পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

রাসেলকে আটক করা হয় ১৫ দিন আগে: দাবি মায়ের

ডেস্ক: বাংলাদেশে ইতালীয় নাগরিককে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার ব্যক্তিকে আটক করার পর পুলিশ দাবী করছে, গতকাল ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এদেরকে আটক করা হয়। কিন্তু আটককৃতদের একজনের মা দাবি করছেন, তার ছেলেকে আসলে আটক করা হয় ১৫ দিনেরও বেশি আগে – অক্টোবরের ১০ তারিখে।

আটককৃত চার ব্যক্তির একজন হলেন ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডার বাসিন্দা রাসেল চৌধুরী (৩৩)। পুলিশ বলছে, ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে তাকে গতরাতে আটক করা হয়। কিন্তু তার মা আফরোজা আখতার বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ডিবি পুলিশের লোক বলে পরিচয় দিয়ে তিন-চারজন লোক তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় ১০ই অক্টোবর শনিবার সকাল ১১টায়।

তিনি বলেন, পুলিশ বলছে গতকাল গুলশান থেকে রাসেলকে আটক করেছে, কিন্তু তা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ওই লোকেরা ছিলেন সাদা পোশাকে- তবে একজনের কাছে একটি পিস্তল ছিল বলে তিনি দেখেছেন। তারা কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাননি. শুধু বলেন একটি ‘ইনকোয়ারির’ কাজে তারা রাসেলকে নিয়ে যাচ্ছেন। কি অভিযোগের তদন্ত তা জানতে চাইলেও তারা বলেন নি বলে জানান আফরোজা আখতার।

“তারা ঘরে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালান, এবং তার পর একটি কাগজে রাসেলের বাবা এবং আরেকজনের স্বাক্ষর নিয়ে রাসেলকে নিয়ে যান। তার আগে তারা রাসেলকে প্রশ্ন করেন যে সে ছাত্রদল বা যুবদল করে কিনা। রাসেল তাদের জানায় যে সে কোন দল করে না।”

আফরোজা জানান, ডিবি পুলিশের পরিচয়দানকারীরা একটি টেলিফোন নাম্বার দিয়ে গিয়েছিলেন যাতে ফোন করে প্রথম কয়েকদিন তারা জানতে পারেন যে রাসেল ভালো আছে। তারা ডিবি অফিসেও গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তাদের থানায় জিডি করতে বলা হয়। তবে জিডি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করে নি বলে অভিযোগ করেন আফরোজা আখতার।

পুলিশ আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ইটালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাসেল চৌধুরীসহ চারজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আটক ব্যক্তিরা ভাড়াটে খুনী হিসেবে একজন কথিত ‘বড় ভাইয়ের নির্দেশে’ এই হত্যাকা- চালিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, “আমরা সেই কথিত বড় ভাইকে খুঁজছি। এই বড়ভাই-এর পেছনে মদদদাতা কারা সেটিও আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।”

আটককৃত ‘ভাড়াটে খুনিদের’ সাথে সেই কথিত বড়ভাই হত্যাকাণ্ডের জন্য টাকার বিনিময়ে মৌখিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে অর্ধেক টাকা ‘খুনিদের’ দেয়া হয়েছে। বাকি অর্ধেক পরে দেয়া হবে বলে সেই কথিত বড়ভাই জানিয়েছিলেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, “একজন কথিত বড়ভাই তাদের (আটক ব্যক্তিদের) বলেছে একজন বিদেশীকে খুন করতে হবে।”

তিনি জানান সিসিটিভি’র ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে নিশ্চিতভাবে অপরাধীদের সনাক্ত করা হয়েছে।

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কর্মী তাভেলা সিজারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

রাসেলকে আটক করা হয় ১৫ দিন আগে: দাবি মায়ের

আপডেট টাইম : ০৫:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৫

ডেস্ক: বাংলাদেশে ইতালীয় নাগরিককে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার ব্যক্তিকে আটক করার পর পুলিশ দাবী করছে, গতকাল ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এদেরকে আটক করা হয়। কিন্তু আটককৃতদের একজনের মা দাবি করছেন, তার ছেলেকে আসলে আটক করা হয় ১৫ দিনেরও বেশি আগে – অক্টোবরের ১০ তারিখে।

আটককৃত চার ব্যক্তির একজন হলেন ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডার বাসিন্দা রাসেল চৌধুরী (৩৩)। পুলিশ বলছে, ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে তাকে গতরাতে আটক করা হয়। কিন্তু তার মা আফরোজা আখতার বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ডিবি পুলিশের লোক বলে পরিচয় দিয়ে তিন-চারজন লোক তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় ১০ই অক্টোবর শনিবার সকাল ১১টায়।

তিনি বলেন, পুলিশ বলছে গতকাল গুলশান থেকে রাসেলকে আটক করেছে, কিন্তু তা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ওই লোকেরা ছিলেন সাদা পোশাকে- তবে একজনের কাছে একটি পিস্তল ছিল বলে তিনি দেখেছেন। তারা কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাননি. শুধু বলেন একটি ‘ইনকোয়ারির’ কাজে তারা রাসেলকে নিয়ে যাচ্ছেন। কি অভিযোগের তদন্ত তা জানতে চাইলেও তারা বলেন নি বলে জানান আফরোজা আখতার।

“তারা ঘরে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালান, এবং তার পর একটি কাগজে রাসেলের বাবা এবং আরেকজনের স্বাক্ষর নিয়ে রাসেলকে নিয়ে যান। তার আগে তারা রাসেলকে প্রশ্ন করেন যে সে ছাত্রদল বা যুবদল করে কিনা। রাসেল তাদের জানায় যে সে কোন দল করে না।”

আফরোজা জানান, ডিবি পুলিশের পরিচয়দানকারীরা একটি টেলিফোন নাম্বার দিয়ে গিয়েছিলেন যাতে ফোন করে প্রথম কয়েকদিন তারা জানতে পারেন যে রাসেল ভালো আছে। তারা ডিবি অফিসেও গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তাদের থানায় জিডি করতে বলা হয়। তবে জিডি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করে নি বলে অভিযোগ করেন আফরোজা আখতার।

পুলিশ আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ইটালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাসেল চৌধুরীসহ চারজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আটক ব্যক্তিরা ভাড়াটে খুনী হিসেবে একজন কথিত ‘বড় ভাইয়ের নির্দেশে’ এই হত্যাকা- চালিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, “আমরা সেই কথিত বড় ভাইকে খুঁজছি। এই বড়ভাই-এর পেছনে মদদদাতা কারা সেটিও আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।”

আটককৃত ‘ভাড়াটে খুনিদের’ সাথে সেই কথিত বড়ভাই হত্যাকাণ্ডের জন্য টাকার বিনিময়ে মৌখিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে অর্ধেক টাকা ‘খুনিদের’ দেয়া হয়েছে। বাকি অর্ধেক পরে দেয়া হবে বলে সেই কথিত বড়ভাই জানিয়েছিলেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, “একজন কথিত বড়ভাই তাদের (আটক ব্যক্তিদের) বলেছে একজন বিদেশীকে খুন করতে হবে।”

তিনি জানান সিসিটিভি’র ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে নিশ্চিতভাবে অপরাধীদের সনাক্ত করা হয়েছে।

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কর্মী তাভেলা সিজারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।