অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

‘ড. পিয়াস করিমের শূন্যতা পূরণ হবার নয়’ ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান

images_54302আমরা একের পর এক গুণীজনকে হারাচ্ছি। একজন হারানোর শোক না কাটতেই আরেকজন পরপারের যাত্রী হচ্ছেন। এভাবে আমরা অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ, এবিএম মূসা, সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, কবি শামসুর রহমান, কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, তার মা আয়েশা ফয়েজ ও ভাষা সৈনিক মতিনসহ বেশ কয়েকজন গুণীজনকে হারালাম। এবার আমাদের ছেড়ে অসময়েই চলে গেলেন অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম।

এই টেলিভিশন টকশো ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি….. রাজিউন)।

এর আগে সোমবার ভোর ৫টার দিকে পিয়াস করিম অসুস্থ্য হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে সাড়ে ৫টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার ছেলে, স্ত্রী ও মা পাশে ছিলেন। ড. পিয়াস করিম বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে টকশোতে অংশ নেয়ার কারণে পরিচিত মুখ ছিলেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভির পর্দায় যখন দেখলাম ড. পিয়াস করিম আর নেই, তখন নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। কারণ ব্যক্তিগতভাবেও আমার খুব পছন্দের ও কাছের ব্যক্তি ছিলেন তিনি। বিপদের দিনে আমি তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পথ চলতাম। এই তো কদিন আগেও আমি তার কাছে গিয়েছিলাম পরামর্শের জন্য। যতবার তার কাছে যেতাম ততই তার অমায়িক ব্যবহার ও মিষ্টালাপ আপনজন করে নিতো। তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না।

তিনি সর্বদা দেশ, জাতি ও সমাজ নিয়ে ভাবতেন, কথা বলতেন ও লিখতেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখনি এবং বক্তৃতার মাধ্যমে জাতিকে দিয়েছেন অনেক দিক নির্দেশনা। আজীবন তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম করে গেছেন। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সর্বদা সোচ্চার ও এক লড়াকু সৈনিক।

প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই গণমানুষের হৃদয়ের কথাগুলো শোনা যেত ড. পিয়াস করিমের মুখ থেকে। এই সত্য ও তীক্ষè কথা বলার কারণে অনেকবারই তাকে সরকারসহ বিভিন্ন মহলের রোষানলে পড়তে হয়েছে। এরপরও তিনি পিছু হটেননি। সর্বদা সত্য কথা বলে গেছেন।

তিনি যেমন ছিলেন সনামধন্য শিক্ষক, তেমনি বিশিষ্ট সমাজ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানি হিসেবেও অনেক অবদান রেখে গেছেন।

অসময়েই চলে গেলেন অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে তার মতো সাহসী ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষের অভাব জাতি খুবই অনুভব করবে।

তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। কারণ তার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হবার নয়।

তার মৃত্যুতে জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা কোনোভাবেই পুষিয়ে নেবার নয়। তার সব অবদানের কথা জাতি সর্বদা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। সেই সঙ্গে তার জীবন ও কর্ম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় ও পাথেয় হয়ে থাকবে।

সবশেষে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবার-আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে এখানেই শেষ করছি। মহান আল্লাহ তাকে সর্বোচ্চ প্রতিদান দান করুন। আমিন।

E-mail: sarderanis@gmail.com

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

‘ড. পিয়াস করিমের শূন্যতা পূরণ হবার নয়’ ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান

আপডেট টাইম : ০৭:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৪

images_54302আমরা একের পর এক গুণীজনকে হারাচ্ছি। একজন হারানোর শোক না কাটতেই আরেকজন পরপারের যাত্রী হচ্ছেন। এভাবে আমরা অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ, এবিএম মূসা, সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, কবি শামসুর রহমান, কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, তার মা আয়েশা ফয়েজ ও ভাষা সৈনিক মতিনসহ বেশ কয়েকজন গুণীজনকে হারালাম। এবার আমাদের ছেড়ে অসময়েই চলে গেলেন অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম।

এই টেলিভিশন টকশো ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি….. রাজিউন)।

এর আগে সোমবার ভোর ৫টার দিকে পিয়াস করিম অসুস্থ্য হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে সাড়ে ৫টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার ছেলে, স্ত্রী ও মা পাশে ছিলেন। ড. পিয়াস করিম বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে টকশোতে অংশ নেয়ার কারণে পরিচিত মুখ ছিলেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভির পর্দায় যখন দেখলাম ড. পিয়াস করিম আর নেই, তখন নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। কারণ ব্যক্তিগতভাবেও আমার খুব পছন্দের ও কাছের ব্যক্তি ছিলেন তিনি। বিপদের দিনে আমি তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পথ চলতাম। এই তো কদিন আগেও আমি তার কাছে গিয়েছিলাম পরামর্শের জন্য। যতবার তার কাছে যেতাম ততই তার অমায়িক ব্যবহার ও মিষ্টালাপ আপনজন করে নিতো। তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না।

তিনি সর্বদা দেশ, জাতি ও সমাজ নিয়ে ভাবতেন, কথা বলতেন ও লিখতেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখনি এবং বক্তৃতার মাধ্যমে জাতিকে দিয়েছেন অনেক দিক নির্দেশনা। আজীবন তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম করে গেছেন। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সর্বদা সোচ্চার ও এক লড়াকু সৈনিক।

প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই গণমানুষের হৃদয়ের কথাগুলো শোনা যেত ড. পিয়াস করিমের মুখ থেকে। এই সত্য ও তীক্ষè কথা বলার কারণে অনেকবারই তাকে সরকারসহ বিভিন্ন মহলের রোষানলে পড়তে হয়েছে। এরপরও তিনি পিছু হটেননি। সর্বদা সত্য কথা বলে গেছেন।

তিনি যেমন ছিলেন সনামধন্য শিক্ষক, তেমনি বিশিষ্ট সমাজ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানি হিসেবেও অনেক অবদান রেখে গেছেন।

অসময়েই চলে গেলেন অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে তার মতো সাহসী ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষের অভাব জাতি খুবই অনুভব করবে।

তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। কারণ তার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হবার নয়।

তার মৃত্যুতে জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা কোনোভাবেই পুষিয়ে নেবার নয়। তার সব অবদানের কথা জাতি সর্বদা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। সেই সঙ্গে তার জীবন ও কর্ম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় ও পাথেয় হয়ে থাকবে।

সবশেষে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবার-আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে এখানেই শেষ করছি। মহান আল্লাহ তাকে সর্বোচ্চ প্রতিদান দান করুন। আমিন।

E-mail: sarderanis@gmail.com