পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

শহীদ মিনার এখন ময়লা ও পার্কিং জোন!

পাটগ্রাম প্রতিনিধি: শহীদ মিনার বাঙ্গালির গর্ব। এর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলা ভাষাভাষি মানুষের হাজারো আবেগ-অনুভূতি। অথচ সেই স্মৃতির মিনারজুড়ে কেবলই অযত্ন-অবহেলার ছাপ। বলছি লালমনিরহাট জেলা পাটগ্রাম উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কথা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাটগ্রাম Hundred পূর্ব বাজার এলাকায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের পাশে কেন্দ্রীয় এ শহীদ মিনারটির অবস্থান। মূল ফটক বন্ধ থাকলেও মিনার ঘিরে থাকা সামনের দেয়াল ভেঙে গিয়ে খোলা থাকায় শহীদ মিনার চত্বরটি ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন রাখার গ্যারেজে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, ২০০০ সালে এই স্থানে উপজেলা প্রশাসন ভাষা শহীদের স্মরণে মিনারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর তিন বছর পর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। প্রথম কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল ফটকে উপজেলা প্রশাসন তালা দিয়ে রাখতো। এসময় প্রবেশ করতে পারতেন না মানুষ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও দেখভাল করা হতো নিয়মিত। কিন্তু পরে রক্ষণাবেক্ষণে আর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে ফটকে তালা না থাকায় ও শহীদ মিনার চত্বরে সামনের ঘেরাও দেওয়ালের বিভিন্ন চাকা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ভিতরে যানবাহন রাখা হচ্ছে। স্যান্ডেল পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে উঠে আড্ডা দিতে দেখা গেছে নানান বয়সী মানুষজনকে।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে দেখা গেছে, শহীদ মিনারের সামনের ফাঁকা জায়গায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ও অন্য যানবাহনসহ বিক্রয়কৃত গাছপালা রেখে দিয়েছে সাধারণ মানুষ। শহীদ মিনারটির সামনের ফাঁকা জায়গাজুড়ে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাদদেশে শুয়ে আছে একদল কুকুর। শহীদ মিনারের পাশেই অনেকেই প্রস্রাব করছেন নির্দ্বিধায়। 

স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী তাফসিয়া আক্তার বলেন, প্রায় সময় এ শহীদ মিনারটি অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকে। হাট-বাজারে আসা মানুষজনের উদাসীনতায় অসম্মান হচ্ছে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্থাপনাটি। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে যত্ন নেওয়া হলেও বছরের বাকি সময় পড়ে থাকে চরম অবহেলায়।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না মাত্র জানলাম। মূল ফটক তালাবদ্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া দেওয়াল নির্মিত করার ব্যবস্থাসহ শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শহীদ মিনার এখন ময়লা ও পার্কিং জোন!

আপডেট টাইম : ০৫:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪

পাটগ্রাম প্রতিনিধি: শহীদ মিনার বাঙ্গালির গর্ব। এর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলা ভাষাভাষি মানুষের হাজারো আবেগ-অনুভূতি। অথচ সেই স্মৃতির মিনারজুড়ে কেবলই অযত্ন-অবহেলার ছাপ। বলছি লালমনিরহাট জেলা পাটগ্রাম উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কথা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাটগ্রাম Hundred পূর্ব বাজার এলাকায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের পাশে কেন্দ্রীয় এ শহীদ মিনারটির অবস্থান। মূল ফটক বন্ধ থাকলেও মিনার ঘিরে থাকা সামনের দেয়াল ভেঙে গিয়ে খোলা থাকায় শহীদ মিনার চত্বরটি ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন রাখার গ্যারেজে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, ২০০০ সালে এই স্থানে উপজেলা প্রশাসন ভাষা শহীদের স্মরণে মিনারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর তিন বছর পর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। প্রথম কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল ফটকে উপজেলা প্রশাসন তালা দিয়ে রাখতো। এসময় প্রবেশ করতে পারতেন না মানুষ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও দেখভাল করা হতো নিয়মিত। কিন্তু পরে রক্ষণাবেক্ষণে আর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে ফটকে তালা না থাকায় ও শহীদ মিনার চত্বরে সামনের ঘেরাও দেওয়ালের বিভিন্ন চাকা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ভিতরে যানবাহন রাখা হচ্ছে। স্যান্ডেল পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে উঠে আড্ডা দিতে দেখা গেছে নানান বয়সী মানুষজনকে।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে দেখা গেছে, শহীদ মিনারের সামনের ফাঁকা জায়গায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ও অন্য যানবাহনসহ বিক্রয়কৃত গাছপালা রেখে দিয়েছে সাধারণ মানুষ। শহীদ মিনারটির সামনের ফাঁকা জায়গাজুড়ে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাদদেশে শুয়ে আছে একদল কুকুর। শহীদ মিনারের পাশেই অনেকেই প্রস্রাব করছেন নির্দ্বিধায়। 

স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী তাফসিয়া আক্তার বলেন, প্রায় সময় এ শহীদ মিনারটি অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকে। হাট-বাজারে আসা মানুষজনের উদাসীনতায় অসম্মান হচ্ছে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্থাপনাটি। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে যত্ন নেওয়া হলেও বছরের বাকি সময় পড়ে থাকে চরম অবহেলায়।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না মাত্র জানলাম। মূল ফটক তালাবদ্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া দেওয়াল নির্মিত করার ব্যবস্থাসহ শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।