পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ফিরে দেখা ২০১৭: বছরজুড়ে নিখোঁজ ৯১, নিহত ১২৬

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর, : ২০১৭ সালে দেশে ৯১ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন দাবি করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, এদের মধ্যে ২৬ জন ফেরত (২ জনের মরদেহ উদ্ধার, আটজনকে গ্রেপ্তার ও ৭ জন ফেরত) আসলেও বাকিদের এখনো হদিস মেলেনি।

আজ রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবির এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

বিদায়ী বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে ‘চরম উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনার পাশাপাশি এ বছর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিখোঁজ হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকাশক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, পৌর মেয়র- কেউই বাদ পড়েননি গুম ও নিখোঁজের এই তালিকা থেকে। এছাড়া আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় বছরজুড়ে অব্যাহত ছিল রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর ক্রসফায়ার, গুলি বিনিময় ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।’

এই এক বছরে যে ৯১ জন গুম হয়েছে তাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ৬০ জনকে তুলে নেয়া হয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে দুইজনের, ফেরত আসেনি ৪৩ জন।

আর ৩১ জনের অন্তর্ধানের বিষয়ে কোনো তথ্য বা অভিযোগ নেই। এদের মধ্যে নয় জন ফেরত এসেছে, ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বছরটিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও বরাবরের মতো উদ্বেগ জানিয়েছে আসক। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময়’ এবং হেফাজতে মোট ১৬২ জন নিহত হন। এর মধ্যে ‘ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ ও গুলিবিনিময়ে’ নিহত হন ১২৬ জন।

এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজ, এ বছর বিভিন শ্রেণি-পেশার ৩১ জন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এদের মধ্যে পরবর্তীতে ৯ জন ফিরে আসে, ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অধিকাংশ গুম ও গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের দাবি- তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। প্রথমে তাদের ধরে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তারা আটক দেখায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ক্রসফায়ার ও গুলিবিনিময়ে ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের কারণে ১২ জন, গ্রেপ্তারের আগে ও পরে গুলিতে ১৮ জন, গ্রেপ্তারের পর আত্মহত্যার শিকার একজন এবং অসুস্থ অবস্থায় ৪ জন, রহস্যজনকভাবে ১ জন মারা যান।

সংবাদ সম্মেলনে শীপা হাফিজ বলেন, ২০১৭ সালে কারা হেফাজতে মারা যান ৬৩ জন, যার মধ্যে হাজতি ৩৩ জন এবং কয়েদি ২০ জন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

ফিরে দেখা ২০১৭: বছরজুড়ে নিখোঁজ ৯১, নিহত ১২৬

আপডেট টাইম : ০৫:১৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর, : ২০১৭ সালে দেশে ৯১ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন দাবি করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, এদের মধ্যে ২৬ জন ফেরত (২ জনের মরদেহ উদ্ধার, আটজনকে গ্রেপ্তার ও ৭ জন ফেরত) আসলেও বাকিদের এখনো হদিস মেলেনি।

আজ রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবির এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

বিদায়ী বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে ‘চরম উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনার পাশাপাশি এ বছর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিখোঁজ হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকাশক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, পৌর মেয়র- কেউই বাদ পড়েননি গুম ও নিখোঁজের এই তালিকা থেকে। এছাড়া আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় বছরজুড়ে অব্যাহত ছিল রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর ক্রসফায়ার, গুলি বিনিময় ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।’

এই এক বছরে যে ৯১ জন গুম হয়েছে তাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ৬০ জনকে তুলে নেয়া হয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে দুইজনের, ফেরত আসেনি ৪৩ জন।

আর ৩১ জনের অন্তর্ধানের বিষয়ে কোনো তথ্য বা অভিযোগ নেই। এদের মধ্যে নয় জন ফেরত এসেছে, ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বছরটিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও বরাবরের মতো উদ্বেগ জানিয়েছে আসক। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময়’ এবং হেফাজতে মোট ১৬২ জন নিহত হন। এর মধ্যে ‘ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ ও গুলিবিনিময়ে’ নিহত হন ১২৬ জন।

এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজ, এ বছর বিভিন শ্রেণি-পেশার ৩১ জন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এদের মধ্যে পরবর্তীতে ৯ জন ফিরে আসে, ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অধিকাংশ গুম ও গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের দাবি- তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। প্রথমে তাদের ধরে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তারা আটক দেখায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ক্রসফায়ার ও গুলিবিনিময়ে ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের কারণে ১২ জন, গ্রেপ্তারের আগে ও পরে গুলিতে ১৮ জন, গ্রেপ্তারের পর আত্মহত্যার শিকার একজন এবং অসুস্থ অবস্থায় ৪ জন, রহস্যজনকভাবে ১ জন মারা যান।

সংবাদ সম্মেলনে শীপা হাফিজ বলেন, ২০১৭ সালে কারা হেফাজতে মারা যান ৬৩ জন, যার মধ্যে হাজতি ৩৩ জন এবং কয়েদি ২০ জন।