পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

জঙ্গিবাদীদের হুমকি নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

নজরুল ইসলাম লিখন : জঙ্গিরা হত্যা ও হুমকির মাধ্যমে সমাজে ক্রমেই ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করতে চাইছে। একের পর এক লেখক, ব্লগার ও প্রকাশকের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছে। প্রগতিশীল শিক্ষক-লেখক-সাহিত্যিকদের অনেককেই ইতিমধ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে। উদ্দেশ্য ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে মুক্তচিন্তার কণ্ঠ রোধ করা। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ হুমকি পেয়েছেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক। অজ্ঞাত নম্বরের টেলিফোন থেকে তাঁকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। শুধু ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান বা গণমাধ্যমকেও নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমে কাজ করা সাংবাদিকরাও পাচ্ছেন এমন হুমকি। অথচ রাষ্ট্র যেন নির্বিকার, যারা হুমকি দিচ্ছে তাদের শনাক্তই করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর এই অক্ষমতা কেন?
অনেক দিন থেকেই দেশে মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীলতা আক্রান্ত হয়ে আসছে। কবি শামসুর রাহমান, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহাসহ আরো অনেকের ওপরই এমন হামলা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস, অধ্যাপক আবু তাহেরসহ অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে। গত আড়াই বছরে প্রাণ দিতে হয়েছে সাতজন ব্লগারকে। সর্বশেষ হত্যা করা হয়েছে লেখক ও প্রকাশক দীপনকে। তাঁদের প্রায় সবাইকে হত্যার আগে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এর আগে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সাংবাদিক-সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবিরসহ অনেককেই এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি হুমকি দেওয়া হয়েছে বিচারপতি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরসহ অনেক আইনজীবীকে। আর কত? বাংলাদেশ ডিজিটাল বিপ্লবের পথে এগিয়ে চলেছে কিন্তু ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এমন অক্ষমতা থাকলে সেই বিপ্লবের সুফল মানুষ কতটা পাবে? ফেসবুকে অহরহ জঙ্গিবাদীরা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যক্তিগত কুৎসা রটাচ্ছে। কেবল সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কারো বিরুদ্ধে কুৎসা রটালে তখন দু-একজনকে ধরতে শোনা যায়। অন্যদের ক্ষেত্রে করা এ ধরনের অপরাধে প্রায় কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না।
প্রগতির শত্রু, মানবতার শত্রু জঙ্গিবাদীরা বরাবরই ভয়ংকর ছিল, এখনো আছে। ১৯৭১ সালে এরা যেমন দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিকদের হত্যা করেছে, এখনো তারা তাই করে চলেছে। এদের থামাতে না পারলে স্বাধীনতা, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার, কোনো কিছুই অর্থবহ হবে না। হাসান আজিজুল হকসহ যাঁদের এরই মধ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তার চেয়েও জরুরি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজ থেকে আগাছা নির্মূল করা

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

জঙ্গিবাদীদের হুমকি নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

আপডেট টাইম : ০৪:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৫

নজরুল ইসলাম লিখন : জঙ্গিরা হত্যা ও হুমকির মাধ্যমে সমাজে ক্রমেই ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করতে চাইছে। একের পর এক লেখক, ব্লগার ও প্রকাশকের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছে। প্রগতিশীল শিক্ষক-লেখক-সাহিত্যিকদের অনেককেই ইতিমধ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে। উদ্দেশ্য ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে মুক্তচিন্তার কণ্ঠ রোধ করা। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ হুমকি পেয়েছেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক। অজ্ঞাত নম্বরের টেলিফোন থেকে তাঁকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। শুধু ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান বা গণমাধ্যমকেও নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমে কাজ করা সাংবাদিকরাও পাচ্ছেন এমন হুমকি। অথচ রাষ্ট্র যেন নির্বিকার, যারা হুমকি দিচ্ছে তাদের শনাক্তই করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর এই অক্ষমতা কেন?
অনেক দিন থেকেই দেশে মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীলতা আক্রান্ত হয়ে আসছে। কবি শামসুর রাহমান, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহাসহ আরো অনেকের ওপরই এমন হামলা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস, অধ্যাপক আবু তাহেরসহ অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে। গত আড়াই বছরে প্রাণ দিতে হয়েছে সাতজন ব্লগারকে। সর্বশেষ হত্যা করা হয়েছে লেখক ও প্রকাশক দীপনকে। তাঁদের প্রায় সবাইকে হত্যার আগে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এর আগে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সাংবাদিক-সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবিরসহ অনেককেই এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি হুমকি দেওয়া হয়েছে বিচারপতি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরসহ অনেক আইনজীবীকে। আর কত? বাংলাদেশ ডিজিটাল বিপ্লবের পথে এগিয়ে চলেছে কিন্তু ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এমন অক্ষমতা থাকলে সেই বিপ্লবের সুফল মানুষ কতটা পাবে? ফেসবুকে অহরহ জঙ্গিবাদীরা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যক্তিগত কুৎসা রটাচ্ছে। কেবল সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কারো বিরুদ্ধে কুৎসা রটালে তখন দু-একজনকে ধরতে শোনা যায়। অন্যদের ক্ষেত্রে করা এ ধরনের অপরাধে প্রায় কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না।
প্রগতির শত্রু, মানবতার শত্রু জঙ্গিবাদীরা বরাবরই ভয়ংকর ছিল, এখনো আছে। ১৯৭১ সালে এরা যেমন দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিকদের হত্যা করেছে, এখনো তারা তাই করে চলেছে। এদের থামাতে না পারলে স্বাধীনতা, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার, কোনো কিছুই অর্থবহ হবে না। হাসান আজিজুল হকসহ যাঁদের এরই মধ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তার চেয়েও জরুরি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজ থেকে আগাছা নির্মূল করা