পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

বিএনপির জন্য ‘ট্রাম্পকার্ড’ নাসিক নির্বাচন!

নারায়ণগঞ্জ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বিএনপি। দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ ইস্যুতেই ফের রাজপথ চাঙ্গা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় দুটোতেই লাভ রয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ নির্বাচনকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারে দলটি। ভোট ডাকাতি হলে ওই ইস্যুকেও আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হতে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরিপূর্ণ সুযোগ নিতে চায় বিএনপি। দীর্ঘদিন দলীয় প্রতিকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ধানের শীষ দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করার সুযোগ নিতে চায় তারা। সেই সাথে বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার ব্যাপারেও একটা রোড ম্যাপ তৈরী করতে এই নির্বাচনকে ব্যবহার করতে চাইছে দলটি। ফলে তাদের জন্য নাসিক নির্বাচন এখন ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাসিক নির্বাচনে চাপে থাকবে সরকারী দল। কারন বিএনপি’র এই নির্বাচনে হারানোর কিছু নেই। অতীতের স্মৃতি মনে করে তারা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। আর নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থীকে হারানো কঠিন হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে সিটি মেয়র হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েও যেতে পারেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁন। আর যদি নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে সরকারী দলের প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করা হয়, তবে সেটাকে ‘ইস্যু’ হিসেবে ব্যবহার করে আগামী সংসদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উজ্জিবীত করা যাবে। তাই নাসিক নির্বাচনে নির্ভার বিএনপি এখন শুধু অপেক্ষা করছে ২২ ডিসেম্বরের।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের জন্যেও নাসিক নির্বাচন প্রেস্টিজ ইস্যু। দলটি ক্ষমতাসীন এবং নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী যথেষ্ট জনপ্রিয় নেত্রী। গত নাসিক নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারই দলের প্রার্থী শামীম ওসমানকে প্রায় লক্ষাধীক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তাই দল ও ব্যাক্তি উভয়ের জন্যই নাসিক নির্বাচন অত্যান্ত গুরুত্ব বহন করছে। আর তাই নির্বাচনের গুরুত্ব সম্পর্কে এবং কিভাবে এ নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা যায় সে নিয়ে কৌশল নির্ধারনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা একাধীকবার বৈঠক করেছেন আইভীর সঙ্গে। এই নির্বাচনে পরাজিত হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি। সেই সাথে ব্যাক্তি আইভীর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

বিএনপির জন্য ‘ট্রাম্পকার্ড’ নাসিক নির্বাচন!

আপডেট টাইম : ০৬:২৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৬

নারায়ণগঞ্জ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বিএনপি। দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ ইস্যুতেই ফের রাজপথ চাঙ্গা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় দুটোতেই লাভ রয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ নির্বাচনকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারে দলটি। ভোট ডাকাতি হলে ওই ইস্যুকেও আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হতে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরিপূর্ণ সুযোগ নিতে চায় বিএনপি। দীর্ঘদিন দলীয় প্রতিকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ধানের শীষ দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করার সুযোগ নিতে চায় তারা। সেই সাথে বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার ব্যাপারেও একটা রোড ম্যাপ তৈরী করতে এই নির্বাচনকে ব্যবহার করতে চাইছে দলটি। ফলে তাদের জন্য নাসিক নির্বাচন এখন ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাসিক নির্বাচনে চাপে থাকবে সরকারী দল। কারন বিএনপি’র এই নির্বাচনে হারানোর কিছু নেই। অতীতের স্মৃতি মনে করে তারা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। আর নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থীকে হারানো কঠিন হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে সিটি মেয়র হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েও যেতে পারেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁন। আর যদি নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে সরকারী দলের প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করা হয়, তবে সেটাকে ‘ইস্যু’ হিসেবে ব্যবহার করে আগামী সংসদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উজ্জিবীত করা যাবে। তাই নাসিক নির্বাচনে নির্ভার বিএনপি এখন শুধু অপেক্ষা করছে ২২ ডিসেম্বরের।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের জন্যেও নাসিক নির্বাচন প্রেস্টিজ ইস্যু। দলটি ক্ষমতাসীন এবং নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী যথেষ্ট জনপ্রিয় নেত্রী। গত নাসিক নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারই দলের প্রার্থী শামীম ওসমানকে প্রায় লক্ষাধীক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তাই দল ও ব্যাক্তি উভয়ের জন্যই নাসিক নির্বাচন অত্যান্ত গুরুত্ব বহন করছে। আর তাই নির্বাচনের গুরুত্ব সম্পর্কে এবং কিভাবে এ নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা যায় সে নিয়ে কৌশল নির্ধারনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা একাধীকবার বৈঠক করেছেন আইভীর সঙ্গে। এই নির্বাচনে পরাজিত হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি। সেই সাথে ব্যাক্তি আইভীর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ।