পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে বিরোধিতা আইনমন্ত্রীর

অবসর গ্রহণের পর বিচারকদের রায় লেখা প্রসঙ্গে আজ সন্ধ্যায় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। এতে অংশ নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের জবাবে সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সংবিধান কোনো আর্টিকেলে লেখা নেই, অবসরের পর রায় লেখা যাবে না। তাই অবসরের পর রায় লেখা অসাংবিধানিক নয়।

এর আগে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন স্বতন্ত্র সংসদ ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। তারপর আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাবেক আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু।

আলোচনার সর্বশেষ বত্তা হিসেবে আইন মন্ত্রী বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যরা সংসদে যা আলোচনা করেছেন তা যথার্থ। আমাদের যে সংবিধান, তার কোনো আর্টিকেলে এই কথা লেখা নেই যে বিচারপতি তার অবসরগ্রহণের পর তিনি রায় লিখতে পারবেন না। সেটাই যদি হয়, তাহেল সেটা অসাংবিধানিক হতে পারে না, আর যা-ই কিছু হোক আন-কনসটিউশনাল নয়, আইনের ভাষায় অসাংবিধানিক নয়। হাইকোর্ট ডিভিশনের যে রায় মাননীয় বিচারপতিরা লেখেন সেটা যতদূর সম্ভব, সেটা এজলাসে বসেই দেয়ার কথা। কিন্তু যদি এমন হয়, মামলা জটের কারণে রায়টা তারা শেষ করতে পারছেন, তাহলে এজলাসের বাইরে রায় লেখার অধিকার তারা রাখেন।

মন্ত্রী বলেন, আপিল বিভাগেও এ কথা লেখা নেই রায় দিতে হবে এজলাসে। আপিল বিভাগে পরিষ্কার করে লেখা আছে রায় দিতে হবে, কোর্টে, সেখানেও কিন্তু কোথায় লেখা নেই অবসরের পর রায় লেখা যাবে না। তাই অবসারের পর রায় লেখা অবৈধ নয়।

মন্ত্রী বলেন, তিনি বিচার বিভাগের প্রধান। তার কিছু সমসা আছে সেটা আমরাও জানি। কোনো বিচারপতি রায় অনেক দেরি করে লেখেন, যদি রায় দেরি করে লেখেন তাহলে জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে। জনগণ চায় তাদের রায় দ্রুত হাতে পেতে।

আমরাও দেখেছি রায় অনেক দেরি করে লেখে হচ্ছে। এটা যদি তিনি দূর করতে চান তাহলে প্রধান বিচারপতি একটা প্রাকটিস ডাইরেকশন দিতে পারেন, সেই প্রাকটিস ডাইরেকশনে উল্লেখ করতে পারেন অবসরে যাওয়ার তিন মাস বা চার মাস পর বা একটা টাইম ফ্রেম দিতে পারেন, যে এরমধ্যে লিখতে হবে। এটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু দুঃখের কথা হচ্ছে প্রধান বিচারপতির কথা বলার পর অনেক কথাই অনেকে বলেন, আমাদের জনগণকে যারা বাসের মধ্যে পেট্রোল বোমা মেরে মেরে ফেলে, তারা এই কথাটা লুফে নেন।

তারা বলেন, সকল কাজকর্ম যা হয়েছে রায় যা লেখা হয়েছে তা অসাংবিধানিক। আমি তাদের আবার সংবিধান পড়তে বলবো, তাদের সংবিধান পড়তে হবে। কনসটিটিউশন ইজ নট অনলি সিআইওএনএসটিআইওন। ইট হ্যাভ গট সামথিং এলস…। ইট হ্যাজ ভেরি ভেরি ক্লিয়ার। তাই আমাদের পশ্চাদে যা হয়েছে তাতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পশ্চাতে যেতে কোনভাবেই গ্রহণ করা হবে না, সামনের দিকে যেতে যদি প্রধান বিচারপতির কোনো পরামর্শ থাকে তাহলে আমরা সেদিকেই যাবো। আমরা আর পশ্চাতে ফিরে যাব না। তার আগে ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, সুরঞ্জিন সেন গুপ্ত ও আব্দুল মতিন খসরু প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে বিরোধিতা আইনমন্ত্রীর

