অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

সুন্দরবনের বাঘের চামড়া পাচার হচ্ছে বিদেশে

বাংলার খবর২৪.কম tiger_54874: টাকায় বাঘের চোখও মেলে! এই প্রবাদটি সত্য হতে চলেছে। মোটা টাকায় মিলছে বাঘের চামড়া তাই বাঘ পাচারকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, বাঘ শিকারিরা জেলে সেজে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে বনে যায়। এরপর খাদ্যে বিষ মিশিয়ে ফাঁদ পেতে, বন্দুক দিয়ে গুলি করে বাঘ শিকার করে। বাঘ হত্যার পর স্থানীয় পদ্ধতিতে এর চামড়া সংরক্ষণ করে। পরে পাচারকারীদের সাহায্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে পাচার করে।

স্থানীয়ভাবে চামড়ার জন্য শিকারিরা দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পেলেও বিদেশে তা দশ লক্ষ টাকার বেশিতে বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বাঘের চামড়ার চড়া মূল্য থাকায় এখন চোরা শিকারিদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে সুন্দরবনের বাঘ। ১৯৮০ সাল থেকে বাঘের চামড়া সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর বিদেশে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০১১ সাল পর্যন্ত বনবিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে শতাধিক বাঘের চামড়া। ২০১১-১৩ সালের মধ্যে ২৭টি বাঘ হত্যার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ২ টি চামড়া, ১০ রাউন্ড বন্দুকের গুলি, ২টি মোটরসাইকেলসহ ৬ জনকে আটক করে র‌্যাব। এ নিয়ে এপর্যন্ত ১০২ টির মত বাঘের চামড়া উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
বনবিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক দশকে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে ২৪ টি ও পূর্ব বিভাগে ১২ টি বাঘের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১৪ টি বাঘ গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছে।

বাঘ নিয়ে কাজ করে খুলনার এমন একটি সেবাধর্মী সেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের নিবন্ধে উল্লেখ করেছে, ২০০২ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে সুন্দরবনে ১২০ টি বাঘ হত্যা করা হয়েছে।

বন বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী; ১৯৮০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ৫৩ টি বাঘ হত্যার শিকার হয়। তবে ৮১, ৮২, ৮৪, ৮৫, ৮৭ ও ১৯৯৫ সালে কোন বাঘের মৃত্যুর শিকার হয়নি।

হিসাব অনুযায়ী; ১৯৮৩ সালে ৩ টি ৮৬ সালে ২ টি, ৮৮ সালে ১ টি, ৯০ সালে ২ টি, ৯১ সালে ৪টি, ৯২ সালে ১ টি, ৯৩ সালে ৪ টি, ৯৪ সালে ২ টি, ৯৬ সালে ৫ টি, ৯৭ সালে ৮ টি, ৯৮ সালে ২ টি, ৯৯ সালে ৪ টি ২০০০ সালে ৫ টি, ২০০১ সালে ১ টি, ২০০২ সালে ৩ টি, ২০০৩ সালে ৩ টি, ২০০৪ সালে ৪ টি, ২০০৫ সালে ৬ টি, ২০০৭ সালে ৪ টি, ২০১১ সালে ৪ টি ও ২০১২ সালে ১ টি বাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে; বাঘ বেশী হত্যার শিকার হয় চাঁদপাই রেঞ্জে। এসব বাঘ গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাবাসী এর পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে বলেন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়া, মিঠা পানির অভাব, খাদ্য সংকট, বন ধ্বংস ও চোরা শিকারি ইত্যাদি কারণে বাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

স্থানীয সূত্র জানায়; সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জ সংলগ্ন গ্রামগুলিতে একাধিক চোরা শিকারির সংঘবদ্ধ দল রয়েছে। এদের অবস্থান বরগুনার পাথরঘাটা, চরদুয়ানি, বাগেরহাটের শরনখোলা, রামপাল, মোড়লগঞ্জ, মোংলা, সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, খুলনার পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা উপজেলায়।

বাঘের চামড়ার বাজার সবচেয়ে বেশি চীনে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া তাইওয়ান, নেপাল, ভিয়েতনাম, রাশিয়াতেও চাহিদা আছে।

বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি) ড. তপন কুমার দে বলেন, বনের জীববৈচিত্রের মান নিরূপণের নিয়ন্ত্রক হচ্ছে বাঘ। যে বনে জীববৈচিত্র বেশি, সেখানে বাঘের সংখ্যাও বেশি থাকে।

প্রধান বন সংরক্ষক ইউনূছ আলী বলেন, বাঘ ও হরিণ হত্যার জন্য আইনে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত জেল প্রদানের ধারা সংযোজন করা হয়েছে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সুন্দরবনের বাঘের চামড়া পাচার হচ্ছে বিদেশে

