পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

কারাগারে থেকেও ককটেল হামলা মামলার আসামি মেরাজ

ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন মদন মোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী মো. মেরাজ। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার পরও তিনি মামলার আসামি। পুলিশের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা পুলিশের ওপর ককটেল হামলা চালিয়েছেন।

আর এ নিয়েই হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে সিলেটজুড়ে। একজন কারাবন্দি ব্যক্তি কিভাবে হামলা করতে পারেন? এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশের এ মামলার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই মামলা প্রমাণ করে, নির্বাচনের সময়ে পরিকল্পিতভাবে নানা ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধীপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল নিয়েছে পুলিশ। প্রমাণ হয়, সিটি নির্বাচনের সময়ে দায়ের করা অন্যান্য মামলাগুলোও মিথ্যা, সাজানো।

পুলিশ বলছে, ভুলবশত: হয়েছে। খোঁজ নিয়ে চার্জশিট দেয়ার সময় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেয়া হবে।

বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে পুলিশের ওপর ককটেল হামলার ঘটনায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গত ২৬ জুলাই মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই আবু রায়হান নূর। ওই মামলার এজাহারে ছাত্রদল নেতা কাজী মেরাজ (৩২) এর নাম রয়েছে ১৮ নম্বরে। ওই ছাত্রদল নেতা শিমু হত্যা মামলায় গত ৫ মাস ধরে কারান্তরীণ।

সূত্র জানায়, ১ জানুয়ারি সিলেটে দলীয় কোন্দলে খুন হন মহানগর ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত শিমু। এ মামলায় কাজী মেরাজকে আসামি করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিমু হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে কাজী মেরাজকে কারাগারে পাঠান আদালত। সেই থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার থানার এসআই আবু রায়হান নূর বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়ের করা ওই মামলায় মেরাজ ছাড়াও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- আক্তার রশীদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, তানভীর আহমদ আবির, আজাদ, মির্জা জনি, পারভেজ, বাবলু, শাহিন, আজহার আলী মানিক, হাবিব, খায়রুল, নাজমুল ইসলাম চৌধুরী, আতিফ চৌধুরী, মামুন আহমদ, রুহেল আহমদ, ছাত্রদল নেতা আলী আকবর রাজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্না, এসএম সেফুল, কামুজ্জামান দিপু, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নিয়ামত এলাহী, রিয়াজ উদ্দিন বাদশা, কয়েছ, জাবের, নাজিম উদ্দিন লস্কর, আব্দুস ছামাদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শাকিল মোর্শেদ, আজিজুল হোসেন আজিজ, মুন্না, ফয়েজ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোকন, রজব আলী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইসতিয়াক সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ভিপি মাহবুব, আফছর খান, রাসেল খান, রাজিব খান, শাহ জাহান, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাবিল রাজা চৌধুরী, আব্দুস সামাদ তুহেল, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রকিব চৌধুরী, বাচ্চু মিয়া, মহানগর বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক রেজাউল করিম নাচন, ডিসকো, রাসেদ এবং ফয়েজ আহমদ কয়েছ।

এছাড়া মামলায় আর ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে এসআই আবু রায়হান উল্লেখ করেন, ওইদিন রাত ৯টার দিকে তিনি অফিসিয়াল কাজে মোটরসাইকেলে করে দক্ষিণ সুরমা থানা থেকে ফাঁড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মিনিখল্লা এলাকায় পৌঁছালে ৭০-৮০ জন লোক ধানের শীষের মিছিল নিয়ে এসে তাকে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি পালাতে গেলে হামলাকারীরা তার ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, মেরাজকে মামলার আসামি করায় প্রমাণ করে সব মামলা সাজানো। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল ওয়াহাব মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, তালিকা পেয়ে মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ভুল হয়েছে। সে যদি কারাগারে থাকে, তবে তার নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

কারাগারে থেকেও ককটেল হামলা মামলার আসামি মেরাজ

আপডেট টাইম : ০৭:১০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮

ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন মদন মোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী মো. মেরাজ। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার পরও তিনি মামলার আসামি। পুলিশের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা পুলিশের ওপর ককটেল হামলা চালিয়েছেন।

আর এ নিয়েই হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে সিলেটজুড়ে। একজন কারাবন্দি ব্যক্তি কিভাবে হামলা করতে পারেন? এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশের এ মামলার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই মামলা প্রমাণ করে, নির্বাচনের সময়ে পরিকল্পিতভাবে নানা ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধীপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল নিয়েছে পুলিশ। প্রমাণ হয়, সিটি নির্বাচনের সময়ে দায়ের করা অন্যান্য মামলাগুলোও মিথ্যা, সাজানো।

পুলিশ বলছে, ভুলবশত: হয়েছে। খোঁজ নিয়ে চার্জশিট দেয়ার সময় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেয়া হবে।

বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে পুলিশের ওপর ককটেল হামলার ঘটনায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গত ২৬ জুলাই মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই আবু রায়হান নূর। ওই মামলার এজাহারে ছাত্রদল নেতা কাজী মেরাজ (৩২) এর নাম রয়েছে ১৮ নম্বরে। ওই ছাত্রদল নেতা শিমু হত্যা মামলায় গত ৫ মাস ধরে কারান্তরীণ।

সূত্র জানায়, ১ জানুয়ারি সিলেটে দলীয় কোন্দলে খুন হন মহানগর ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত শিমু। এ মামলায় কাজী মেরাজকে আসামি করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিমু হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে কাজী মেরাজকে কারাগারে পাঠান আদালত। সেই থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার থানার এসআই আবু রায়হান নূর বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়ের করা ওই মামলায় মেরাজ ছাড়াও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- আক্তার রশীদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, তানভীর আহমদ আবির, আজাদ, মির্জা জনি, পারভেজ, বাবলু, শাহিন, আজহার আলী মানিক, হাবিব, খায়রুল, নাজমুল ইসলাম চৌধুরী, আতিফ চৌধুরী, মামুন আহমদ, রুহেল আহমদ, ছাত্রদল নেতা আলী আকবর রাজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্না, এসএম সেফুল, কামুজ্জামান দিপু, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নিয়ামত এলাহী, রিয়াজ উদ্দিন বাদশা, কয়েছ, জাবের, নাজিম উদ্দিন লস্কর, আব্দুস ছামাদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শাকিল মোর্শেদ, আজিজুল হোসেন আজিজ, মুন্না, ফয়েজ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোকন, রজব আলী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইসতিয়াক সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ভিপি মাহবুব, আফছর খান, রাসেল খান, রাজিব খান, শাহ জাহান, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাবিল রাজা চৌধুরী, আব্দুস সামাদ তুহেল, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রকিব চৌধুরী, বাচ্চু মিয়া, মহানগর বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক রেজাউল করিম নাচন, ডিসকো, রাসেদ এবং ফয়েজ আহমদ কয়েছ।

এছাড়া মামলায় আর ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে এসআই আবু রায়হান উল্লেখ করেন, ওইদিন রাত ৯টার দিকে তিনি অফিসিয়াল কাজে মোটরসাইকেলে করে দক্ষিণ সুরমা থানা থেকে ফাঁড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মিনিখল্লা এলাকায় পৌঁছালে ৭০-৮০ জন লোক ধানের শীষের মিছিল নিয়ে এসে তাকে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি পালাতে গেলে হামলাকারীরা তার ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, মেরাজকে মামলার আসামি করায় প্রমাণ করে সব মামলা সাজানো। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল ওয়াহাব মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, তালিকা পেয়ে মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ভুল হয়েছে। সে যদি কারাগারে থাকে, তবে তার নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।