অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বিনা চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, কোন হাসপাতাল রাখেনি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রথমে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তারপর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল সেখান থেকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কিন্তু কোথাও চিকিৎসা পায়নি অন্তঃসত্ত্বা সাজিয়া (২০)। চিকিৎসার অভাবে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে অনাগত সন্তানকে নিয়েইমৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন সাজিয়া।
ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১৩নং ওয়ার্ডের মাসদাইর এলাকার জয়নাল বেপারী সড়কের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের মেয়ে সাজিয়া বেগমের। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো সে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল ভর্তি করতে চায়নি বলেই তার মেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। সাজিয়ার বাবা আব্দুল জলিল জানান, মে মাসের ১৩ তারিখে ছিল সাজিয়ার ডেলিভারির তারিখ। সে ডা.পারুলের চিকিৎসাধীন ছিল।সকালে সাজিয়া পা পিছলে পরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। দুপুর ৩ টার দিকে সাজিয়াকে তার স্বামী মো. সুমন ও পিতা আব্দুল জলিল প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিক, তার পরে খানপুর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল।
সেখানেও কেউ সাজিয়াকে ভর্তি করতে চায়নি। অগত্যা আবারো ফিরে আসে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে। জোড়া পানির ট্যাংকির সামনের এক ক্লিনিকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানেও তার চিকিৎসা দিতে কেউ রাজি হয়নি। পরে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশাতেই সাজিয়ার মারা যায়।
এ সমগ্র ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোরশেদ জানান, বেঁচে থাকার আশায়, নিজের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সব চেষ্টা। এখন তার দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
মহামারি করোনা শুধু নিজেই মানুষ মারছে না,হরন করেছে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত সাধারন রোগীদের প্রাণও। কোথাও রোগী নেয়া হলে করোনাভাইরাসের ভয়ে কেউ ধরেও দেখছে না। এমনকি জীবন রক্ষায় জরুরী ডায়ালাইসিস ও কেমোথেরাপিও পাচ্ছে না কেউ।
তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসকরা যেমন সুরক্ষা ছাড়াই করোনা আক্রান্তদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে। অপর দিকে কিছু ক্ষেত্রে অবহেলাও দেখতে পাচ্ছি ।
দুনিয়ায় আমাদের শেষ ভরসা ও করোনা চিকিৎসায় কর্মরত চিকিৎসকদের স্যালুট জানিয়ে অন্য চিকিৎসক ভাই বোনদের বলতে চাই দয়া করে আপনারাও মানুষের পাশে দাঁড়ান। সাধারণত রোগ বালাইয়ের চিকিৎসা অব্যাহত রাখুন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

বিনা চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, কোন হাসপাতাল রাখেনি

আপডেট টাইম : ০৪:০৬:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার : প্রথমে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তারপর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল সেখান থেকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কিন্তু কোথাও চিকিৎসা পায়নি অন্তঃসত্ত্বা সাজিয়া (২০)। চিকিৎসার অভাবে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে অনাগত সন্তানকে নিয়েইমৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন সাজিয়া।
ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১৩নং ওয়ার্ডের মাসদাইর এলাকার জয়নাল বেপারী সড়কের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের মেয়ে সাজিয়া বেগমের। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো সে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল ভর্তি করতে চায়নি বলেই তার মেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। সাজিয়ার বাবা আব্দুল জলিল জানান, মে মাসের ১৩ তারিখে ছিল সাজিয়ার ডেলিভারির তারিখ। সে ডা.পারুলের চিকিৎসাধীন ছিল।সকালে সাজিয়া পা পিছলে পরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। দুপুর ৩ টার দিকে সাজিয়াকে তার স্বামী মো. সুমন ও পিতা আব্দুল জলিল প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিক, তার পরে খানপুর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল।
সেখানেও কেউ সাজিয়াকে ভর্তি করতে চায়নি। অগত্যা আবারো ফিরে আসে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে। জোড়া পানির ট্যাংকির সামনের এক ক্লিনিকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানেও তার চিকিৎসা দিতে কেউ রাজি হয়নি। পরে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশাতেই সাজিয়ার মারা যায়।
এ সমগ্র ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোরশেদ জানান, বেঁচে থাকার আশায়, নিজের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সব চেষ্টা। এখন তার দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
মহামারি করোনা শুধু নিজেই মানুষ মারছে না,হরন করেছে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত সাধারন রোগীদের প্রাণও। কোথাও রোগী নেয়া হলে করোনাভাইরাসের ভয়ে কেউ ধরেও দেখছে না। এমনকি জীবন রক্ষায় জরুরী ডায়ালাইসিস ও কেমোথেরাপিও পাচ্ছে না কেউ।
তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসকরা যেমন সুরক্ষা ছাড়াই করোনা আক্রান্তদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে। অপর দিকে কিছু ক্ষেত্রে অবহেলাও দেখতে পাচ্ছি ।
দুনিয়ায় আমাদের শেষ ভরসা ও করোনা চিকিৎসায় কর্মরত চিকিৎসকদের স্যালুট জানিয়ে অন্য চিকিৎসক ভাই বোনদের বলতে চাই দয়া করে আপনারাও মানুষের পাশে দাঁড়ান। সাধারণত রোগ বালাইয়ের চিকিৎসা অব্যাহত রাখুন।