আপডেট টাইম : ০১:৫১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম tiger_54874: টাকায় বাঘের চোখও মেলে! এই প্রবাদটি সত্য হতে চলেছে। মোটা টাকায় মিলছে বাঘের চামড়া তাই বাঘ পাচারকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, বাঘ শিকারিরা জেলে সেজে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে বনে যায়। এরপর খাদ্যে বিষ মিশিয়ে ফাঁদ পেতে, বন্দুক দিয়ে গুলি করে বাঘ শিকার করে। বাঘ হত্যার পর স্থানীয় পদ্ধতিতে এর চামড়া সংরক্ষণ করে। পরে পাচারকারীদের সাহায্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে পাচার করে।

স্থানীয়ভাবে চামড়ার জন্য শিকারিরা দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পেলেও বিদেশে তা দশ লক্ষ টাকার বেশিতে বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বাঘের চামড়ার চড়া মূল্য থাকায় এখন চোরা শিকারিদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে সুন্দরবনের বাঘ। ১৯৮০ সাল থেকে বাঘের চামড়া সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর বিদেশে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০১১ সাল পর্যন্ত বনবিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে শতাধিক বাঘের চামড়া। ২০১১-১৩ সালের মধ্যে ২৭টি বাঘ হত্যার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ২ টি চামড়া, ১০ রাউন্ড বন্দুকের গুলি, ২টি মোটরসাইকেলসহ ৬ জনকে আটক করে র‌্যাব। এ নিয়ে এপর্যন্ত ১০২ টির মত বাঘের চামড়া উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
বনবিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক দশকে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে ২৪ টি ও পূর্ব বিভাগে ১২ টি বাঘের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১৪ টি বাঘ গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছে।

বাঘ নিয়ে কাজ করে খুলনার এমন একটি সেবাধর্মী সেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের নিবন্ধে উল্লেখ করেছে, ২০০২ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে সুন্দরবনে ১২০ টি বাঘ হত্যা করা হয়েছে।

বন বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী; ১৯৮০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ৫৩ টি বাঘ হত্যার শিকার হয়। তবে ৮১, ৮২, ৮৪, ৮৫, ৮৭ ও ১৯৯৫ সালে কোন বাঘের মৃত্যুর শিকার হয়নি।

হিসাব অনুযায়ী; ১৯৮৩ সালে ৩ টি ৮৬ সালে ২ টি, ৮৮ সালে ১ টি, ৯০ সালে ২ টি, ৯১ সালে ৪টি, ৯২ সালে ১ টি, ৯৩ সালে ৪ টি, ৯৪ সালে ২ টি, ৯৬ সালে ৫ টি, ৯৭ সালে ৮ টি, ৯৮ সালে ২ টি, ৯৯ সালে ৪ টি ২০০০ সালে ৫ টি, ২০০১ সালে ১ টি, ২০০২ সালে ৩ টি, ২০০৩ সালে ৩ টি, ২০০৪ সালে ৪ টি, ২০০৫ সালে ৬ টি, ২০০৭ সালে ৪ টি, ২০১১ সালে ৪ টি ও ২০১২ সালে ১ টি বাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে; বাঘ বেশী হত্যার শিকার হয় চাঁদপাই রেঞ্জে। এসব বাঘ গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাবাসী এর পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে বলেন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়া, মিঠা পানির অভাব, খাদ্য সংকট, বন ধ্বংস ও চোরা শিকারি ইত্যাদি কারণে বাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

স্থানীয সূত্র জানায়; সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জ সংলগ্ন গ্রামগুলিতে একাধিক চোরা শিকারির সংঘবদ্ধ দল রয়েছে। এদের অবস্থান বরগুনার পাথরঘাটা, চরদুয়ানি, বাগেরহাটের শরনখোলা, রামপাল, মোড়লগঞ্জ, মোংলা, সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, খুলনার পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা উপজেলায়।

বাঘের চামড়ার বাজার সবচেয়ে বেশি চীনে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া তাইওয়ান, নেপাল, ভিয়েতনাম, রাশিয়াতেও চাহিদা আছে।

বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি) ড. তপন কুমার দে বলেন, বনের জীববৈচিত্রের মান নিরূপণের নিয়ন্ত্রক হচ্ছে বাঘ। যে বনে জীববৈচিত্র বেশি, সেখানে বাঘের সংখ্যাও বেশি থাকে।

প্রধান বন সংরক্ষক ইউনূছ আলী বলেন, বাঘ ও হরিণ হত্যার জন্য আইনে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত জেল প্রদানের ধারা সংযোজন করা হয়েছে।