অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গাজীপুরে পানি খেয়ে’ দুইশ শ্রমিক অসুস্থ

গাজীপুর : গাজীপুরে ক্যান্টিনে রাখা পানি খেয়ে একটি পোশাক কারখানার অন্তত দুইশ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।অবশ্য মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে সন্দেহ প্রকাশ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের আগে মালিক পক্ষকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এ অবস্থার সৃষ্টি করা হচ্ছে।

শনিবার গাজীপুরের কোনাবাড়ি শিল্প এলাকায় কেয়া নিট কম্পোজিট নামে পোশাক কারখানার সুয়িং সেকশনে কর্মরত অবস্থায় ওই শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন।

পরে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ দেখিয়ে কাজ ফেলে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. মোবারক হোসেন জানান, বুধবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার ক্যান্টিনের পানি পান করার পর কয়েকশ কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন।

“এর দুইদিন পর শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তারা কাজে যোগ দেন। সকাল ১০টার দিকে সুয়িং সেকশনের কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছু সময়ের মধ্যে অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে।”

পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহযোগিতায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করায়।

কারখানার সুয়িং অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে কারখানার কাজে যোগ দেন তারা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকদের অনেকেই একে একে অসুস্থ হতে থাকেন। এভাবে দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কোনাবাড়ি শরীফ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক খান মো. শরীফ জানান, পৌনে ১০টার দিকে ওই কারখানার শতাধিক অসুস্থ শ্রমিক তার হাসপাতালে আসে। অসুস্থ শ্রমিকদের লক্ষণ দেখে ‘মাস হিস্টেরিয়া’ বলে তাদের মনে হয়েছে।

এদিকে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেক পাঠান দাবি করেন, “ঈদের আগে কর্তৃপক্ষকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলাতে একটি চক্র শ্রমিকদের ব্যবহার করছে। সকালে কার্ড পাঞ্চ করে ভেতরে ঢোকে। পরে অসুস্থ না হলেও ১০-১২ জন করে শ্রমিক অসুস্থতার ভান করে এবং অন্য শ্রমিকরা কারখানা ছুটি ও বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তৎপরতা চালায়।”

এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে লে-অফ ঘোষণা করা হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেন জানান, ঘটনা তদন্তে জেলা প্রসশাসক এসএম আলমের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি শনিবারই তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপার, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক, সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি এবং কেয়া পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

গাজীপুরে পানি খেয়ে’ দুইশ শ্রমিক অসুস্থ

আপডেট টাইম : ০১:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

গাজীপুর : গাজীপুরে ক্যান্টিনে রাখা পানি খেয়ে একটি পোশাক কারখানার অন্তত দুইশ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।অবশ্য মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে সন্দেহ প্রকাশ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের আগে মালিক পক্ষকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এ অবস্থার সৃষ্টি করা হচ্ছে।

শনিবার গাজীপুরের কোনাবাড়ি শিল্প এলাকায় কেয়া নিট কম্পোজিট নামে পোশাক কারখানার সুয়িং সেকশনে কর্মরত অবস্থায় ওই শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন।

পরে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ দেখিয়ে কাজ ফেলে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. মোবারক হোসেন জানান, বুধবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার ক্যান্টিনের পানি পান করার পর কয়েকশ কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন।

“এর দুইদিন পর শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তারা কাজে যোগ দেন। সকাল ১০টার দিকে সুয়িং সেকশনের কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছু সময়ের মধ্যে অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে।”

পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহযোগিতায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করায়।

কারখানার সুয়িং অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে কারখানার কাজে যোগ দেন তারা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকদের অনেকেই একে একে অসুস্থ হতে থাকেন। এভাবে দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কোনাবাড়ি শরীফ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক খান মো. শরীফ জানান, পৌনে ১০টার দিকে ওই কারখানার শতাধিক অসুস্থ শ্রমিক তার হাসপাতালে আসে। অসুস্থ শ্রমিকদের লক্ষণ দেখে ‘মাস হিস্টেরিয়া’ বলে তাদের মনে হয়েছে।

এদিকে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেক পাঠান দাবি করেন, “ঈদের আগে কর্তৃপক্ষকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলাতে একটি চক্র শ্রমিকদের ব্যবহার করছে। সকালে কার্ড পাঞ্চ করে ভেতরে ঢোকে। পরে অসুস্থ না হলেও ১০-১২ জন করে শ্রমিক অসুস্থতার ভান করে এবং অন্য শ্রমিকরা কারখানা ছুটি ও বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তৎপরতা চালায়।”

এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে লে-অফ ঘোষণা করা হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেন জানান, ঘটনা তদন্তে জেলা প্রসশাসক এসএম আলমের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি শনিবারই তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপার, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক, সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি এবং কেয়া পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক।