অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

জেন্ডারসমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ২১ ধাপ পিছিয়েছে ভারত

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জেন্ডারসমতা সূচকে আবারো প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এ তথ্য জানিয়েছে। ডব্লিউইএফ’র সদ্য প্রকাশিত ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০১৬’ অনুযায়ী গতবারের চেয়ে ২৫ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৪৭তম। যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে৷ গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭২তম।

বাংলাদেশের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলো অনেক পিছিয়ে৷ মালদ্বীপ (১০৬), ভারত (১০৮), শ্রীলংকা (১০৯), নেপাল (১১১), ভুটান (১২৪) এবং পাকিস্তান (১৪৩)। ২০০৬ সাল থেকে বৈশ্বিক জেন্ডারসমতা সূচকে প্রকাশ করছে ডব্লিউইএফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। এই সূচকে নারী-পুরুষের বৈষম্য ও বিভিন্ন সময়ে এ বৈষম্য দূরীকরণে দেশগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়৷ স্বাস্থ্য ও গড় আয়ু, শিক্ষার সুযোগ, অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন—মূলত এ চারটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

এবার ১৪৪টি দেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ হয়৷ এ রিপোর্টে বাংলাদেশের দুই ধাপ নীচে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র৷গত বছর দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের তালিকায় ৬৪তম অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। আর ২০১৪ সালে ১৪২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল ৬৮তম অবস্থানে।

এছাড়াও গত ৫০ বছরে সবচেয়ে বেশি সময় নির্বাচিত নারী রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধান থেকেছেন এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের পর ভারত, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, লাইবেরিয়া ও যুক্তরাজ্য রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির রিপোর্টে আরো দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি দেশের সাথে যৌথভাবে শীর্ষ স্থানের রয়েছে বাংলাদেশ।

ডব্লিউইএফ’র রিপোর্টে দেখা যায়, জেন্ডারসমতায় ভারতের অবস্থান ২১ ধাপ নিচে নেমে ১০৮তম দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিতে নারীদের কম অংশগ্রহণ ও নিম্ন মজুরির কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়। গতবছর ভারতের অবস্থান ছিলো ৮৭। ২০০৬ সালে যখন প্রথম এই রিপোর্ট তৈরি করা হয় তখনো দেশটির অবস্থান বর্তমানের চেয়ে ১০ ধাপ উপরে ছিলো।

রিপোর্টে বলা হয়, ভারত তার জেন্ডারসমতা ৬৭% কমাতে পেরেছে। কিন্তু দেশটি তার অনেক প্রতিবেশি বাংলাদেশ (৪৭তম) এমনকি চীন (১০০তম) থেকেও পিছিয়ে আছে।

ভারতের মূল সমস্যা অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও তাদের জন্য সুযোগ। রিপোর্টে বলা হয়, ‘ভারতে কর্মক্ষম নারীদের ৬৬% মজুরি পান না।’

স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকর উপকরণের ক্ষেত্রেও ভারত অনেক পিছিয়ে আছে, এ ক্ষেত্রে দেশটির বৈশ্বিক র্যাং কিং ১৪১- সবচেয়ে নিম্নে অবস্থানকারী দেশটি থেকে মাত্র চার ধাপ উপরে।

ভারতের অবস্থান পিছিয়ে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, আয়ু ও মৌলিক শিক্ষার অভাবকেও দায়ি করা হয়। বৈশ্বিক জেন্ডারসমতা সূচকে এবারো শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড৷ নবম বারের মতো দেশটি এ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড৷ এ তালিকায় জার্মানির অবস্থান ১২তম৷ আর সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে ইয়েমেন৷

রিপোর্টে বলা হয়, গত বছর যে ১৪২টি দেশ এ তালিকায় ছিল, তাদের মধ্যে ৮২টি দেশ সার্বিক বিচারে জেন্ডারসমতার ক্ষেত্রে এগিয়েছে। এছাড়াও, গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি দেশ জেন্ডারসমতার ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য অবস্থানে এসেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪

জেন্ডারসমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ২১ ধাপ পিছিয়েছে ভারত

আপডেট টাইম : ০৫:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০১৭

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জেন্ডারসমতা সূচকে আবারো প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এ তথ্য জানিয়েছে। ডব্লিউইএফ’র সদ্য প্রকাশিত ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০১৬’ অনুযায়ী গতবারের চেয়ে ২৫ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৪৭তম। যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে৷ গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭২তম।

বাংলাদেশের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলো অনেক পিছিয়ে৷ মালদ্বীপ (১০৬), ভারত (১০৮), শ্রীলংকা (১০৯), নেপাল (১১১), ভুটান (১২৪) এবং পাকিস্তান (১৪৩)। ২০০৬ সাল থেকে বৈশ্বিক জেন্ডারসমতা সূচকে প্রকাশ করছে ডব্লিউইএফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। এই সূচকে নারী-পুরুষের বৈষম্য ও বিভিন্ন সময়ে এ বৈষম্য দূরীকরণে দেশগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়৷ স্বাস্থ্য ও গড় আয়ু, শিক্ষার সুযোগ, অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন—মূলত এ চারটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

এবার ১৪৪টি দেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ হয়৷ এ রিপোর্টে বাংলাদেশের দুই ধাপ নীচে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র৷গত বছর দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের তালিকায় ৬৪তম অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। আর ২০১৪ সালে ১৪২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল ৬৮তম অবস্থানে।

এছাড়াও গত ৫০ বছরে সবচেয়ে বেশি সময় নির্বাচিত নারী রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধান থেকেছেন এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের পর ভারত, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, লাইবেরিয়া ও যুক্তরাজ্য রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির রিপোর্টে আরো দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি দেশের সাথে যৌথভাবে শীর্ষ স্থানের রয়েছে বাংলাদেশ।

ডব্লিউইএফ’র রিপোর্টে দেখা যায়, জেন্ডারসমতায় ভারতের অবস্থান ২১ ধাপ নিচে নেমে ১০৮তম দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিতে নারীদের কম অংশগ্রহণ ও নিম্ন মজুরির কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়। গতবছর ভারতের অবস্থান ছিলো ৮৭। ২০০৬ সালে যখন প্রথম এই রিপোর্ট তৈরি করা হয় তখনো দেশটির অবস্থান বর্তমানের চেয়ে ১০ ধাপ উপরে ছিলো।

রিপোর্টে বলা হয়, ভারত তার জেন্ডারসমতা ৬৭% কমাতে পেরেছে। কিন্তু দেশটি তার অনেক প্রতিবেশি বাংলাদেশ (৪৭তম) এমনকি চীন (১০০তম) থেকেও পিছিয়ে আছে।

ভারতের মূল সমস্যা অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও তাদের জন্য সুযোগ। রিপোর্টে বলা হয়, ‘ভারতে কর্মক্ষম নারীদের ৬৬% মজুরি পান না।’

স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকর উপকরণের ক্ষেত্রেও ভারত অনেক পিছিয়ে আছে, এ ক্ষেত্রে দেশটির বৈশ্বিক র্যাং কিং ১৪১- সবচেয়ে নিম্নে অবস্থানকারী দেশটি থেকে মাত্র চার ধাপ উপরে।

ভারতের অবস্থান পিছিয়ে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, আয়ু ও মৌলিক শিক্ষার অভাবকেও দায়ি করা হয়। বৈশ্বিক জেন্ডারসমতা সূচকে এবারো শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড৷ নবম বারের মতো দেশটি এ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড৷ এ তালিকায় জার্মানির অবস্থান ১২তম৷ আর সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে ইয়েমেন৷

রিপোর্টে বলা হয়, গত বছর যে ১৪২টি দেশ এ তালিকায় ছিল, তাদের মধ্যে ৮২টি দেশ সার্বিক বিচারে জেন্ডারসমতার ক্ষেত্রে এগিয়েছে। এছাড়াও, গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি দেশ জেন্ডারসমতার ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য অবস্থানে এসেছে।