আপডেট টাইম : ০৩:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০১৬

অবসর গ্রহণের পর বিচারকদের রায় লেখা প্রসঙ্গে আজ সন্ধ্যায় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। এতে অংশ নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের জবাবে সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সংবিধান কোনো আর্টিকেলে লেখা নেই, অবসরের পর রায় লেখা যাবে না। তাই অবসরের পর রায় লেখা অসাংবিধানিক নয়।

এর আগে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন স্বতন্ত্র সংসদ ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। তারপর আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাবেক আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু।

আলোচনার সর্বশেষ বত্তা হিসেবে আইন মন্ত্রী বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যরা সংসদে যা আলোচনা করেছেন তা যথার্থ। আমাদের যে সংবিধান, তার কোনো আর্টিকেলে এই কথা লেখা নেই যে বিচারপতি তার অবসরগ্রহণের পর তিনি রায় লিখতে পারবেন না। সেটাই যদি হয়, তাহেল সেটা অসাংবিধানিক হতে পারে না, আর যা-ই কিছু হোক আন-কনসটিউশনাল নয়, আইনের ভাষায় অসাংবিধানিক নয়। হাইকোর্ট ডিভিশনের যে রায় মাননীয় বিচারপতিরা লেখেন সেটা যতদূর সম্ভব, সেটা এজলাসে বসেই দেয়ার কথা। কিন্তু যদি এমন হয়, মামলা জটের কারণে রায়টা তারা শেষ করতে পারছেন, তাহলে এজলাসের বাইরে রায় লেখার অধিকার তারা রাখেন।

মন্ত্রী বলেন, আপিল বিভাগেও এ কথা লেখা নেই রায় দিতে হবে এজলাসে। আপিল বিভাগে পরিষ্কার করে লেখা আছে রায় দিতে হবে, কোর্টে, সেখানেও কিন্তু কোথায় লেখা নেই অবসরের পর রায় লেখা যাবে না। তাই অবসারের পর রায় লেখা অবৈধ নয়।

মন্ত্রী বলেন, তিনি বিচার বিভাগের প্রধান। তার কিছু সমসা আছে সেটা আমরাও জানি। কোনো বিচারপতি রায় অনেক দেরি করে লেখেন, যদি রায় দেরি করে লেখেন তাহলে জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে। জনগণ চায় তাদের রায় দ্রুত হাতে পেতে।

আমরাও দেখেছি রায় অনেক দেরি করে লেখে হচ্ছে। এটা যদি তিনি দূর করতে চান তাহলে প্রধান বিচারপতি একটা প্রাকটিস ডাইরেকশন দিতে পারেন, সেই প্রাকটিস ডাইরেকশনে উল্লেখ করতে পারেন অবসরে যাওয়ার তিন মাস বা চার মাস পর বা একটা টাইম ফ্রেম দিতে পারেন, যে এরমধ্যে লিখতে হবে। এটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু দুঃখের কথা হচ্ছে প্রধান বিচারপতির কথা বলার পর অনেক কথাই অনেকে বলেন, আমাদের জনগণকে যারা বাসের মধ্যে পেট্রোল বোমা মেরে মেরে ফেলে, তারা এই কথাটা লুফে নেন।

তারা বলেন, সকল কাজকর্ম যা হয়েছে রায় যা লেখা হয়েছে তা অসাংবিধানিক। আমি তাদের আবার সংবিধান পড়তে বলবো, তাদের সংবিধান পড়তে হবে। কনসটিটিউশন ইজ নট অনলি সিআইওএনএসটিআইওন। ইট হ্যাভ গট সামথিং এলস…। ইট হ্যাজ ভেরি ভেরি ক্লিয়ার। তাই আমাদের পশ্চাদে যা হয়েছে তাতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পশ্চাতে যেতে কোনভাবেই গ্রহণ করা হবে না, সামনের দিকে যেতে যদি প্রধান বিচারপতির কোনো পরামর্শ থাকে তাহলে আমরা সেদিকেই যাবো। আমরা আর পশ্চাতে ফিরে যাব না। তার আগে ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, সুরঞ্জিন সেন গুপ্ত ও আব্দুল মতিন খসরু প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।