পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

সন্তানের সামনে মাকে গণধর্ষণ, ওসি নিলেন ধর্ষণচেষ্টার মামলা!

ডেস্ক : বরগুনার তালতলী উপজেলায় সাত বছরের মেয়ে শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তার মাকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ এপ্রিল উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর ভুক্তভোগী নারী গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু পুলিশ গণধর্ষণের মামলা না নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নিয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ফিরছিলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ওই মা। এ সময় পাথরঘাটা খেয়া পার হয়ে তালতলীর শুভসন্ধ্যা ঘাটে ওঠেন তিনি। সেখান থেকে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাট যাওয়ার জন্য স্থানীয় জহিরুলের মোটরসাইকেলে ওঠেন তিনি। জহিরুল বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মোটরসাইকেলে করে ওই নারীকে নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের গহীন জঙ্গলে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে জহিরুল তার চার বখাটে সহযোগীকে (এমাদুল, নজরুল, সোহাগ, সাইদুল) মুঠোফোনে কল দিয়ে সেখানে নিয়ে আসেন। ওই নারীর সঙ্গে থাকা তার মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মেরে ফেরার ভয় দেখিয়ে সবাই মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এতে ওই নারী জ্ঞান হারালে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই নারীর জ্ঞান ফিরলে মেয়েকেসহ পাশের লোকজনের কাছে আশ্রয় চান। কিন্তু তারা আরেকটি মোটরসাইকেলে করে তাকে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাটে পৌঁছে দেন।

ভুক্তবোগী গৃহবধূ বলেন, ‘মোটরসাইকেলচালক জহিরুলসহ পাঁচজন আমার মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে খুনের ভয় দেখায়। পরে আমাকে বেলা ১১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ধর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে তারা আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। আমার জ্ঞান ফেরার পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অন্য মোটরসাইকেলে নিশানবাড়িয়া এসে খেয়া পার হয়ে বাড়িতে পৌঁছাই।’

ওই নারী আরও বলেন, ‘লোকলজ্জার ভয়ে এ ব্যাপারে আমি কোথাও অভিযোগ করিনি। কিন্তু বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হওয়ায় আমি থানায় এসে বিচার চাইতে বাধ্য হই।’

এ ঘটনায় একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মোটরসাইকেলচালক জহিরুল সকাল ১০টার দিকে ওই নারীকে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে এমাদুল, নজরুল, সোহাগ, সাইদুল ও জঙ্গলের দিকে যান। বিকেল ৪টার দিকে ওই নারী রাস্তায় এসে জনসম্মুখে ঘটনাটি প্রকাশ করলে অন্য মোটরসাইকেল করে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগ দিতে ভুক্তভোগী নিজেই থানায় এসেছেন। তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ভুক্তভোগী মহিলা আমাদের কাছে ধর্ষণচেষ্টার কথা বলেছেন। আমরা সেই মামলা নিয়েছি।’

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সন্তানের সামনে মাকে গণধর্ষণ, ওসি নিলেন ধর্ষণচেষ্টার মামলা!

আপডেট টাইম : ০১:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২০

ডেস্ক : বরগুনার তালতলী উপজেলায় সাত বছরের মেয়ে শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তার মাকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ এপ্রিল উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর ভুক্তভোগী নারী গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু পুলিশ গণধর্ষণের মামলা না নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নিয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ফিরছিলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ওই মা। এ সময় পাথরঘাটা খেয়া পার হয়ে তালতলীর শুভসন্ধ্যা ঘাটে ওঠেন তিনি। সেখান থেকে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাট যাওয়ার জন্য স্থানীয় জহিরুলের মোটরসাইকেলে ওঠেন তিনি। জহিরুল বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মোটরসাইকেলে করে ওই নারীকে নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের গহীন জঙ্গলে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে জহিরুল তার চার বখাটে সহযোগীকে (এমাদুল, নজরুল, সোহাগ, সাইদুল) মুঠোফোনে কল দিয়ে সেখানে নিয়ে আসেন। ওই নারীর সঙ্গে থাকা তার মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মেরে ফেরার ভয় দেখিয়ে সবাই মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এতে ওই নারী জ্ঞান হারালে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই নারীর জ্ঞান ফিরলে মেয়েকেসহ পাশের লোকজনের কাছে আশ্রয় চান। কিন্তু তারা আরেকটি মোটরসাইকেলে করে তাকে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাটে পৌঁছে দেন।

ভুক্তবোগী গৃহবধূ বলেন, ‘মোটরসাইকেলচালক জহিরুলসহ পাঁচজন আমার মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে খুনের ভয় দেখায়। পরে আমাকে বেলা ১১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ধর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে তারা আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। আমার জ্ঞান ফেরার পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অন্য মোটরসাইকেলে নিশানবাড়িয়া এসে খেয়া পার হয়ে বাড়িতে পৌঁছাই।’

ওই নারী আরও বলেন, ‘লোকলজ্জার ভয়ে এ ব্যাপারে আমি কোথাও অভিযোগ করিনি। কিন্তু বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হওয়ায় আমি থানায় এসে বিচার চাইতে বাধ্য হই।’

এ ঘটনায় একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মোটরসাইকেলচালক জহিরুল সকাল ১০টার দিকে ওই নারীকে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে এমাদুল, নজরুল, সোহাগ, সাইদুল ও জঙ্গলের দিকে যান। বিকেল ৪টার দিকে ওই নারী রাস্তায় এসে জনসম্মুখে ঘটনাটি প্রকাশ করলে অন্য মোটরসাইকেল করে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগ দিতে ভুক্তভোগী নিজেই থানায় এসেছেন। তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ভুক্তভোগী মহিলা আমাদের কাছে ধর্ষণচেষ্টার কথা বলেছেন। আমরা সেই মামলা নিয়েছি।’