অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

‘টেকা দিবি নাকি কাপড় খুইল্যা ড্যান্স দেখামু’

ডেস্ক : মধ্যরাত। দিনাজপুরগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে আমরা আট জন। অন্ধকার কামরায় প্রায় সবাই ঘুমিয়ে। চোখ বন্ধ করে ঝিম মরে আছি নিজেও…হুট করে কামরায় সোরগোল, হাতে তালি , চেঁচামেচি।

চোখ জোড়া বন্ধ রেখেও বুঝতে দেরী হলো না কি হচ্ছে কামরাতে। প্রায় ৬/৭ জন হিজড়া এই মাঝরাত্রিরে শুরু করেছে তাদের চাঁদাবাজি। কানে ভেসে আসছে অশ্লীল কথা, গালাগালি, হুমকি ধামকি…”টেকা দিবি কিনা বল, নইলে কাপড় খুইল্যা ড্যান্স দেখামু।”

কেউ আরেকজন হাত তালি দিতে দিতে কাকে যেন বলছে “সুন্দরী মাইয়া নিয়া অন্ধকারে…(বাকিটা লেখা গেল না)।” ছেলেটি চিৎকার করছে … “ওই চুপ, এ আমার বইন। ধর ট্যাকা নে, যা এখান থেকে…।”

হিজড়াদের আওয়াজ কাছে ঘনিয়ে আসে। আমার পেছনের আসনে বসেছে ছোট দুই ভাই। দুই সিটের ফাঁক গলে পেছনে তাকানোর পর ঘুম ছুটে যায় আমার। টিমের সবচে সুদর্শন দুই ছোটভাইকে তারা টার্গেট করেছে। ঘুমের মধ্যে হাত বোলাচ্ছে তাদের গালে, মাথায় , চুলে। আর সাথে বিশ্রী কথার ফোয়ারা।

ঘুমে ভরা লাল চোখে ওরা কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে আমার দিকে অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে। শেষমেস ওদের উদ্ধারে এগিয়ে যেতে হয় আমাকে। টাকা নিয়ে ফিরে যায় হিজড়ারা…

এ ঘটনা যে একদিন দুদিনের সেটা না। ঘটছে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। প্রতিটি ট্রেনে, বাসে, লঞ্চে, রাস্তায়, বাসাবাড়িতে, পাড়ায়, মহল্লায়… ২৪ ঘণ্টায়। তাদের চাহিদামত টাকা দিলে হয়ত রক্ষা, কিন্তু না দিলে কি হয় সেটা ভুক্তভোগী কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীরাই ভাল জানেন।

হিজড়া নিয়ে হুট করেই আজ এ লেখার কারণ আছে। গত কয়েকদিন আগে আমার অফিসের এক পিয়নের ছেলে হয়েছে। তার ৪ দিন পর কোথেকে যেন একদল হিজড়া তার বাসায় গিয়ে হাজির। তাদের দাবি দশ হাজার। গরীব মানুষ সে, টেনেটুনে কান্নাকাটি করে ৩ হাজারে সারল।

সে বলছিল, টাকা না দিলে হিজড়ারা নাকি তার ছেলে নিয়ে হাঁটা শুরু করবে বলে হুমকি দিয়েছিল।

এ গল্প শেষ না হতেই আসে আরেক গল্প, আরেক কলিগের কাজিনের বিয়েতে ওরা দলপতিসহ হাজির। রীতিমত কনের গাড়ি আটকে দিয়ে তিনলাখ টাকা দাবি। নইলে শতশত মানুষের সামনে কাপড় খুলে নাচের হুমকি, অপমান করার ভয়। শেষমেষ ৫০ হাজারে দফারফা!

এই হিজড়াদের প্রতি শুরুতে মানুষের সহানুভুতি ছিল। কাজ পায়না, ঘরছাড়া, সংসারছাড়া মানুষগুলো খাবে কি, পর্বে কি , এই ভেবে তাদের সাহায্য করত। সেই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে ওরা। দয়া আর মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা নেমে পড়েছে নোংরা ব্ল্যাকমেইলিংয়ে।

সারা দেশের হাজার হাজার হিজড়া যোগ দিয়েছে সে দলে। আর সেই সংখ্যার আধিক্য তাদের লোভ বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। এখন তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তার বাবা মা সেজে বসে থাকা সরকার নির্বিকার!

হিজড়া নিয়ে অনেক টিভি রিপোর্ট হয়েছে, পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে। সে তথ্যগুলোর মধ্যে ভয়ানক তথ্য হলো, জোর করে ধরে নিয়ে মানুষকে হিজড়া বানাচ্ছে তারা। আবার কেউ কেউ খেতে না পেয়ে, পরতে না পেরে লাল টাকা উপার্জনের আশায় স্বেচ্ছায় যোগ দিচ্ছে এদের সাথে… কি ভয়ানক!

শুনেছি, প্রতিটি স্থানীয় প্রশাসন এই হিজড়াদের কাজে বাধা দেয়ার চে সাহায্যই করে বেশি। মাস শেষে চাদাবাজির বিশাল অংকের একটা ভাগ যায় তাদের কাছে। আমাদের শুষে একদিকে লাল হয় হিজড়ারা, অন্যদিকে লাল হয়ে যায় পুলিশ, আমলা কামলা।

এখনই যদি এ সন্ত্রাস বন্ধে কিছু না করা হয়, এই জুলুম যদি বন্ধ না করা হয়, একদিন আসবে , টাকা না দিলে এ হিজড়ারা রাস্তায় ধরে আমার আপনার প্যান্ট, শার্ট, জামা, পাজামা খুলে নিয়ে যাবে।

সেদিন আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না। কিছুই না।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

