পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

জরিমানা মওকুফের পরও মালিকরা ফিটনেস হালনাগাদ করেন না

ফারুক আহমেদ সুজন: দেশে গত এক বছরে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। দফায় দফায় কর মওকুফের পরও মালিকরা গাড়ির ফিটনেস হালনাগাদ করছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব গাড়িতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বারবার অভিযানে নেমেও কমছে না এ ধরনের গাড়ির সংখ্যা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রয়েছে অন্তত পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ৭৭টি (৩০ নভেম্বর, ২০২১ পর্যন্ত)। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন গাড়ি ছিল চার লাখ ৮১ হাজার ২৯টি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ২৬ জানুয়ারি এ তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন জাতীয় সংসদে। অর্থাৎ প্রায় এক বছরে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বেড়েছে ৫৯ হাজার ৪৮টি।

কেন ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে— এমন প্রশ্ন খুঁজতে যোগাযোগ করা হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বিআরটিএ’র সঙ্গে। তাদের বক্তব্য, ফিটনেসবিহীন গাড়ির মালিকদের খুদে বার্তা বা এসএমএসের মাধ্যমে ফিটনেস হালনাগাদের জন্য নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির বিভিন্ন সার্কেল কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তাদের পক্ষ থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড, ডাম্পিংসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারপরও মালিকদের একটি বড় অংশ বিষয়টি কর্ণপাত করছেন না।

এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব গাড়ির মালিকদের অর্থদণ্ড করা হচ্ছে। ১০ বছর বা এর বেশি সময় ধরে ফিটনেসবিহীন গাড়ির তথ্য বিআরটিএ’র ভান্ডার থেকে ধাপে ধাপে মুছে ফেলা হচ্ছে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে তিন দফায় জরিমানা ছাড়াই কর দিয়ে ফিটনেস হালনাগাদের নির্দেশনা জারি করা হয়। এরপরও গাড়ির মালিকদের একটি অংশ নিয়মিতভাবে কর দিচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ অভিযান জোরদারের পাশাপাশি অন্য তদারকি কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে।
বিআরটিএ পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) সারোয়ার আলম এ প্রসঙ্গে ঢাকা বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিআরটিএ’র নির্বাহী হাকিমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি চলাচলের অনুপযোগী (ফিটনেসবিহীন) গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অর্থদণ্ড করা হচ্ছে, ডাম্পিংয়েও পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর অন্যান্য কারণের মধ্যে ছিল ৬৬ হাজার ৬৬১টি অনুপযোগী (ফিটনেসবিহীন) গাড়ি। এখনও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ এটি। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি। ভারী গাড়ির ফিটনেস তুলনামূলকভাবে কম। আমরা আমাদের গবেষণায় দেখতে পেয়েছি, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ভারী গাড়ি বাস ও ট্রাকের সংশ্লিষ্টতা ছিল ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে হয় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ফিটনেসহীন এমন গাড়ি বেড়ে যাওয়ায় সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়ছে।
‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এর ২৫ ধারা অনুযায়ী, বিআরটিএ থেকে মোটরযানের ফিটনেস সনদ নেওয়ার বিধান রয়েছে। তারপরও ১০ বছরের বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন করা হয়নি। এ অবস্থায় মোটরযান মালিকদের স্ব-স্ব মোটরযানের ফিটনেস নবায়নের জন্য অনুরোধ করে বারবার আদেশ দিয়েছে বিআরটিএ।

১০ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে ফিটনেসবিহীন মোটরযান ধ্বংস বা চিরতরে ব্যবহারের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে বিআরটিএ। এসব মোটরযানের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। এটি করা হচ্ছে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী।

বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শকরা জানান, কোনো গাড়ি সড়কে চলাচলের উপযোগী কি না, তা যাচাই করার জন্য গাড়ির ৩২টি বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৯৮ সাল থেকে অংশীজনদের নিয়ে সভা করে থাকে। এসব সভায় বারবার অনুপযোগী যানবাহন উচ্ছেদের সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১০ সালে রাজধানীতে ২০ বছরের অধিক পুরনো বাস-মিনিবাসের চলাচল নিষিদ্ধ করে অভিযানও শুরু হয়। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযান চালানো হলে বাসমালিকরা বিভিন্ন কৌশলে ধর্মঘট শুরু করে দেন। ফলে অভিযান স্তিমিত হয়ে পড়ে।

২০১২ সালের এপ্রিলে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা কমিটির সভায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৩ সালের জুনে কমিটির সভায় তিন মাসের মধ্যে ফিটনেসবিহীন গাড়ি অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এসব কেবল ঘোষণাতেই আটকে আছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতউল্ল্যাহ বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের কাছে বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। গাড়ি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদ করা সম্ভব। শুধু বাস নয়, লেগুনাসহ বহু অননুমোদিত গাড়ির ফিটনেস নেই।

ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুর নবী শিমু বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে বিআরটিএ’র অননুমোদিত গাড়ি রয়েছে কমপক্ষে ১০ লাখ। এর মধ্যে নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো যানবাহনও আছে। এগুলোর নিবন্ধন ও ফিটনেস নেই। দুর্ঘটনার সঙ্গে এসব বাহন জড়িত। কম গতিসম্পন্ন এসব বাহনের হিসাব বিআরটিএ সংরক্ষণ করছে না। এটি করলে ফিটনেসহীন গাড়ির সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

জরিমানা মওকুফের পরও মালিকরা ফিটনেস হালনাগাদ করেন না

আপডেট টাইম : ০১:০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১

ফারুক আহমেদ সুজন: দেশে গত এক বছরে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। দফায় দফায় কর মওকুফের পরও মালিকরা গাড়ির ফিটনেস হালনাগাদ করছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব গাড়িতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বারবার অভিযানে নেমেও কমছে না এ ধরনের গাড়ির সংখ্যা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রয়েছে অন্তত পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ৭৭টি (৩০ নভেম্বর, ২০২১ পর্যন্ত)। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন গাড়ি ছিল চার লাখ ৮১ হাজার ২৯টি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ২৬ জানুয়ারি এ তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন জাতীয় সংসদে। অর্থাৎ প্রায় এক বছরে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বেড়েছে ৫৯ হাজার ৪৮টি।

কেন ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে— এমন প্রশ্ন খুঁজতে যোগাযোগ করা হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বিআরটিএ’র সঙ্গে। তাদের বক্তব্য, ফিটনেসবিহীন গাড়ির মালিকদের খুদে বার্তা বা এসএমএসের মাধ্যমে ফিটনেস হালনাগাদের জন্য নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির বিভিন্ন সার্কেল কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তাদের পক্ষ থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড, ডাম্পিংসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারপরও মালিকদের একটি বড় অংশ বিষয়টি কর্ণপাত করছেন না।

এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব গাড়ির মালিকদের অর্থদণ্ড করা হচ্ছে। ১০ বছর বা এর বেশি সময় ধরে ফিটনেসবিহীন গাড়ির তথ্য বিআরটিএ’র ভান্ডার থেকে ধাপে ধাপে মুছে ফেলা হচ্ছে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে তিন দফায় জরিমানা ছাড়াই কর দিয়ে ফিটনেস হালনাগাদের নির্দেশনা জারি করা হয়। এরপরও গাড়ির মালিকদের একটি অংশ নিয়মিতভাবে কর দিচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ অভিযান জোরদারের পাশাপাশি অন্য তদারকি কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে।
বিআরটিএ পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) সারোয়ার আলম এ প্রসঙ্গে ঢাকা বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিআরটিএ’র নির্বাহী হাকিমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি চলাচলের অনুপযোগী (ফিটনেসবিহীন) গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অর্থদণ্ড করা হচ্ছে, ডাম্পিংয়েও পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর অন্যান্য কারণের মধ্যে ছিল ৬৬ হাজার ৬৬১টি অনুপযোগী (ফিটনেসবিহীন) গাড়ি। এখনও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ এটি। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি। ভারী গাড়ির ফিটনেস তুলনামূলকভাবে কম। আমরা আমাদের গবেষণায় দেখতে পেয়েছি, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ভারী গাড়ি বাস ও ট্রাকের সংশ্লিষ্টতা ছিল ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে হয় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ফিটনেসহীন এমন গাড়ি বেড়ে যাওয়ায় সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়ছে।
‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এর ২৫ ধারা অনুযায়ী, বিআরটিএ থেকে মোটরযানের ফিটনেস সনদ নেওয়ার বিধান রয়েছে। তারপরও ১০ বছরের বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন করা হয়নি। এ অবস্থায় মোটরযান মালিকদের স্ব-স্ব মোটরযানের ফিটনেস নবায়নের জন্য অনুরোধ করে বারবার আদেশ দিয়েছে বিআরটিএ।

১০ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে ফিটনেসবিহীন মোটরযান ধ্বংস বা চিরতরে ব্যবহারের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে বিআরটিএ। এসব মোটরযানের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। এটি করা হচ্ছে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী।

বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শকরা জানান, কোনো গাড়ি সড়কে চলাচলের উপযোগী কি না, তা যাচাই করার জন্য গাড়ির ৩২টি বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৯৮ সাল থেকে অংশীজনদের নিয়ে সভা করে থাকে। এসব সভায় বারবার অনুপযোগী যানবাহন উচ্ছেদের সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১০ সালে রাজধানীতে ২০ বছরের অধিক পুরনো বাস-মিনিবাসের চলাচল নিষিদ্ধ করে অভিযানও শুরু হয়। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযান চালানো হলে বাসমালিকরা বিভিন্ন কৌশলে ধর্মঘট শুরু করে দেন। ফলে অভিযান স্তিমিত হয়ে পড়ে।

২০১২ সালের এপ্রিলে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা কমিটির সভায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৩ সালের জুনে কমিটির সভায় তিন মাসের মধ্যে ফিটনেসবিহীন গাড়ি অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এসব কেবল ঘোষণাতেই আটকে আছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতউল্ল্যাহ বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের কাছে বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। গাড়ি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদ করা সম্ভব। শুধু বাস নয়, লেগুনাসহ বহু অননুমোদিত গাড়ির ফিটনেস নেই।

ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুর নবী শিমু বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে বিআরটিএ’র অননুমোদিত গাড়ি রয়েছে কমপক্ষে ১০ লাখ। এর মধ্যে নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো যানবাহনও আছে। এগুলোর নিবন্ধন ও ফিটনেস নেই। দুর্ঘটনার সঙ্গে এসব বাহন জড়িত। কম গতিসম্পন্ন এসব বাহনের হিসাব বিআরটিএ সংরক্ষণ করছে না। এটি করলে ফিটনেসহীন গাড়ির সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত।