পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ঘুমন্ত শিশু খুন, পরস্পরকে দায়ী করছেন বাবা-মা

বাগেরহাট : বাগেরহাটে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা দেড় বছরের এক কন্যাশিশু খুন হয়েছে। ওই খুনের জন্য পরস্পরকে দায়ী করছেন শিশুটির বাবা-মা। দুজনকেই আটক করেছে পুলিশ।

গত রোববার রাতে উপজেলার চর চিংগুড়ি গ্রামে নিজ ঘরে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটির নাম মিমরা আক্তার। তারা বাবার নাম রিয়াজ শেখ (৩০)। তিনি পেশায় রিকশাভ্যানচালক। মায়ের নাম নাজমা বেগম (২৫)। তিনি গৃহিণী।

কয়েকজন এলাকাবাসী, চিতলমারী থানার পুলিশ ও আটক ওই দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে রিয়াজ ও নাজমার বিয়ে হয়। নাজমাকে বিয়ে করার আগে রিয়াজ আরেকজনকে বিয়ে করেছিলেন। নাজমাকে বিয়ের পরে ফরিদপুরে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। নাজমারও আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে নাজমা রিয়াজের বিরুদ্ধে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলাও করেন। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। এই অবস্থায় চর চিংগুড়ি গ্রামের বাড়িতে তাঁরা বসবাস করলেও একটি মাত্র ঘরে দুজনে আলাদা খাটে ঘুমাতেন। মিমরা আক্তার ছাড়াও মুস্তাইন শেখ নামে তাঁদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে আছে। মুস্তাইন একই গ্রামে তার নানাবাড়িতে থাকে। গত রোববার রাতে রিয়াজ ভ্যান চালিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের খাটে মেয়ে মিমরাকে নিয়ে ঘুমাতে যান নাজমা।

থানা হেফাজতে আটক নাজমা অভিযোগ করেন, তিনি মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে রাতের কোনো এক সময়ে রিয়াজ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাঁকে ফাঁসাতে তাঁর কোলে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। মেয়ের রক্তে শরীর ভিজে গেলে ঘুম থেকে উঠে নাজমা চিৎকার করে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন।

থানা হেফাজতে রিয়াজ দাবি করেন, কারও দৌড়ের শব্দ শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। তিনি মুঠোফোনের আলোতে নাজমাকে দৌড়ে ঘরের বাইরে যেতে দেখেন। দ্রুত উঠে তিনি নাজমার পথ রোধ করেন। এ সময় তিনি নাজমার কাপড়ে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে মেয়েকে বিছানায় রক্তাক্ত পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের ডেকে তোলেন।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে শিশুটির বাবা-মাকে আটক করে। ওই ঘর থেকে রক্তমাখা একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। গতকাল দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। শিশুটির বুকের ডান দিকে ছুরিকাঘাতের দুটি ক্ষত রয়েছে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, রোববার রাত ১টার দিকে ওই বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় তার বাবা-মাকে। তাঁরা দুজনেই সন্দেহভাজন হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করবে। উদ্ধার করা ছুরির বাঁটের হাতের ছাপসহ অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করলেই প্রকৃত হত্যাকারীকে শনাক্ত করা যাবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

ঘুমন্ত শিশু খুন, পরস্পরকে দায়ী করছেন বাবা-মা

আপডেট টাইম : ০৩:৩৫:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৫

বাগেরহাট : বাগেরহাটে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা দেড় বছরের এক কন্যাশিশু খুন হয়েছে। ওই খুনের জন্য পরস্পরকে দায়ী করছেন শিশুটির বাবা-মা। দুজনকেই আটক করেছে পুলিশ।

গত রোববার রাতে উপজেলার চর চিংগুড়ি গ্রামে নিজ ঘরে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটির নাম মিমরা আক্তার। তারা বাবার নাম রিয়াজ শেখ (৩০)। তিনি পেশায় রিকশাভ্যানচালক। মায়ের নাম নাজমা বেগম (২৫)। তিনি গৃহিণী।

কয়েকজন এলাকাবাসী, চিতলমারী থানার পুলিশ ও আটক ওই দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে রিয়াজ ও নাজমার বিয়ে হয়। নাজমাকে বিয়ে করার আগে রিয়াজ আরেকজনকে বিয়ে করেছিলেন। নাজমাকে বিয়ের পরে ফরিদপুরে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। নাজমারও আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে নাজমা রিয়াজের বিরুদ্ধে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলাও করেন। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। এই অবস্থায় চর চিংগুড়ি গ্রামের বাড়িতে তাঁরা বসবাস করলেও একটি মাত্র ঘরে দুজনে আলাদা খাটে ঘুমাতেন। মিমরা আক্তার ছাড়াও মুস্তাইন শেখ নামে তাঁদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে আছে। মুস্তাইন একই গ্রামে তার নানাবাড়িতে থাকে। গত রোববার রাতে রিয়াজ ভ্যান চালিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের খাটে মেয়ে মিমরাকে নিয়ে ঘুমাতে যান নাজমা।

থানা হেফাজতে আটক নাজমা অভিযোগ করেন, তিনি মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে রাতের কোনো এক সময়ে রিয়াজ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাঁকে ফাঁসাতে তাঁর কোলে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। মেয়ের রক্তে শরীর ভিজে গেলে ঘুম থেকে উঠে নাজমা চিৎকার করে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন।

থানা হেফাজতে রিয়াজ দাবি করেন, কারও দৌড়ের শব্দ শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। তিনি মুঠোফোনের আলোতে নাজমাকে দৌড়ে ঘরের বাইরে যেতে দেখেন। দ্রুত উঠে তিনি নাজমার পথ রোধ করেন। এ সময় তিনি নাজমার কাপড়ে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে মেয়েকে বিছানায় রক্তাক্ত পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের ডেকে তোলেন।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে শিশুটির বাবা-মাকে আটক করে। ওই ঘর থেকে রক্তমাখা একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। গতকাল দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। শিশুটির বুকের ডান দিকে ছুরিকাঘাতের দুটি ক্ষত রয়েছে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, রোববার রাত ১টার দিকে ওই বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় তার বাবা-মাকে। তাঁরা দুজনেই সন্দেহভাজন হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করবে। উদ্ধার করা ছুরির বাঁটের হাতের ছাপসহ অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করলেই প্রকৃত হত্যাকারীকে শনাক্ত করা যাবে।