অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু Logo গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘুরিয়ে দেখাবেন এমপি রাজিব প্রধান Logo প্রেমের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, বড় পর্দায় আসছে সুমন পলাশের ‘ফিল্টার’ Logo লালমনিরহাট সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক আটক Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১২ গরু ও মোটরসাইকেল জব্দ Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

কান্না করায় দুই মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করে আয়া

ডেস্ক: সিলেটে সমাজসেবা অধিদফতরের ছোটমণি নিবাসে মাত্র দুইমাস বয়সী শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই নাবিল আহমেদ নামের ওই শিশুটিকে প্রথমে আছাড় মেরে ও পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার প্রায় ২০ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার তিনি জানান, এ ঘটনায় ছোটমণি নিবাসের আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সিসিটিভির ফুটেজ।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পরিদর্শনে গেলে ছোটমণি নিবাসে একটি শিশুর অপমৃত্যু মামলাটি চোখে পড়ে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত-কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাগবাড়ি এলাকার শিশু নিবাসে যাওয়া হয়। সেখানে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ঘটনায় জড়িত আয়াকে আটক করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে জানা যায়, গত ২২ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে ছোটমণি নিবাসে দুইমাস ১১ দিন বয়সী শিশু নাবিল আহমদ কান্না করতে থাকলে ক্ষিপ্ত হন শিশুটির দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে সজোরে বিছানায় আছাড় দেন। বিছানার স্টিলের রেলিঙয়ে আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। এরপরও থামেনি নির্যাতন। শিশুটির মুখে বালিশচাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন সুলতানা।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে হত্যার পর প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করেন সুলতানা এবং ছোটমণি নিবাসের অন্য কর্মকর্তারা। গত ২৪ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় ছোটমণি নিবাসের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শিশু নাবিলকে দাফন করা হয়।

মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার কারণে ঘটনার কূল-কিনারা করতে পারিনি। ঘটনার ২০ দিনেও মুখ খোলেননি নিবাসের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আয়া বা অন্য কেউ।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি এস এম আবু ফরহাদ বলেন, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা প্রথমে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখানো হলে তিনি চুপ হয়ে যান। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে বলেও জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

কান্না করায় দুই মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করে আয়া

আপডেট টাইম : ০৫:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অগাস্ট ২০২১

ডেস্ক: সিলেটে সমাজসেবা অধিদফতরের ছোটমণি নিবাসে মাত্র দুইমাস বয়সী শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই নাবিল আহমেদ নামের ওই শিশুটিকে প্রথমে আছাড় মেরে ও পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার প্রায় ২০ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার তিনি জানান, এ ঘটনায় ছোটমণি নিবাসের আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সিসিটিভির ফুটেজ।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পরিদর্শনে গেলে ছোটমণি নিবাসে একটি শিশুর অপমৃত্যু মামলাটি চোখে পড়ে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত-কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাগবাড়ি এলাকার শিশু নিবাসে যাওয়া হয়। সেখানে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ঘটনায় জড়িত আয়াকে আটক করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে জানা যায়, গত ২২ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে ছোটমণি নিবাসে দুইমাস ১১ দিন বয়সী শিশু নাবিল আহমদ কান্না করতে থাকলে ক্ষিপ্ত হন শিশুটির দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে সজোরে বিছানায় আছাড় দেন। বিছানার স্টিলের রেলিঙয়ে আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। এরপরও থামেনি নির্যাতন। শিশুটির মুখে বালিশচাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন সুলতানা।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে হত্যার পর প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করেন সুলতানা এবং ছোটমণি নিবাসের অন্য কর্মকর্তারা। গত ২৪ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় ছোটমণি নিবাসের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শিশু নাবিলকে দাফন করা হয়।

মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার কারণে ঘটনার কূল-কিনারা করতে পারিনি। ঘটনার ২০ দিনেও মুখ খোলেননি নিবাসের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আয়া বা অন্য কেউ।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি এস এম আবু ফরহাদ বলেন, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা প্রথমে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখানো হলে তিনি চুপ হয়ে যান। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে বলেও জানান তিনি।