পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দোহারে অবরুদ্ধ সাংবাদিকদের ‘আল্লাহ আল্লাহ বলে’ রাত পার করার পরামর্শ দিলেন এডিশনাল এসপি

ফেসবুক থেকে নেওয়াঃ ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া অন্তত ৪০ জন সাংবাদিকের উপর নজিরবিহীন হামলা হয়েছে। হামলায় গণমাধ্যম কর্মিদের অন্তত বিশটি গাড়ি ভাংচুর হয়েছে, আহত হয়েছেন ১০/১২ জন সাংবাদিক। স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের পরিচালিত এ হামলার সময় শামীম খান নামে যুগান্তরের এক সাংবাদিককেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাত ৪ টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত অপহৃত সাংবাদিককে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। উপরন্তু সেখানে পুনরায় সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় সন্ত্রস্ত অবস্থায় রাত কাটাচ্ছেন সাংবাদিকরা। হোটেল কর্মিরা সারারাতে সাংবাদিকদের কোনো খাবার এমনকি পানি পর্যন্ত সরবরাহ দিতে সাহস পাচ্ছেন না।
হামলায় সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া সাংবাদিকরা জীবন বাঁচাতে বারবার ফোন করেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং দোহার থানার অফিসার ইনচার্জের কোনো সাহায্য পাননি। হামলা ও ভাংচুর শেষে দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর থানার সাব ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলেও অবস্থানরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কোনো উদ্যোগ না নিয়েই দ্রæত স্থান ত্যাগ করেন। পরে ঢাকার এডিশনাল এসপি সেখানে পৌঁছে সাংবাদিকদের ‘আল্লাহ আল্লাহ বলে’ রাতটা পার করার পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। কিন্তু অবরুদ্ধ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা সাংবাদিকদেরর রক্ষায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাও কোনো পদক্ষেপ নেননি। হামলায় আহত সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘গতকাল ভোর থেকে সারাদেশে সেনা টহল শুরু হয়েছে অথচ রাতেই গণমাধ্যম কর্মিদের উপর কয়েক ঘন্টাব্যাপী তান্ডবলীলা চালানোর সাহস পায় কিভাবে? এ ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মনে অজানা আতঙ্কের সৃষ্টি করবে।’
সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক সুশান্ত সিনহা বলেন, যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ক্যাডার অতর্কিত আমাদের হোটেলে হামলা চালায়। তারা সাংবাদিকদের গাড়িগুলো নির্বিচারে ভাংচুর করে এবং অবস্থানকারী সাংবাদিকদের রুমে রুমে তান্ডব চালায়। পানাহাররত সাংবাদিকদের সামনে থেকে খাবার প্লেট, জগ, গøাস পর্যন্ত তুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলা হয়। লাঠিসোটা, রডের প্রহারে সাংবাদিকরা আহত হন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১ আসনে (দোহার-নবাবগঞ্জ) বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার এডভোকেট সালমা ইসলামের প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ফলে এবারও নির্বাচনে এডভোকেট সালমা ইসলাম বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন বলে চাউর আছে। এসব কারণেই সালমা ইসলামের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বারবার বাধা প্রদানসহ হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

দোহারে অবরুদ্ধ সাংবাদিকদের ‘আল্লাহ আল্লাহ বলে’ রাত পার করার পরামর্শ দিলেন এডিশনাল এসপি

আপডেট টাইম : ০৫:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮

ফেসবুক থেকে নেওয়াঃ ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া অন্তত ৪০ জন সাংবাদিকের উপর নজিরবিহীন হামলা হয়েছে। হামলায় গণমাধ্যম কর্মিদের অন্তত বিশটি গাড়ি ভাংচুর হয়েছে, আহত হয়েছেন ১০/১২ জন সাংবাদিক। স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের পরিচালিত এ হামলার সময় শামীম খান নামে যুগান্তরের এক সাংবাদিককেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাত ৪ টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত অপহৃত সাংবাদিককে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। উপরন্তু সেখানে পুনরায় সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় সন্ত্রস্ত অবস্থায় রাত কাটাচ্ছেন সাংবাদিকরা। হোটেল কর্মিরা সারারাতে সাংবাদিকদের কোনো খাবার এমনকি পানি পর্যন্ত সরবরাহ দিতে সাহস পাচ্ছেন না।
হামলায় সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া সাংবাদিকরা জীবন বাঁচাতে বারবার ফোন করেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং দোহার থানার অফিসার ইনচার্জের কোনো সাহায্য পাননি। হামলা ও ভাংচুর শেষে দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর থানার সাব ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলেও অবস্থানরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কোনো উদ্যোগ না নিয়েই দ্রæত স্থান ত্যাগ করেন। পরে ঢাকার এডিশনাল এসপি সেখানে পৌঁছে সাংবাদিকদের ‘আল্লাহ আল্লাহ বলে’ রাতটা পার করার পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। কিন্তু অবরুদ্ধ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা সাংবাদিকদেরর রক্ষায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাও কোনো পদক্ষেপ নেননি। হামলায় আহত সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘গতকাল ভোর থেকে সারাদেশে সেনা টহল শুরু হয়েছে অথচ রাতেই গণমাধ্যম কর্মিদের উপর কয়েক ঘন্টাব্যাপী তান্ডবলীলা চালানোর সাহস পায় কিভাবে? এ ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মনে অজানা আতঙ্কের সৃষ্টি করবে।’
সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক সুশান্ত সিনহা বলেন, যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ক্যাডার অতর্কিত আমাদের হোটেলে হামলা চালায়। তারা সাংবাদিকদের গাড়িগুলো নির্বিচারে ভাংচুর করে এবং অবস্থানকারী সাংবাদিকদের রুমে রুমে তান্ডব চালায়। পানাহাররত সাংবাদিকদের সামনে থেকে খাবার প্লেট, জগ, গøাস পর্যন্ত তুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলা হয়। লাঠিসোটা, রডের প্রহারে সাংবাদিকরা আহত হন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১ আসনে (দোহার-নবাবগঞ্জ) বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার এডভোকেট সালমা ইসলামের প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ফলে এবারও নির্বাচনে এডভোকেট সালমা ইসলাম বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন বলে চাউর আছে। এসব কারণেই সালমা ইসলামের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বারবার বাধা প্রদানসহ হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।