অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

কি হলো সেই গুপ্তধনের! বাংলার খবর

ডেস্ক :হঠাৎ করেই চাউড় হয়ে গেল গুপ্তধনের খবর। এক কান দুই কান করে খবরটি জেনে গেল দেশবাসী। অমূল্য এই সম্পদ উদ্ধারে মোতায়েন করা হলো পুলিশ। নেওয়া হলো কড়া নিরাপত্তা। মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন উদ্ধারের চেষ্টাও চলে দুই দিন। কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। এখন চলছে এ নিয়ে প্রযুক্তিগত গবেষণা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে সন্দেহ-সংশয়। অনেকে এটা নিয়ে হাস্যরসও করছেন।

অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে- এটা বাড়ি দখলের কোনো অপচেষ্টা কিনা। আবার কেউ এটিকে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন। দুই পক্ষের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পরিপ্রেক্ষিতে খনন শুরু হলেও স্ক্যানার মেশিনের অজুহাতে তা স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গুপ্তধন খোঁজার দায়ভার নিয়ে থানা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও পাওয়া যায় ভিন্ন বক্তব্য।

বাড়িটির মালিক মনিরুল ইসলাম জানান, গুপ্তধন আছে- এমন কথায় তার বাড়ির সামনে রীতিমতো কয়েকদিন মানুষের ভিড় জমে। এতে তিনি অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতেই তিনি গুপ্তধন উদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে থানায় জিডি করেন।

এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, ‘গুপ্তধন খুঁজতে খনন অভিযানের ডায়েরি থেকে শুরু করে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে আগের ওসির দায়িত্বকালীন। থানা পুলিশ জিডি নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। পরবর্তীতে বাকি সব আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।

এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, ওই বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ আবেদন করেনি। খনন অভিযানের সব আয়োজন করেছিল থানা পুলিশ। তারা শুধু আমাদের কাছে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছিলেন।

তিনি আরও জানান, ভূতত্ত্ব বিভাগ সেই স্থানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। তাদের মতামত সাপেক্ষে আগামী শনি কিংবা রবিবার ফের অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামানের নেতৃত্বে মিরপুরের ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর রোডে দুই কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাড়িতে শুরু হয় গুপ্তধন খোঁজার অভিযান। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তা স্থগিত করা হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের ৫০ গজ পশ্চিমে ওই বাড়ির অবস্থান। বাড়িটি দেখাশোনা করেন শফিকুল ইসলাম ও সুমন নামে দুজন।

সুমন জানান, ২০১০ সালে সেলিম নামে একজনের কাছ থেকে তাদের মালিক মনিরুল ইসলাম বাড়িটি কিনেন। এরপর থেকে তারাই বাড়িটিতে অবস্থান করে দেখাশোনা ও তত্ত্বাবধান করছেন। কিন্তু কখনোই গুপ্তধন থাকার বিষয়টি জানতেন না। হঠাৎ করে তারাও লোকমুখে জানতে পারেন বিষয়টি।

স্থানীয় লন্ড্রি দোকানি রাসেল জানান, গত ৭ বছর ধরে ওই এলাকায় লন্ড্রির ব্যবসা করছেন। তিনিও অভিযানের আগে জানতেন না গুপ্তধন থাকার বিষয়টি। তার মতে, বাড়ির মালিকানা কিংবা দখল নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকতে পারে।

জানা যায়, বাড়িটির মূল মালিক দিলশাদ খানের দূরসম্পর্কের আত্মীয় সৈয়দ আলমের বন্ধু তৈয়ব। তিনি পেশায় ডেভেলপার ব্যবসায়ী। ওই বাড়ির জায়গায় বহুতল ভবন করতে কয়েকদিন আগে অন্য একটি ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন বর্তমান মালিক মনিরুল ইসলাম। এরপরই গুপ্তধনের তথ্য জানিয়ে গত ১৫ জুলাই থানায় জিডি করেন তৈয়ব। পরদিন মনিরুল ইসলামও আরেকটি জিডি করেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

কি হলো সেই গুপ্তধনের! বাংলার খবর

আপডেট টাইম : ১২:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮

ডেস্ক :হঠাৎ করেই চাউড় হয়ে গেল গুপ্তধনের খবর। এক কান দুই কান করে খবরটি জেনে গেল দেশবাসী। অমূল্য এই সম্পদ উদ্ধারে মোতায়েন করা হলো পুলিশ। নেওয়া হলো কড়া নিরাপত্তা। মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন উদ্ধারের চেষ্টাও চলে দুই দিন। কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। এখন চলছে এ নিয়ে প্রযুক্তিগত গবেষণা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে সন্দেহ-সংশয়। অনেকে এটা নিয়ে হাস্যরসও করছেন।

অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে- এটা বাড়ি দখলের কোনো অপচেষ্টা কিনা। আবার কেউ এটিকে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন। দুই পক্ষের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পরিপ্রেক্ষিতে খনন শুরু হলেও স্ক্যানার মেশিনের অজুহাতে তা স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গুপ্তধন খোঁজার দায়ভার নিয়ে থানা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও পাওয়া যায় ভিন্ন বক্তব্য।

বাড়িটির মালিক মনিরুল ইসলাম জানান, গুপ্তধন আছে- এমন কথায় তার বাড়ির সামনে রীতিমতো কয়েকদিন মানুষের ভিড় জমে। এতে তিনি অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতেই তিনি গুপ্তধন উদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে থানায় জিডি করেন।

এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, ‘গুপ্তধন খুঁজতে খনন অভিযানের ডায়েরি থেকে শুরু করে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে আগের ওসির দায়িত্বকালীন। থানা পুলিশ জিডি নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। পরবর্তীতে বাকি সব আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।

এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, ওই বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ আবেদন করেনি। খনন অভিযানের সব আয়োজন করেছিল থানা পুলিশ। তারা শুধু আমাদের কাছে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছিলেন।

তিনি আরও জানান, ভূতত্ত্ব বিভাগ সেই স্থানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। তাদের মতামত সাপেক্ষে আগামী শনি কিংবা রবিবার ফের অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামানের নেতৃত্বে মিরপুরের ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর রোডে দুই কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাড়িতে শুরু হয় গুপ্তধন খোঁজার অভিযান। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তা স্থগিত করা হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের ৫০ গজ পশ্চিমে ওই বাড়ির অবস্থান। বাড়িটি দেখাশোনা করেন শফিকুল ইসলাম ও সুমন নামে দুজন।

সুমন জানান, ২০১০ সালে সেলিম নামে একজনের কাছ থেকে তাদের মালিক মনিরুল ইসলাম বাড়িটি কিনেন। এরপর থেকে তারাই বাড়িটিতে অবস্থান করে দেখাশোনা ও তত্ত্বাবধান করছেন। কিন্তু কখনোই গুপ্তধন থাকার বিষয়টি জানতেন না। হঠাৎ করে তারাও লোকমুখে জানতে পারেন বিষয়টি।

স্থানীয় লন্ড্রি দোকানি রাসেল জানান, গত ৭ বছর ধরে ওই এলাকায় লন্ড্রির ব্যবসা করছেন। তিনিও অভিযানের আগে জানতেন না গুপ্তধন থাকার বিষয়টি। তার মতে, বাড়ির মালিকানা কিংবা দখল নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকতে পারে।

জানা যায়, বাড়িটির মূল মালিক দিলশাদ খানের দূরসম্পর্কের আত্মীয় সৈয়দ আলমের বন্ধু তৈয়ব। তিনি পেশায় ডেভেলপার ব্যবসায়ী। ওই বাড়ির জায়গায় বহুতল ভবন করতে কয়েকদিন আগে অন্য একটি ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন বর্তমান মালিক মনিরুল ইসলাম। এরপরই গুপ্তধনের তথ্য জানিয়ে গত ১৫ জুলাই থানায় জিডি করেন তৈয়ব। পরদিন মনিরুল ইসলামও আরেকটি জিডি করেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন