পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

ঐতিহাসিক তিস্তা রেল সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও ঝুঁকিতেই চলছে ট্রেন।

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক: উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলা সহ অন্যান্য জেলার সংযোগ রক্ষাকারী কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে তিস্তা রেলসেতু।

রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য তিস্তা রেল সেতুর ভূমিকা অপরিহার্য।

ইতিহাস থেকে জানা গেছে ১৮৯৯- ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে তিস্তা নদীর উপরে সেতুটি নির্মিত হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য একটি সেতু থেকে স্প্যান, গার্ডার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তা আবার মেরামত করা হয়, বর্তমানে সেতুটির বয়স চলে অনুমানিক ১শত ৮৫ বছর।

সড়ক পথে যোগাযোগের জন্য বিকল্প আরও একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয় বলে এর উপর দিয়েই সড়ক যোগাযোগ চালুর সম্ভাব্যতা ও উপযুক্ততা যাচাইয়ের পর এর উপর দিয়ে রেলওয়ের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা শুরু হয়। তখন থেকে তিস্তা রেলওয়ে সেতুর উপর দিয়ে রেল ও সড়ক উভয় যোগাযোগ-ই অব্যাহত ছিলো ।

কিন্তু একটি সেতুর উপরে বেশি চাপের ও ঝুঁকির কারণে আরও একটি নতুন তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ হয়। নতুন আর একটি তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ করা হলে আবারও তিস্তা রেল সেতুতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে শুধু রেল চলাচলের জন্য এই সেতুটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঐতিহাসিক এ তিস্তা রেল সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮টি ট্রেন চলাচল করে থাকে।

সেতুটি অনেক পুরাতন হয়ে যাওয়ায় এই সেতুটিকে ঐতিহাসিক সেতুও বলা হয় আর এই কারণে ,ভ্রমণকারিদের সমাগম ঘটে থাকে এই সেতুটিকে দেখার জন্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির কিছু কাঠের স্লিপারগুলো নষ্ট হয়ে গেছে এবং রেলপথে ব্যবহৃত ক্লিপগুলোরও কিছু ক্লিপ নেই এবং বয়সের কারণে নাটবল্টু মরিচা ধরে নড়বড়ে হয়ে গেছে

স্থানীয়রা বলেন, “নদীতে পানি পরিপূর্ণ হলে পিলারের ইটের ভিতর থেকে চুয়ে চুয়ে পানি পরে।
এতে করে বোঝা যায় যে পিলারের টেম্পারেচার কমে গেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা ও ভ্রমণ কারিরা এই পুরাতন রেলসেতুটি ভেঙে একটি নতুন রেলসেতু তৈরি করার জোর দাবি জানায়।

লালমনিরহাট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষরা বলেছেন সেতুটি পুরাতন হয়ে গেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ঐতিহাসিক তিস্তা রেল সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও ঝুঁকিতেই চলছে ট্রেন।

আপডেট টাইম : ০৮:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক: উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলা সহ অন্যান্য জেলার সংযোগ রক্ষাকারী কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে তিস্তা রেলসেতু।

রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য তিস্তা রেল সেতুর ভূমিকা অপরিহার্য।

ইতিহাস থেকে জানা গেছে ১৮৯৯- ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে তিস্তা নদীর উপরে সেতুটি নির্মিত হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য একটি সেতু থেকে স্প্যান, গার্ডার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তা আবার মেরামত করা হয়, বর্তমানে সেতুটির বয়স চলে অনুমানিক ১শত ৮৫ বছর।

সড়ক পথে যোগাযোগের জন্য বিকল্প আরও একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয় বলে এর উপর দিয়েই সড়ক যোগাযোগ চালুর সম্ভাব্যতা ও উপযুক্ততা যাচাইয়ের পর এর উপর দিয়ে রেলওয়ের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা শুরু হয়। তখন থেকে তিস্তা রেলওয়ে সেতুর উপর দিয়ে রেল ও সড়ক উভয় যোগাযোগ-ই অব্যাহত ছিলো ।

কিন্তু একটি সেতুর উপরে বেশি চাপের ও ঝুঁকির কারণে আরও একটি নতুন তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ হয়। নতুন আর একটি তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ করা হলে আবারও তিস্তা রেল সেতুতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে শুধু রেল চলাচলের জন্য এই সেতুটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঐতিহাসিক এ তিস্তা রেল সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮টি ট্রেন চলাচল করে থাকে।

সেতুটি অনেক পুরাতন হয়ে যাওয়ায় এই সেতুটিকে ঐতিহাসিক সেতুও বলা হয় আর এই কারণে ,ভ্রমণকারিদের সমাগম ঘটে থাকে এই সেতুটিকে দেখার জন্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির কিছু কাঠের স্লিপারগুলো নষ্ট হয়ে গেছে এবং রেলপথে ব্যবহৃত ক্লিপগুলোরও কিছু ক্লিপ নেই এবং বয়সের কারণে নাটবল্টু মরিচা ধরে নড়বড়ে হয়ে গেছে

স্থানীয়রা বলেন, “নদীতে পানি পরিপূর্ণ হলে পিলারের ইটের ভিতর থেকে চুয়ে চুয়ে পানি পরে।
এতে করে বোঝা যায় যে পিলারের টেম্পারেচার কমে গেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা ও ভ্রমণ কারিরা এই পুরাতন রেলসেতুটি ভেঙে একটি নতুন রেলসেতু তৈরি করার জোর দাবি জানায়।

লালমনিরহাট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষরা বলেছেন সেতুটি পুরাতন হয়ে গেছে।