পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

যশোরে শিশু হত্যার অভিযোগে মা-বাবা আটক

যশোর : যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়ায় রুকাইয়া আক্তার দিয়া নামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা ও সৎ বাবার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দিয়ার মায়ের নাম আছিয়া বেগম। আর সৎ বাবার নাম সোহান। আছিয়ার দ্বিতীয় স্বামী সোহান। সোহানের সঙ্গে বিয়ের আগে আছিয়া তার নানাবাড়ি বসুন্দিয়া মোড়ে থাকতেন। মাস ছয়েক আগে আছিয়ার সঙ্গে সোহানের বিয়ে হয়। সোহান এর আগে বেশ কয়েকটি বিয়ে করেন। সর্বশেষ আছিয়াকে নিয়ে তিনি জঙ্গলবাঁধাল এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাদের সঙ্গে থাকতো আড়াই বছরের শিশু দিয়া। মঙ্গলবার হঠাৎ ‘দিয়া মারা গেছে’ বলে তারা প্রচার করেন।

এর পর বিকেলে জঙ্গলবাঁধাল থেকে মোটরসাইকেলে করে লাশ বসুন্দিয়া মোড়ে আছিয়ার নানা বাড়িতে নেওয়া হয়। তখন এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। তাদের ধারণা, আছিয়াকে বিয়ে করে সোহান নিজের বাড়িতে উঠতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে একমাত্র বাধা আছিয়ার শিশু সন্তান দিয়া। এই কারণে দিয়াকে কৌশলে হত্যা করে ‘সে মারা গেছে’ বলে প্রচার করা হয়। এই সন্দেহের বশে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আককাছ আলী জানিয়েছেন, সোহান ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মঙ্গলবার সকালে দিয়াকে জুস কিনে দিয়ে সোহান মোটরসাইকেল চালাতে চলে যান। সকালেই ওই জুস খেয়ে দিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তারা হাসপাতাল থেকে লাশ সরাসরি দুপুরে বসুন্দিয়া নিয়ে যায়। লাশ গ্রামে নেওয়া হলে এলাকার লোকজন সন্দেহ করে। এলাকার একাধিক লোক অভিযোগ দেওয়ায় মৃত শিশুর মা আছিয়া ও সৎ বাবা সোহানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

আছিয়ার নানা আলাউদ্দিন সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, বাচ্চাটিকে আছিয়া আর তার স্বামী মিলে হত্যা করেছে। তবে আছিয়া ও সোহান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আছিয়া বলেন, ‘দিয়া আমার মেয়ে। তাকে আমি মেরে ফেলব কেন?’

সোহান বলেন, ‘দিয়া আমার মেয়ে না হলেও তাকে আমি মেয়ের মতোই আদর করি। একটি নিষ্পাপ শিশুকে মেরে ফেলব কেন?’

ওসি বলেন, ‘এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, শ্বাসরোধ করে দিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শিশুটির শরীরে তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ আসায় লাশটি গ্রাম থেকে এনে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বাচ্চাটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। জ্বরের কারণে বাচ্চাটি অজ্ঞান হয়ে গেছিল বলে তাকে বহনকারীরা আমাকে জানিয়েছে।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

যশোরে শিশু হত্যার অভিযোগে মা-বাবা আটক

আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৫

যশোর : যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়ায় রুকাইয়া আক্তার দিয়া নামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা ও সৎ বাবার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দিয়ার মায়ের নাম আছিয়া বেগম। আর সৎ বাবার নাম সোহান। আছিয়ার দ্বিতীয় স্বামী সোহান। সোহানের সঙ্গে বিয়ের আগে আছিয়া তার নানাবাড়ি বসুন্দিয়া মোড়ে থাকতেন। মাস ছয়েক আগে আছিয়ার সঙ্গে সোহানের বিয়ে হয়। সোহান এর আগে বেশ কয়েকটি বিয়ে করেন। সর্বশেষ আছিয়াকে নিয়ে তিনি জঙ্গলবাঁধাল এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাদের সঙ্গে থাকতো আড়াই বছরের শিশু দিয়া। মঙ্গলবার হঠাৎ ‘দিয়া মারা গেছে’ বলে তারা প্রচার করেন।

এর পর বিকেলে জঙ্গলবাঁধাল থেকে মোটরসাইকেলে করে লাশ বসুন্দিয়া মোড়ে আছিয়ার নানা বাড়িতে নেওয়া হয়। তখন এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। তাদের ধারণা, আছিয়াকে বিয়ে করে সোহান নিজের বাড়িতে উঠতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে একমাত্র বাধা আছিয়ার শিশু সন্তান দিয়া। এই কারণে দিয়াকে কৌশলে হত্যা করে ‘সে মারা গেছে’ বলে প্রচার করা হয়। এই সন্দেহের বশে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আককাছ আলী জানিয়েছেন, সোহান ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মঙ্গলবার সকালে দিয়াকে জুস কিনে দিয়ে সোহান মোটরসাইকেল চালাতে চলে যান। সকালেই ওই জুস খেয়ে দিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তারা হাসপাতাল থেকে লাশ সরাসরি দুপুরে বসুন্দিয়া নিয়ে যায়। লাশ গ্রামে নেওয়া হলে এলাকার লোকজন সন্দেহ করে। এলাকার একাধিক লোক অভিযোগ দেওয়ায় মৃত শিশুর মা আছিয়া ও সৎ বাবা সোহানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

আছিয়ার নানা আলাউদ্দিন সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, বাচ্চাটিকে আছিয়া আর তার স্বামী মিলে হত্যা করেছে। তবে আছিয়া ও সোহান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আছিয়া বলেন, ‘দিয়া আমার মেয়ে। তাকে আমি মেরে ফেলব কেন?’

সোহান বলেন, ‘দিয়া আমার মেয়ে না হলেও তাকে আমি মেয়ের মতোই আদর করি। একটি নিষ্পাপ শিশুকে মেরে ফেলব কেন?’

ওসি বলেন, ‘এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, শ্বাসরোধ করে দিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শিশুটির শরীরে তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ আসায় লাশটি গ্রাম থেকে এনে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বাচ্চাটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। জ্বরের কারণে বাচ্চাটি অজ্ঞান হয়ে গেছিল বলে তাকে বহনকারীরা আমাকে জানিয়েছে।’