অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

শিশুটিকে হত্যা করেন মা, সহায়তা করেন বাবা!

পিএনএস ডেস্ক : নীলফামারীর ডিমলায় চার বছরের শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের দুই দিন পর গতকাল শনিবার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিলেন শিশুটির মা মতিজান বেগম (৪৮)। হত্যার কথা জানার পর মতিজানকে সহায়তা করায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুটির বাবা ইনছান আলীকে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন একটি বাঁশঝাড় থেকে শিশু সুখমনির (৪) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুখমনির বাবা ইনছান আলী বাদী হয়ে ডিমলা থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা মতিজানের ওপর পুলিশের সন্দেহ হলে শুক্রবার রাতে তাঁকে (মতিজান) আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মতিজান হত্যার দায় স্বীকার করেন। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাঁর বাড়ি থেকে শিশুর গলাকাটায় ব্যবহৃত কাঁচি ও দা রক্তমাখা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শনিবার বিকেলে নীলফামারী বিচারিক হাকিমের আদালতে হত্যার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন মতিজান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিমলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, গতকাল শনিবার বিকেলে মতিজান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি অনুযায়ী তাঁর স্বামী মামলার বাদী নিহত সুখমনির বাবা ইনছান আলীকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, ইনছান আলীর সাত মেয়ে এক ছেলে। চার মেয়ের বিয়ে হয়েছে, এক মেয়েকে দত্তক দিয়েছেন। বাড়িতে থাকত দুই মেয়ে এক ছেলে। ছেলেটি সবার ছোট।

নীলফামারী সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফিরোজ কবির বলেন, মতিজান আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি তার একমাত্র ছেলে ইয়াছিন আলীকে (২) ভালোবাসতেন। বুধবার সুখমনি খেলার সময় ইয়াছিন আলীকে মারধর করে। এ সময় ইয়াছিন কান্নাকাটি করতে থাকলে বিরক্ত হয়ে মতিজান নিজের সন্তান সুখমনির গলা টিপে ধরেন। এতে সুখমনির মৃত্যু হয়। পরে তাঁর স্বামী ইনছান আলী বাড়িতে এলে স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করে নিজেদের বাঁচানোর জন্য সুখমনির লাশ গোয়াল ঘরে বস্তা দিয়ে ঢেকে লুকিয়ে রাখেন এবং সুখমনিকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রচার চালান। সেদিনই সন্ধ্যার পর স্বামী স্ত্রী মিলে কাঁচি ও দা দিয়ে সুখমনির গলা কেটে বস্তায় ভরে বাড়ির অদূরে বাঁশ ঝাড়ের নালায় ফেলে দেন। রাত ১০টার দিকে তারা দুজনে সেখানে গিয়ে সুখমনির গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে বলে চিৎকার শুরু করেন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ইনছান আলী বাদী হলেও এখন তিনি ওই মামলার আসামিও হয়েছেন। তাদের স্বামী স্ত্রী দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

শিশুটিকে হত্যা করেন মা, সহায়তা করেন বাবা!

আপডেট টাইম : ০৪:৪৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৬

পিএনএস ডেস্ক : নীলফামারীর ডিমলায় চার বছরের শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের দুই দিন পর গতকাল শনিবার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিলেন শিশুটির মা মতিজান বেগম (৪৮)। হত্যার কথা জানার পর মতিজানকে সহায়তা করায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুটির বাবা ইনছান আলীকে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন একটি বাঁশঝাড় থেকে শিশু সুখমনির (৪) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুখমনির বাবা ইনছান আলী বাদী হয়ে ডিমলা থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা মতিজানের ওপর পুলিশের সন্দেহ হলে শুক্রবার রাতে তাঁকে (মতিজান) আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মতিজান হত্যার দায় স্বীকার করেন। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাঁর বাড়ি থেকে শিশুর গলাকাটায় ব্যবহৃত কাঁচি ও দা রক্তমাখা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শনিবার বিকেলে নীলফামারী বিচারিক হাকিমের আদালতে হত্যার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন মতিজান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিমলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, গতকাল শনিবার বিকেলে মতিজান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি অনুযায়ী তাঁর স্বামী মামলার বাদী নিহত সুখমনির বাবা ইনছান আলীকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, ইনছান আলীর সাত মেয়ে এক ছেলে। চার মেয়ের বিয়ে হয়েছে, এক মেয়েকে দত্তক দিয়েছেন। বাড়িতে থাকত দুই মেয়ে এক ছেলে। ছেলেটি সবার ছোট।

নীলফামারী সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফিরোজ কবির বলেন, মতিজান আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি তার একমাত্র ছেলে ইয়াছিন আলীকে (২) ভালোবাসতেন। বুধবার সুখমনি খেলার সময় ইয়াছিন আলীকে মারধর করে। এ সময় ইয়াছিন কান্নাকাটি করতে থাকলে বিরক্ত হয়ে মতিজান নিজের সন্তান সুখমনির গলা টিপে ধরেন। এতে সুখমনির মৃত্যু হয়। পরে তাঁর স্বামী ইনছান আলী বাড়িতে এলে স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করে নিজেদের বাঁচানোর জন্য সুখমনির লাশ গোয়াল ঘরে বস্তা দিয়ে ঢেকে লুকিয়ে রাখেন এবং সুখমনিকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রচার চালান। সেদিনই সন্ধ্যার পর স্বামী স্ত্রী মিলে কাঁচি ও দা দিয়ে সুখমনির গলা কেটে বস্তায় ভরে বাড়ির অদূরে বাঁশ ঝাড়ের নালায় ফেলে দেন। রাত ১০টার দিকে তারা দুজনে সেখানে গিয়ে সুখমনির গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে বলে চিৎকার শুরু করেন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ইনছান আলী বাদী হলেও এখন তিনি ওই মামলার আসামিও হয়েছেন। তাদের স্বামী স্ত্রী দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।