পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কোকেন পাচারেও বাংলাদেশ রুট ব্যবহার করতে চাইছে ভারতের চোরাচালান চক্র

ঢাকা: প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের বিমান বন্দর গুলোতে স্বর্ণ আটকের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এত স্বর্ণ বাংলাদেশের জন্য পাচার করা হয় না। এর সব চালানই ভারতে পাচার হয়ে যায়। ভারতে স্বর্ণ চোরা চালানের রুট হিসেবে বাংলাদেশের বন্দর গুলোকে ব্যবহার করে সেই দেশের চোরাচালান চক্র। এবার চট্টগ্রাম বন্দরে বলিভিয়া থেকে আসা ভোজ্যতেলের কন্টেইনারে কোকেনের চালানটিও ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গোয়েন্দা নজরদারিতে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। ওই ভোজ্যতেলে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়ার পর আরো দুইজনকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা জানিয়েছে চালানটি ভারতে পাচারের জন্য বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। রাজধানীর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান এ তথ্য জানান। আটকরা হলেন; মোস্তফা কামাল ও তার ভাতিজা আতিকুর রহমান খান।

মঈনুল খান বলেন, আতিকুর উত্তরায় মন্ডল গ্রুপে চাকরি করেন। তাকে সেখান থেকেই সকাল ১০টার দিকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান-১ এর মোড় থেকে ট্রাপে ফেলে মোস্তফাকে আটক করা হয়।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোস্তফার কাজিন মো. বকুল ইংল্যান্ডে থাকেন। বকুলই মোস্তফাকে বলে ওই কন্টেইনারটি ভারতে রি-এক্সপোর্ট করার জন্য। তখন মোস্তফা কন্টেইনারটি ভারতে রি-এক্সপোর্ট করার জন্য আতিকুরের কাছে যান। তবে রি-এক্সপোর্টে সহায়তার জন্য রাজু নামে একজন ভারতীয় নাগরিকের চট্টগ্রামে আসার কথা ছিল। কিন্তু যেদিন রাজু আসবে সেদিন আমরা অপারেশন চালানোয়, সে আর আসেনি। আটক দুইজনই টাকার বিনিময়ে এ কাজ করতে চেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে।

তিনি আরও বলেন, বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে তরলের নমুনা পরীক্ষায় বলিভিয়া থেকে আসা একটি ভোজ্যতেলের কন্টেইনারে কোকেনের অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি যে কি পরিমাণ কোকেন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে কন্টেইনারে থাকা ৯৬ নম্বর ড্রামের ১৮৫ কেজি ভোজ্যতেলের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তরল কোকেন। তবে কোকেনের প্রকৃত পরিমাণ বের করতে হলে ৫০ মিলিগ্রাম কোকেন প্রয়োজন। যার ঘনত্বের সঙ্গে তুলনা করে ড্রামে তেলের কোকেনের পরিমাণ বের করা সম্ভব।

ড. মঈনুল আরও বলেন, ড্রামে তেলের কোকেনের পরিমাণ বের করার জন্য আমরা এনবিআর এর মাধ্যমে ইউএনওডিসির আঞ্চলিক কার্যালয় ভারতে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। ইউএনওডিসি থেকে একটি দল এসে তেলে কোকেনের নমুনা সংগ্রহ করবে এবং তারা তা পরীক্ষা করে কোকেনের কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটি সম্পর্কে আমাদের জানাবে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ড্রাগ ডিলারদের হাত রয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ড্রাগ ডিলারদের এজেন্টদের অনেকের নাম জানা গিয়েছে। তাদের যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

কোকেন পাচারেও বাংলাদেশ রুট ব্যবহার করতে চাইছে ভারতের চোরাচালান চক্র

আপডেট টাইম : ০৩:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০১৫

ঢাকা: প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের বিমান বন্দর গুলোতে স্বর্ণ আটকের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এত স্বর্ণ বাংলাদেশের জন্য পাচার করা হয় না। এর সব চালানই ভারতে পাচার হয়ে যায়। ভারতে স্বর্ণ চোরা চালানের রুট হিসেবে বাংলাদেশের বন্দর গুলোকে ব্যবহার করে সেই দেশের চোরাচালান চক্র। এবার চট্টগ্রাম বন্দরে বলিভিয়া থেকে আসা ভোজ্যতেলের কন্টেইনারে কোকেনের চালানটিও ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গোয়েন্দা নজরদারিতে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। ওই ভোজ্যতেলে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়ার পর আরো দুইজনকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা জানিয়েছে চালানটি ভারতে পাচারের জন্য বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। রাজধানীর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান এ তথ্য জানান। আটকরা হলেন; মোস্তফা কামাল ও তার ভাতিজা আতিকুর রহমান খান।

মঈনুল খান বলেন, আতিকুর উত্তরায় মন্ডল গ্রুপে চাকরি করেন। তাকে সেখান থেকেই সকাল ১০টার দিকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান-১ এর মোড় থেকে ট্রাপে ফেলে মোস্তফাকে আটক করা হয়।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোস্তফার কাজিন মো. বকুল ইংল্যান্ডে থাকেন। বকুলই মোস্তফাকে বলে ওই কন্টেইনারটি ভারতে রি-এক্সপোর্ট করার জন্য। তখন মোস্তফা কন্টেইনারটি ভারতে রি-এক্সপোর্ট করার জন্য আতিকুরের কাছে যান। তবে রি-এক্সপোর্টে সহায়তার জন্য রাজু নামে একজন ভারতীয় নাগরিকের চট্টগ্রামে আসার কথা ছিল। কিন্তু যেদিন রাজু আসবে সেদিন আমরা অপারেশন চালানোয়, সে আর আসেনি। আটক দুইজনই টাকার বিনিময়ে এ কাজ করতে চেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে।

তিনি আরও বলেন, বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে তরলের নমুনা পরীক্ষায় বলিভিয়া থেকে আসা একটি ভোজ্যতেলের কন্টেইনারে কোকেনের অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি যে কি পরিমাণ কোকেন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে কন্টেইনারে থাকা ৯৬ নম্বর ড্রামের ১৮৫ কেজি ভোজ্যতেলের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তরল কোকেন। তবে কোকেনের প্রকৃত পরিমাণ বের করতে হলে ৫০ মিলিগ্রাম কোকেন প্রয়োজন। যার ঘনত্বের সঙ্গে তুলনা করে ড্রামে তেলের কোকেনের পরিমাণ বের করা সম্ভব।

ড. মঈনুল আরও বলেন, ড্রামে তেলের কোকেনের পরিমাণ বের করার জন্য আমরা এনবিআর এর মাধ্যমে ইউএনওডিসির আঞ্চলিক কার্যালয় ভারতে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। ইউএনওডিসি থেকে একটি দল এসে তেলে কোকেনের নমুনা সংগ্রহ করবে এবং তারা তা পরীক্ষা করে কোকেনের কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটি সম্পর্কে আমাদের জানাবে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ড্রাগ ডিলারদের হাত রয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ড্রাগ ডিলারদের এজেন্টদের অনেকের নাম জানা গিয়েছে। তাদের যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।