পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গায়ে আগুন দিয়ে পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদ

ডেস্ক: নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই ছয় সদস্যের পরিবারের থরচ চালান সাভারের শামীম সিকদার (৩২)। মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও এক অসুস্থ্য যাত্রীর অনুরোধে তা অমান্য তাকে গন্তব্যে পৌছে দেন। ফেরার পথে অটোরিকশাটি পুলিশ আটক করে।শামীম কাকুতি-মিনতি করে ফেরত চাইলে, তাকে লাঠিপেটা করা হয়। এসময় অটো’র হেডলাইটও ভেঙে ফেলে। ব্যাটারি খুলে নেয়। পরে পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে শামীম গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে পুলিশবক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শামীম ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েঠের। বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল জানান, শামীমের শরীরের আট ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার দুই হাত, মুখমণ্ডল ও বুকের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে শামীম মহাসড়কে খালি রিকশা চালাচ্ছিলেন। পুলিশ এ সময় রিকশাটি জব্দ করে। রিকশাটি ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে শামীম দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘স্যার এই রিকশাডাই আমার একমাত্র সম্বল। অনেক কষ্টে ৬০ হাজার টাকা ঋণ কইরা রিকশাডা লইছি। আমারে মারেন কিন্তু রিকশাডার ব্যাটারিটা খুইলা নিয়েন না। আপনার দুইটা পায়ে পড়ি স্যার।’ তবে পুলিশ সদস্যরা তার আকুতিতে কর্ণপাত না করে রিকশার ব্যাটারি খুলে নেন। এ সময় এক পুলিশ সদস্য শামীমকে লাঠিপেটা করেন। তার রিকশার হেডলাইটও ভেঙে ফেলেন।

বাইপাইলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আমিনুর রহমান জানান, রিকশা ফিরে না পেয়ে শামীম চলে যান। কিছুক্ষণ পর পুলিশবক্সের সামনে এসে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। স্থানীয়রা পানি ঢেলে আগুন নেভান। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ। এ কারণেই পুলিশ রিকশাটি আটক করে। কিন্তু রিকশাচালক নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বললেও খোরশেদ আলম দাবি করেন, ঘটনাটি পুলিশের সামনে ঘটেনি। রিকশাচালক সুযোগ বুঝে এ ঘটনার সৃষ্টি করেছে।

অগ্নিদগ্ধ শামীমের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ভাইজোড়া গ্রামে। তার বাবার নাম শাজাহান সিকদার। তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুরে মান্না ভূঁইয়ার বাড়িতে স্ত্রী ও চার মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

গায়ে আগুন দিয়ে পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদ

আপডেট টাইম : ১১:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুলাই ২০১৭

ডেস্ক: নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই ছয় সদস্যের পরিবারের থরচ চালান সাভারের শামীম সিকদার (৩২)। মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও এক অসুস্থ্য যাত্রীর অনুরোধে তা অমান্য তাকে গন্তব্যে পৌছে দেন। ফেরার পথে অটোরিকশাটি পুলিশ আটক করে।শামীম কাকুতি-মিনতি করে ফেরত চাইলে, তাকে লাঠিপেটা করা হয়। এসময় অটো’র হেডলাইটও ভেঙে ফেলে। ব্যাটারি খুলে নেয়। পরে পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে শামীম গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে পুলিশবক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শামীম ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েঠের। বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল জানান, শামীমের শরীরের আট ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার দুই হাত, মুখমণ্ডল ও বুকের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে শামীম মহাসড়কে খালি রিকশা চালাচ্ছিলেন। পুলিশ এ সময় রিকশাটি জব্দ করে। রিকশাটি ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে শামীম দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘স্যার এই রিকশাডাই আমার একমাত্র সম্বল। অনেক কষ্টে ৬০ হাজার টাকা ঋণ কইরা রিকশাডা লইছি। আমারে মারেন কিন্তু রিকশাডার ব্যাটারিটা খুইলা নিয়েন না। আপনার দুইটা পায়ে পড়ি স্যার।’ তবে পুলিশ সদস্যরা তার আকুতিতে কর্ণপাত না করে রিকশার ব্যাটারি খুলে নেন। এ সময় এক পুলিশ সদস্য শামীমকে লাঠিপেটা করেন। তার রিকশার হেডলাইটও ভেঙে ফেলেন।

বাইপাইলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আমিনুর রহমান জানান, রিকশা ফিরে না পেয়ে শামীম চলে যান। কিছুক্ষণ পর পুলিশবক্সের সামনে এসে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। স্থানীয়রা পানি ঢেলে আগুন নেভান। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ। এ কারণেই পুলিশ রিকশাটি আটক করে। কিন্তু রিকশাচালক নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বললেও খোরশেদ আলম দাবি করেন, ঘটনাটি পুলিশের সামনে ঘটেনি। রিকশাচালক সুযোগ বুঝে এ ঘটনার সৃষ্টি করেছে।

অগ্নিদগ্ধ শামীমের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ভাইজোড়া গ্রামে। তার বাবার নাম শাজাহান সিকদার। তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুরে মান্না ভূঁইয়ার বাড়িতে স্ত্রী ও চার মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকেন।