনি পুলিশের উপরও রাগ ঝাড়তে দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ফোন করে বাসায় ডেকে এনে আপত্তিকর ছবি তুলতো সুন্দরী মনি। তারপর সেই ছবি তুলে মুক্তিপণ আদায় করতো। ব্যবসায়ীরাই তার বড় টার্গেট ছিল।

চট্টগ্রামসহ সারা দেশের অন্তত ১০০ ব্যক্তিকে এভাবে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে মণি। তার সঙ্গে রয়েছে আরও ১০ জনের একটি সিন্ডিকেট। নগরীর হালিশহর ও খুলশী এলাকায় দীর্ঘদিন এমন অপকর্মের ফাঁদ পাতে সে। সর্বশেষ গত রোববার গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে। এরপর বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর কাহিনী।

পুলিশ জানায়, শান্তিবাগ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার সঙ্গে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য রনি ও লিটন নামের আরও দুই যুবক গ্রেপ্তার হন। ২৩ বছরের মণি আক্তার সব সময় তার বয়স দিয়ে পুরুষদের আকর্ষণ করতে চাইতো।

সুযোগ পেলেই বিছানায় নিয়ে যাওয়ার অফার করতো। তবে গত রোববার শাহাদাত নামের এক ব্যক্তিকে কম টাকায় প্লট বিক্রির লোভ দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে কাজল নামের এক ব্যক্তি। সেই কাজলও মণির সঙ্গে সিন্ডিকেটে কাজ করতো। প্রথমে শাহাদাতকে প্রতারক মণির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

মণি কথা বলার ছলে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে শাহাদাতকে কাপড় খুলতে বাধ্য করে। একইসঙ্গে তার সহকর্মীরা মণির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতে থাকে। শাহাদাত এ ঘটনা থেকে বাঁচার আকুতি জানালে তারা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

শাহাদাত বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তারা প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা পাঠায় বিকাশের মাধ্যমে। কিন্তু মণি ও তার চক্রের সদস্যরা তাকে ওই বাড়িতে আটকে রাখে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করার পর পুলিশ তদন্তে নামে। তারা কৌশলে মণির সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধ করার কথা জানায়।

টাকার লোভে রনি নামের প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য বড়পুল এলাকায় তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এলে পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মণির বাসা থেকে শাহাদাতকে উদ্ধার করে মণি ও লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ৩ জন জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে এরশাদ ও মামুনসহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, মণি পুরুষদের ব্ল্যাকমেইলিং করতে ওস্তাদ। সে তার রূপের মোহে অনেক মানুষকে নিঃস্ব করেছে বলে জেনেছি। স্বীকার করেছে টাকার বিনিময়ে ছেলেদের বাসায় ডেকে এনে কাপড়চোপড় খুলে আপত্তিকর ছবি তুলতো।

তিনি আরও বলেন, আমরা ধারণা করছি মণির সঙ্গে আরও অনেক সদস্য কাজ করছে। যেখানে অনেক উঠতি মেয়েও থাকতে পারে। পুরো চট্টগ্রাম শহরে তাদের বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। অপকর্মের কাজে তারা ইয়াবা ও ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করে।

প্রতারণার শিকার শাহাদাত বলেন, মানসম্মানটা উদ্ধার করতে পেরেছি তাতেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তা না হলে ব্ল্যাকমেইলিং করে ওরা আমাকে সারা জীবন ধ্বংস করে দিতো টাকার জন্য। আমি জমি কেনার ফাঁদে পা দিয়ে এ ঘটনার শিকার হয়েছি। মণি ও তার সহযোগীরা আমার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন সেট, মানিব্যাগ, ৫ হাজার টাকা ও ব্যাংকের দুটি ক্রেডিট কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে।

ঘটনার পরপরই মণিকে খুলশী থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় সে চিৎকার করে পুলিশ ও সাংবাদিকদের অশ্লীল গালি দিতে থাকে। রাগ ঝাড়তে দেখা যায় পুলিশের উপর।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

‘পুরুষ মানুষ চেনা আছে: লিডাররা আমাকে ছাড়িয়ে নেবে’

আপডেট টাইম : ০১:১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০১৫

ঢাকা: তোরা আমার কিছুই করতে পারবি না। সব পুরুষ মানুষ আমার চেনা আছে। সুযোগ পেলেই তারা বিছানায় যেতে চায়। আমাকে ছাড়িয়ে নিতে লিডারদের খবর দিয়েছি। ওরা এসে আমাকে গাড়িতে করে নিয়ে যাবে।

ব্ল্যাকমেইলার সুন্দরী মনিকে আটকের পর পুলিশ ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে এধরণেরই হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি। এসময় মনি পুলিশের উপরও রাগ ঝাড়তে দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ফোন করে বাসায় ডেকে এনে আপত্তিকর ছবি তুলতো সুন্দরী মনি। তারপর সেই ছবি তুলে মুক্তিপণ আদায় করতো। ব্যবসায়ীরাই তার বড় টার্গেট ছিল।

চট্টগ্রামসহ সারা দেশের অন্তত ১০০ ব্যক্তিকে এভাবে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে মণি। তার সঙ্গে রয়েছে আরও ১০ জনের একটি সিন্ডিকেট। নগরীর হালিশহর ও খুলশী এলাকায় দীর্ঘদিন এমন অপকর্মের ফাঁদ পাতে সে। সর্বশেষ গত রোববার গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে। এরপর বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর কাহিনী।

পুলিশ জানায়, শান্তিবাগ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার সঙ্গে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য রনি ও লিটন নামের আরও দুই যুবক গ্রেপ্তার হন। ২৩ বছরের মণি আক্তার সব সময় তার বয়স দিয়ে পুরুষদের আকর্ষণ করতে চাইতো।

সুযোগ পেলেই বিছানায় নিয়ে যাওয়ার অফার করতো। তবে গত রোববার শাহাদাত নামের এক ব্যক্তিকে কম টাকায় প্লট বিক্রির লোভ দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে কাজল নামের এক ব্যক্তি। সেই কাজলও মণির সঙ্গে সিন্ডিকেটে কাজ করতো। প্রথমে শাহাদাতকে প্রতারক মণির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

মণি কথা বলার ছলে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে শাহাদাতকে কাপড় খুলতে বাধ্য করে। একইসঙ্গে তার সহকর্মীরা মণির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতে থাকে। শাহাদাত এ ঘটনা থেকে বাঁচার আকুতি জানালে তারা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

শাহাদাত বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তারা প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা পাঠায় বিকাশের মাধ্যমে। কিন্তু মণি ও তার চক্রের সদস্যরা তাকে ওই বাড়িতে আটকে রাখে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করার পর পুলিশ তদন্তে নামে। তারা কৌশলে মণির সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধ করার কথা জানায়।

টাকার লোভে রনি নামের প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য বড়পুল এলাকায় তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এলে পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মণির বাসা থেকে শাহাদাতকে উদ্ধার করে মণি ও লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ৩ জন জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে এরশাদ ও মামুনসহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, মণি পুরুষদের ব্ল্যাকমেইলিং করতে ওস্তাদ। সে তার রূপের মোহে অনেক মানুষকে নিঃস্ব করেছে বলে জেনেছি। স্বীকার করেছে টাকার বিনিময়ে ছেলেদের বাসায় ডেকে এনে কাপড়চোপড় খুলে আপত্তিকর ছবি তুলতো।

তিনি আরও বলেন, আমরা ধারণা করছি মণির সঙ্গে আরও অনেক সদস্য কাজ করছে। যেখানে অনেক উঠতি মেয়েও থাকতে পারে। পুরো চট্টগ্রাম শহরে তাদের বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। অপকর্মের কাজে তারা ইয়াবা ও ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করে।

প্রতারণার শিকার শাহাদাত বলেন, মানসম্মানটা উদ্ধার করতে পেরেছি তাতেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তা না হলে ব্ল্যাকমেইলিং করে ওরা আমাকে সারা জীবন ধ্বংস করে দিতো টাকার জন্য। আমি জমি কেনার ফাঁদে পা দিয়ে এ ঘটনার শিকার হয়েছি। মণি ও তার সহযোগীরা আমার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন সেট, মানিব্যাগ, ৫ হাজার টাকা ও ব্যাংকের দুটি ক্রেডিট কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে।

ঘটনার পরপরই মণিকে খুলশী থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় সে চিৎকার করে পুলিশ ও সাংবাদিকদের অশ্লীল গালি দিতে থাকে। রাগ ঝাড়তে দেখা যায় পুলিশের উপর।