পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

হঠাৎ সাংবাদিকদের চমকে দিলেন রাষ্ট্রপতি

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২৮ মিনিট। হঠাৎই সংসদের সার্জেন্ট এট আর্মস সাংবাদিক লাউঞ্জে এসে জানালেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি আসছেন আপনাদের লাউঞ্জে।’ এতে কেউ অবাক না হলেও সতর্ক হলেন সবাই। আর মুহূর্তেই মধ্যেই উপস্থিত হলেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বাজেট বক্তৃতা চলাকালে হঠাৎ করেই সংসদ ভবনের ছয় তলার সাংবাদিক লাউঞ্জে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি সংসদ বিটের সাংবাদিকদের খোঁজ-খবর নেন।

রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেমন চলছে? কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা? লাউঞ্জের এসিটি কাজ করছে কিনা?’ এভাবেই খোঁজ নেন রাষ্ট্রপতি। প্রায় ৭ মিনিটের মতো অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে সাংবাদিক লাউঞ্জ ত্যাগ করেন তিনি।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি একে একে উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের সাথে করমর্দন ও তাদের খোঁজ-খবর নেন। প্রায় পাঁচ মিনিট তিনি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে বসে কুশল বিনিময় করেন।

এদিকে আগে থেকে না জানলেও অনেকটা যেন প্রত্যাশিতই মনে হচ্ছিল সবার কাছে। ধারণাটা এমন যে- বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তো আসবেনই সাংবাদিক লাউঞ্জে। কারণ সাংবাদিকরা তাকে আপন লোক বলেই মনে করে। ফলে রাষ্ট্রপতির এই আগমনী বার্তা যেন আগে থেকেই জানতো সবাই। রাষ্ট্রপতিও তাই বিন্দুমাত্র সংশয় কিংবা ন্যূনতম কোনো প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই চলে আসেন সাংবাদিকদের কাছে। এরপর একান্ত আলাপচারিতায় মেতে উঠলেন কয়েক মিনিট। বোঝা গেল- সাংবাদিক ও সংসদ কোনোটারই মায়া কাটাতে পারেননি রাষ্ট্রপতি। তাই কিছুক্ষণের জন্যে হলেও সেই চিরচেনা সাংবাদিক লাউঞ্জে প্রবেশ করতে ভুলেননি তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বেশ কয়েকটি সংসদ অধিবেশনে এভাবেই সাংবাদিক লাউঞ্জে উপস্থিত হয়ে চমকে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। তবে দেশের ইতিহাসে সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে কোনও রাষ্ট্রপতির পদচারণা তিনিই প্রথম। এর আগে চলতি দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন ২৯ জানুয়ারি এবং গত বছর ৬ জুন অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য চলাকালেও রাত আটটা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে এসে খোঁজ-খবর নেন।

উল্লেখ্য, স্পিকারের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি প্রায়ই সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে আসতেন। সাংবাদিক লাউঞ্জে প্রবেশ করে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অতি পরিচিত মুখগুলোর কাছাকাছি না থাকতে পারার কষ্টের কথা তুলে ধরেন। অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় তিনি জ্যেষ্ঠ ও তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গেও বেশ কয়েক মিনিট আড্ডা দিয়ে সংসদ ভবনের রাষ্ট্রপতির দপ্তরে তিনি ফিরে যান।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

হঠাৎ সাংবাদিকদের চমকে দিলেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট টাইম : ০৮:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০১৫

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২৮ মিনিট। হঠাৎই সংসদের সার্জেন্ট এট আর্মস সাংবাদিক লাউঞ্জে এসে জানালেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি আসছেন আপনাদের লাউঞ্জে।’ এতে কেউ অবাক না হলেও সতর্ক হলেন সবাই। আর মুহূর্তেই মধ্যেই উপস্থিত হলেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বাজেট বক্তৃতা চলাকালে হঠাৎ করেই সংসদ ভবনের ছয় তলার সাংবাদিক লাউঞ্জে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি সংসদ বিটের সাংবাদিকদের খোঁজ-খবর নেন।

রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেমন চলছে? কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা? লাউঞ্জের এসিটি কাজ করছে কিনা?’ এভাবেই খোঁজ নেন রাষ্ট্রপতি। প্রায় ৭ মিনিটের মতো অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে সাংবাদিক লাউঞ্জ ত্যাগ করেন তিনি।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি একে একে উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের সাথে করমর্দন ও তাদের খোঁজ-খবর নেন। প্রায় পাঁচ মিনিট তিনি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে বসে কুশল বিনিময় করেন।

এদিকে আগে থেকে না জানলেও অনেকটা যেন প্রত্যাশিতই মনে হচ্ছিল সবার কাছে। ধারণাটা এমন যে- বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তো আসবেনই সাংবাদিক লাউঞ্জে। কারণ সাংবাদিকরা তাকে আপন লোক বলেই মনে করে। ফলে রাষ্ট্রপতির এই আগমনী বার্তা যেন আগে থেকেই জানতো সবাই। রাষ্ট্রপতিও তাই বিন্দুমাত্র সংশয় কিংবা ন্যূনতম কোনো প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই চলে আসেন সাংবাদিকদের কাছে। এরপর একান্ত আলাপচারিতায় মেতে উঠলেন কয়েক মিনিট। বোঝা গেল- সাংবাদিক ও সংসদ কোনোটারই মায়া কাটাতে পারেননি রাষ্ট্রপতি। তাই কিছুক্ষণের জন্যে হলেও সেই চিরচেনা সাংবাদিক লাউঞ্জে প্রবেশ করতে ভুলেননি তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বেশ কয়েকটি সংসদ অধিবেশনে এভাবেই সাংবাদিক লাউঞ্জে উপস্থিত হয়ে চমকে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। তবে দেশের ইতিহাসে সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে কোনও রাষ্ট্রপতির পদচারণা তিনিই প্রথম। এর আগে চলতি দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন ২৯ জানুয়ারি এবং গত বছর ৬ জুন অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য চলাকালেও রাত আটটা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে এসে খোঁজ-খবর নেন।

উল্লেখ্য, স্পিকারের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি প্রায়ই সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে আসতেন। সাংবাদিক লাউঞ্জে প্রবেশ করে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অতি পরিচিত মুখগুলোর কাছাকাছি না থাকতে পারার কষ্টের কথা তুলে ধরেন। অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় তিনি জ্যেষ্ঠ ও তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গেও বেশ কয়েক মিনিট আড্ডা দিয়ে সংসদ ভবনের রাষ্ট্রপতির দপ্তরে তিনি ফিরে যান।