পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

অবশেষে বাড়ি ফিরেছে সুরাইয়া

ঢাকা: মাগুরায় মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ২৬ দিন হাসপাতালে কাটিয়ে মায়ের কোলে চড়েই বাড়ি ফিরেছে মাগুরার শিশু সুরাইয়া।

বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সুরাইয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা নাজমা বেগমের কোলে তুলে দেন। এ ছাড়া বাবা বাচ্চু ভূঁইয়ার হাতে সুরাইয়ার হাসপাতাল ছাড়ার পত্র তুলে দেন মোহাম্মদ নাসিম।

ছাড়পত্রের আনুষ্ঠানিকতার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু সুরাইয়ার মঙ্গল কামনা করে।

অনুষ্ঠানে শিশুটির মা নাজমা বেগম বলেন, সকল ডাক্তাররা আমাকে সাহায্য করেছেন। তারা আমার বাচ্চাকে ভালোবেসে চিকিৎসা দিয়েছেন। তাই সুরাইয়া আজ সুস্থ। হাসপাতালের সব চিকিৎসক ও নার্সকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখি নাই। কিন্তু তার মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেছি। তার জন্য আমি ও আমার সন্তান সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারছি। তিনি আমার সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাকে কী দিয়ে ধন্যবাদ জানাব বুঝতে পারছি না। আমার মা নেই তিনিই (শেখ হাসিনা) আমার মা।

এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মাগুরা থেকে ঢাকা পর্যন্ত সকল চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুরাইয়া আজ বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।

তিনি বলেন, যে শিশুটির বাঁচার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না, সেই শিশুটি ডাক্তারদের আন্তরিকতা ও মানবিক সেবার জন্য জীবন ফিরে পেয়েছে। সারাবিশ্বের মধ্যে ব্রাজিলে একটি শিশু মায়ের গর্ভে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমাদের ডাক্তাররা সুরাইয়াকে বাঁচিয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ জন্য চিকিৎসক টিমকে ধন্যবাদ। এটা তরুণ ডাক্তারদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শিশুটির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. খালিদ হাসান মোল্লা বলেন, পাঁচ দিন ধরে শিশুটি নিজেই মায়ের দুধ খাচ্ছে, হজম করতে পারছে, শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারছে এবং ক্ষতস্থান শুকিয়ে গেছে। শিশুটির ক্রমান্বয়ে ওজন বাড়ছে। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ১৮শ’ গ্রাম ছিল; আর এখন প্রায় সাড়ে ২১শ’ গ্রাম।

তিনি বলেন, আমরা বোর্ডের ডাক্তাররা ২৬ দিন নিয়মিত এক বা একাধিকবার বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ সকালে আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমাদের মনে হয়েছে বাকি চিকিৎসাটা সে বাড়িতেই নিতে পারবে। তাই আমরা তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৬৫ হাজার টাকা সুরাইয়ার বাবার হাতে তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর সুরাইয়ার জন্ম হয়।

২৬ জুলাই ভোর চারটার দিকে মা-বাবাকে ছাড়াই সুরাইয়াকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। ২৮ জুলাই চিকিৎসকরা সুরাইয়াকে স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটে নিয়ে যান। ২৯ তারিখ হাসপাতালে এসে পৌঁছান মা। জন্মের ২৫ দিন পর প্রথমবারের মতো সুরাইয়াকে তার মায়ের কোলে দেয়া হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

অবশেষে বাড়ি ফিরেছে সুরাইয়া

আপডেট টাইম : ০৬:০৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০১৫

ঢাকা: মাগুরায় মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ২৬ দিন হাসপাতালে কাটিয়ে মায়ের কোলে চড়েই বাড়ি ফিরেছে মাগুরার শিশু সুরাইয়া।

বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সুরাইয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা নাজমা বেগমের কোলে তুলে দেন। এ ছাড়া বাবা বাচ্চু ভূঁইয়ার হাতে সুরাইয়ার হাসপাতাল ছাড়ার পত্র তুলে দেন মোহাম্মদ নাসিম।

ছাড়পত্রের আনুষ্ঠানিকতার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু সুরাইয়ার মঙ্গল কামনা করে।

অনুষ্ঠানে শিশুটির মা নাজমা বেগম বলেন, সকল ডাক্তাররা আমাকে সাহায্য করেছেন। তারা আমার বাচ্চাকে ভালোবেসে চিকিৎসা দিয়েছেন। তাই সুরাইয়া আজ সুস্থ। হাসপাতালের সব চিকিৎসক ও নার্সকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখি নাই। কিন্তু তার মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেছি। তার জন্য আমি ও আমার সন্তান সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারছি। তিনি আমার সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাকে কী দিয়ে ধন্যবাদ জানাব বুঝতে পারছি না। আমার মা নেই তিনিই (শেখ হাসিনা) আমার মা।

এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মাগুরা থেকে ঢাকা পর্যন্ত সকল চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুরাইয়া আজ বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।

তিনি বলেন, যে শিশুটির বাঁচার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না, সেই শিশুটি ডাক্তারদের আন্তরিকতা ও মানবিক সেবার জন্য জীবন ফিরে পেয়েছে। সারাবিশ্বের মধ্যে ব্রাজিলে একটি শিশু মায়ের গর্ভে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমাদের ডাক্তাররা সুরাইয়াকে বাঁচিয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ জন্য চিকিৎসক টিমকে ধন্যবাদ। এটা তরুণ ডাক্তারদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শিশুটির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. খালিদ হাসান মোল্লা বলেন, পাঁচ দিন ধরে শিশুটি নিজেই মায়ের দুধ খাচ্ছে, হজম করতে পারছে, শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারছে এবং ক্ষতস্থান শুকিয়ে গেছে। শিশুটির ক্রমান্বয়ে ওজন বাড়ছে। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ১৮শ’ গ্রাম ছিল; আর এখন প্রায় সাড়ে ২১শ’ গ্রাম।

তিনি বলেন, আমরা বোর্ডের ডাক্তাররা ২৬ দিন নিয়মিত এক বা একাধিকবার বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ সকালে আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমাদের মনে হয়েছে বাকি চিকিৎসাটা সে বাড়িতেই নিতে পারবে। তাই আমরা তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৬৫ হাজার টাকা সুরাইয়ার বাবার হাতে তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর সুরাইয়ার জন্ম হয়।

২৬ জুলাই ভোর চারটার দিকে মা-বাবাকে ছাড়াই সুরাইয়াকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। ২৮ জুলাই চিকিৎসকরা সুরাইয়াকে স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটে নিয়ে যান। ২৯ তারিখ হাসপাতালে এসে পৌঁছান মা। জন্মের ২৫ দিন পর প্রথমবারের মতো সুরাইয়াকে তার মায়ের কোলে দেয়া হয়।