‘টেকা দিবি নাকি কাপড় খুইল্যা ড্যান্স দেখামু’

আপডেট টাইম : ০১:১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮

ডেস্ক : মধ্যরাত। দিনাজপুরগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে আমরা আট জন। অন্ধকার কামরায় প্রায় সবাই ঘুমিয়ে। চোখ বন্ধ করে ঝিম মরে আছি নিজেও…হুট করে কামরায় সোরগোল, হাতে তালি , চেঁচামেচি।

চোখ জোড়া বন্ধ রেখেও বুঝতে দেরী হলো না কি হচ্ছে কামরাতে। প্রায় ৬/৭ জন হিজড়া এই মাঝরাত্রিরে শুরু করেছে তাদের চাঁদাবাজি। কানে ভেসে আসছে অশ্লীল কথা, গালাগালি, হুমকি ধামকি…”টেকা দিবি কিনা বল, নইলে কাপড় খুইল্যা ড্যান্স দেখামু।”

কেউ আরেকজন হাত তালি দিতে দিতে কাকে যেন বলছে “সুন্দরী মাইয়া নিয়া অন্ধকারে…(বাকিটা লেখা গেল না)।” ছেলেটি চিৎকার করছে … “ওই চুপ, এ আমার বইন। ধর ট্যাকা নে, যা এখান থেকে…।”

হিজড়াদের আওয়াজ কাছে ঘনিয়ে আসে। আমার পেছনের আসনে বসেছে ছোট দুই ভাই। দুই সিটের ফাঁক গলে পেছনে তাকানোর পর ঘুম ছুটে যায় আমার। টিমের সবচে সুদর্শন দুই ছোটভাইকে তারা টার্গেট করেছে। ঘুমের মধ্যে হাত বোলাচ্ছে তাদের গালে, মাথায় , চুলে। আর সাথে বিশ্রী কথার ফোয়ারা।

ঘুমে ভরা লাল চোখে ওরা কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে আমার দিকে অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে। শেষমেস ওদের উদ্ধারে এগিয়ে যেতে হয় আমাকে। টাকা নিয়ে ফিরে যায় হিজড়ারা…

এ ঘটনা যে একদিন দুদিনের সেটা না। ঘটছে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। প্রতিটি ট্রেনে, বাসে, লঞ্চে, রাস্তায়, বাসাবাড়িতে, পাড়ায়, মহল্লায়… ২৪ ঘণ্টায়। তাদের চাহিদামত টাকা দিলে হয়ত রক্ষা, কিন্তু না দিলে কি হয় সেটা ভুক্তভোগী কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীরাই ভাল জানেন।

হিজড়া নিয়ে হুট করেই আজ এ লেখার কারণ আছে। গত কয়েকদিন আগে আমার অফিসের এক পিয়নের ছেলে হয়েছে। তার ৪ দিন পর কোথেকে যেন একদল হিজড়া তার বাসায় গিয়ে হাজির। তাদের দাবি দশ হাজার। গরীব মানুষ সে, টেনেটুনে কান্নাকাটি করে ৩ হাজারে সারল।

সে বলছিল, টাকা না দিলে হিজড়ারা নাকি তার ছেলে নিয়ে হাঁটা শুরু করবে বলে হুমকি দিয়েছিল।

এ গল্প শেষ না হতেই আসে আরেক গল্প, আরেক কলিগের কাজিনের বিয়েতে ওরা দলপতিসহ হাজির। রীতিমত কনের গাড়ি আটকে দিয়ে তিনলাখ টাকা দাবি। নইলে শতশত মানুষের সামনে কাপড় খুলে নাচের হুমকি, অপমান করার ভয়। শেষমেষ ৫০ হাজারে দফারফা!

এই হিজড়াদের প্রতি শুরুতে মানুষের সহানুভুতি ছিল। কাজ পায়না, ঘরছাড়া, সংসারছাড়া মানুষগুলো খাবে কি, পর্বে কি , এই ভেবে তাদের সাহায্য করত। সেই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে ওরা। দয়া আর মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা নেমে পড়েছে নোংরা ব্ল্যাকমেইলিংয়ে।

সারা দেশের হাজার হাজার হিজড়া যোগ দিয়েছে সে দলে। আর সেই সংখ্যার আধিক্য তাদের লোভ বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। এখন তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তার বাবা মা সেজে বসে থাকা সরকার নির্বিকার!

হিজড়া নিয়ে অনেক টিভি রিপোর্ট হয়েছে, পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে। সে তথ্যগুলোর মধ্যে ভয়ানক তথ্য হলো, জোর করে ধরে নিয়ে মানুষকে হিজড়া বানাচ্ছে তারা। আবার কেউ কেউ খেতে না পেয়ে, পরতে না পেরে লাল টাকা উপার্জনের আশায় স্বেচ্ছায় যোগ দিচ্ছে এদের সাথে… কি ভয়ানক!

শুনেছি, প্রতিটি স্থানীয় প্রশাসন এই হিজড়াদের কাজে বাধা দেয়ার চে সাহায্যই করে বেশি। মাস শেষে চাদাবাজির বিশাল অংকের একটা ভাগ যায় তাদের কাছে। আমাদের শুষে একদিকে লাল হয় হিজড়ারা, অন্যদিকে লাল হয়ে যায় পুলিশ, আমলা কামলা।

এখনই যদি এ সন্ত্রাস বন্ধে কিছু না করা হয়, এই জুলুম যদি বন্ধ না করা হয়, একদিন আসবে , টাকা না দিলে এ হিজড়ারা রাস্তায় ধরে আমার আপনার প্যান্ট, শার্ট, জামা, পাজামা খুলে নিয়ে যাবে।

সেদিন আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না। কিছুই না।