পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

কান্না করায় দুই মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করে আয়া

ডেস্ক: সিলেটে সমাজসেবা অধিদফতরের ছোটমণি নিবাসে মাত্র দুইমাস বয়সী শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই নাবিল আহমেদ নামের ওই শিশুটিকে প্রথমে আছাড় মেরে ও পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার প্রায় ২০ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার তিনি জানান, এ ঘটনায় ছোটমণি নিবাসের আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সিসিটিভির ফুটেজ।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পরিদর্শনে গেলে ছোটমণি নিবাসে একটি শিশুর অপমৃত্যু মামলাটি চোখে পড়ে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত-কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাগবাড়ি এলাকার শিশু নিবাসে যাওয়া হয়। সেখানে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ঘটনায় জড়িত আয়াকে আটক করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে জানা যায়, গত ২২ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে ছোটমণি নিবাসে দুইমাস ১১ দিন বয়সী শিশু নাবিল আহমদ কান্না করতে থাকলে ক্ষিপ্ত হন শিশুটির দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে সজোরে বিছানায় আছাড় দেন। বিছানার স্টিলের রেলিঙয়ে আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। এরপরও থামেনি নির্যাতন। শিশুটির মুখে বালিশচাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন সুলতানা।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে হত্যার পর প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করেন সুলতানা এবং ছোটমণি নিবাসের অন্য কর্মকর্তারা। গত ২৪ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় ছোটমণি নিবাসের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শিশু নাবিলকে দাফন করা হয়।

মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার কারণে ঘটনার কূল-কিনারা করতে পারিনি। ঘটনার ২০ দিনেও মুখ খোলেননি নিবাসের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আয়া বা অন্য কেউ।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি এস এম আবু ফরহাদ বলেন, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা প্রথমে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখানো হলে তিনি চুপ হয়ে যান। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে বলেও জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কান্না করায় দুই মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করে আয়া

আপডেট টাইম : ০৫:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অগাস্ট ২০২১

ডেস্ক: সিলেটে সমাজসেবা অধিদফতরের ছোটমণি নিবাসে মাত্র দুইমাস বয়সী শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই নাবিল আহমেদ নামের ওই শিশুটিকে প্রথমে আছাড় মেরে ও পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার প্রায় ২০ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার তিনি জানান, এ ঘটনায় ছোটমণি নিবাসের আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সিসিটিভির ফুটেজ।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পরিদর্শনে গেলে ছোটমণি নিবাসে একটি শিশুর অপমৃত্যু মামলাটি চোখে পড়ে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত-কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাগবাড়ি এলাকার শিশু নিবাসে যাওয়া হয়। সেখানে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ঘটনায় জড়িত আয়াকে আটক করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে জানা যায়, গত ২২ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে ছোটমণি নিবাসে দুইমাস ১১ দিন বয়সী শিশু নাবিল আহমদ কান্না করতে থাকলে ক্ষিপ্ত হন শিশুটির দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে সজোরে বিছানায় আছাড় দেন। বিছানার স্টিলের রেলিঙয়ে আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। এরপরও থামেনি নির্যাতন। শিশুটির মুখে বালিশচাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন সুলতানা।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে হত্যার পর প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করেন সুলতানা এবং ছোটমণি নিবাসের অন্য কর্মকর্তারা। গত ২৪ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় ছোটমণি নিবাসের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শিশু নাবিলকে দাফন করা হয়।

মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার কারণে ঘটনার কূল-কিনারা করতে পারিনি। ঘটনার ২০ দিনেও মুখ খোলেননি নিবাসের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আয়া বা অন্য কেউ।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি এস এম আবু ফরহাদ বলেন, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা প্রথমে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখানো হলে তিনি চুপ হয়ে যান। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে বলেও জানান তিনি।