পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলার নদী ভাঙনের মুখে বসত ভিটা ও মুজিব কেল্লা

মোঃ আঃ রাজ্জাক: লালমনিরহাটে বেশ কয়েকটি স্থানে তিস্তা ও ধরলার ভাঙন দেখা দিয়েছে অনেকের ভিটামাটি, আবাদি জমি, মসজিদ ,মাদ্রাসা ছোট দোকান পাট ও ফলের বাগান চলে গেছে নদীগর্ভে এমনকি ভাঙ্গনের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না আশ্রয়ন প্রকল্পের ভবন গুলো।

এ ছাড়াও, তিস্তায় ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। পাশাপাশি তিস্তাপাড়ে চলছে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন হারানোর কান্না। বাপ দাদার শোষ অবলম্বন টুকু হারিয়ে –

কেউ আশ্রয় নিচ্ছে অন‍্যের জমিতে বা রাস্তার ধারে সেখানেও নেই শেষ মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুর স্থায়ী নিশ্চয়তা,নিদ্রাহীন ও অর্ধাহারে অনাহারে অপরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ে চলছে তাদের দিন এ জেনো চিরস্থায়ী দুঃখ পুরীর রাজ‍্যে ভিটেমাটি হীন নদী ভাঙ্গা কয়েক হাজার লোকের বসবাস!

সরে জমিনে দেখা গেছে— লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর মোগলহাট ইউনিয়নের চড় ফলিমারি ও তিস্তা নদীর চর গোকুন্ডা, গোকুন্ডা, বগুড়াপাড়া, চর খারুয়া ও খুনিয়াগাছ কুরুল সহ আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধরলা নদীর কুটি বারির চড় ও তিস্তার কুটিরপাড়, গোবর্ধন, দক্ষিণ বালাপাড়া, কালীগঞ্জ উপজেলার চর শোলমারী, ভোটমারী, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ী ও পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে চলছে ভাঙন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন এ বছর এখনো তেমন বন্যা পরিস্থিতি দেখা না দিলেও বিভিন্নস্থানে তিস্তায় ও ধরলায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ভাঙন পরিস্থিতি তীব্র হয়েছে। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ফলের বাগান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ দোকান পাট ।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চর ফলিমারীর কৃষক মফিজুর মিয়়া (৩৩) বলেন, ‘ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে চর ফলিমরী এলাকার মানুষের, আমাদের এখানে বসত ভিটা মসজিদ ,মাদ্রাসা দোকান পাট নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেছে এমনকি দুই কোটি টাকার বাজেট এর সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের মুজিব কেল্লাটির কাজ অর্ধেক হতে না হতেই প্রায় ভাঙ্গনের ১০০গজের মধ্যে রয়েছে কিন্তু ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো উদ্যোগ নেই। তিস্তার চড় গোকুন্ডার ও আদিতমারী উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া এলাকার কৃষক রা জানান ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের জমিতে, অনেকে সরকারি রাস্তার উপর। দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাচ্ছে তাদের জীবন। বিশেষ করে
‘তিস্তায় ভাঙনের কারণে বসতভিটা হারানো পরিবারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ‘বেশি ভাঙন-কবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে’ উল্লেখ করে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভাঙন-কবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলার নদী ভাঙনের মুখে বসত ভিটা ও মুজিব কেল্লা

আপডেট টাইম : ০৩:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অগাস্ট ২০২১

মোঃ আঃ রাজ্জাক: লালমনিরহাটে বেশ কয়েকটি স্থানে তিস্তা ও ধরলার ভাঙন দেখা দিয়েছে অনেকের ভিটামাটি, আবাদি জমি, মসজিদ ,মাদ্রাসা ছোট দোকান পাট ও ফলের বাগান চলে গেছে নদীগর্ভে এমনকি ভাঙ্গনের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না আশ্রয়ন প্রকল্পের ভবন গুলো।

এ ছাড়াও, তিস্তায় ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। পাশাপাশি তিস্তাপাড়ে চলছে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন হারানোর কান্না। বাপ দাদার শোষ অবলম্বন টুকু হারিয়ে –

কেউ আশ্রয় নিচ্ছে অন‍্যের জমিতে বা রাস্তার ধারে সেখানেও নেই শেষ মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুর স্থায়ী নিশ্চয়তা,নিদ্রাহীন ও অর্ধাহারে অনাহারে অপরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ে চলছে তাদের দিন এ জেনো চিরস্থায়ী দুঃখ পুরীর রাজ‍্যে ভিটেমাটি হীন নদী ভাঙ্গা কয়েক হাজার লোকের বসবাস!

সরে জমিনে দেখা গেছে— লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর মোগলহাট ইউনিয়নের চড় ফলিমারি ও তিস্তা নদীর চর গোকুন্ডা, গোকুন্ডা, বগুড়াপাড়া, চর খারুয়া ও খুনিয়াগাছ কুরুল সহ আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধরলা নদীর কুটি বারির চড় ও তিস্তার কুটিরপাড়, গোবর্ধন, দক্ষিণ বালাপাড়া, কালীগঞ্জ উপজেলার চর শোলমারী, ভোটমারী, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ী ও পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে চলছে ভাঙন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন এ বছর এখনো তেমন বন্যা পরিস্থিতি দেখা না দিলেও বিভিন্নস্থানে তিস্তায় ও ধরলায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ভাঙন পরিস্থিতি তীব্র হয়েছে। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ফলের বাগান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ দোকান পাট ।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চর ফলিমারীর কৃষক মফিজুর মিয়়া (৩৩) বলেন, ‘ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে চর ফলিমরী এলাকার মানুষের, আমাদের এখানে বসত ভিটা মসজিদ ,মাদ্রাসা দোকান পাট নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেছে এমনকি দুই কোটি টাকার বাজেট এর সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের মুজিব কেল্লাটির কাজ অর্ধেক হতে না হতেই প্রায় ভাঙ্গনের ১০০গজের মধ্যে রয়েছে কিন্তু ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো উদ্যোগ নেই। তিস্তার চড় গোকুন্ডার ও আদিতমারী উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া এলাকার কৃষক রা জানান ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের জমিতে, অনেকে সরকারি রাস্তার উপর। দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাচ্ছে তাদের জীবন। বিশেষ করে
‘তিস্তায় ভাঙনের কারণে বসতভিটা হারানো পরিবারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ‘বেশি ভাঙন-কবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে’ উল্লেখ করে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভাঙন-কবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হবে।