অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল

বগুড়া মোকামতলা বালিকা বিদ্যালয়ে গ্রাফিতে প্রতিবাদের ভাষায় শিল্প সাহসিকতার বার্তা ও বীরত্বের গল্প

(বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া মোকামতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একদল সৃজনশীল শিক্ষার্থী সম্প্রতি তাদের বিদ্যালয়ের দেয়ালে চিত্তাকর্ষক এবং অর্থপূর্ণ গ্রাফিতি অঙ্কন করেছেন, যা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতিতে তৈরি। এই গ্রাফিতিগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে আন্দোলনের বীরত্ব, সংগ্রাম এবং ত্যাগের অনন্য চিত্র। শিক্ষার্থীদের আঁকা একটি গ্রাফিতিতে শহীদ মীর মুগ্ধের স্মরণে উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা হয়েছে “পানি লাগবে পানি”। উল্লেখ্য, শহীদ মীর মুগ্ধ আন্দোলনের সময়ে আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে পানি বিতরণ করছিলেন। যখন তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন। গ্রাফিতিটি কেবল একটি বাক্যই নয়, বরং তা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুগ্ধের আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়, এবং দেশের প্রতি তার নিবেদিত ভালোবাসার একটি মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। আরেকটি গ্রাফিতিতে দেখা যায় বাংলাদেশের পতাকার সামনে শহীদ আবু সাঈদের প্রতিকৃতি, যেখানে তিনি বন্দুকের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে আছেন, দুহাত প্রসারিত করে।
এই ছবিটি যেন সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগকে ফুটিয়ে তুলেছে—তিনি বুক পেতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকেই আগলে রেখেছেন। ছবিটির নিচে লেখা হয়েছে, “শহীদ আবু সাঈদ কারো একার গর্ব না, সে পুরো দেশের গর্ব।”
দেয়ালের আরেকটি অংশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার স্মরণে দেয়ালজুড়ে রক্তাক্ত হাতের ছাপ আঁকা হয়েছে। সাথে একটি লিখা দেখা যায়, “ভয়ের দেয়াল ভাঙলো এবার, জোয়ার এলো ছাত্র-জনতার।” এই গ্রাফিতিটি ছাত্র আন্দোলনের সাহসিকতা এবং ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শিক্ষার্থীদের সংগ্রামকে স্মরণ করিয়ে দেয়। মোকামতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই গ্রাফিতিগুলো শুধু চিত্রশিল্পই নয়, বরং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন এবং বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। এগুলো শুধু দেয়ালে আঁকা কিছু ছবি নয়, বরং প্রতিটি গ্রাফিতিতে লুকিয়ে আছে একটি শক্তিশালী বার্তা, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
গ্রাফিটি গুলোতে ফুটে উঠেছে দুর্জয় এ প্রজন্মের ছাত্র সমাজের দুর্দান্ত সাহসিকতার চিত্র। গ্রাফিতি গুলো যেন নীরব থেকেই বলে বেড়াচ্ছে এক পাল সশস্ত্র শত্রুর মোকাবেলায় একদল নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার এক অভাবনীয় বিপ্লবের গল্প।

Tag :

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

বগুড়া মোকামতলা বালিকা বিদ্যালয়ে গ্রাফিতে প্রতিবাদের ভাষায় শিল্প সাহসিকতার বার্তা ও বীরত্বের গল্প

আপডেট টাইম : ০৮:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪

(বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া মোকামতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একদল সৃজনশীল শিক্ষার্থী সম্প্রতি তাদের বিদ্যালয়ের দেয়ালে চিত্তাকর্ষক এবং অর্থপূর্ণ গ্রাফিতি অঙ্কন করেছেন, যা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতিতে তৈরি। এই গ্রাফিতিগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে আন্দোলনের বীরত্ব, সংগ্রাম এবং ত্যাগের অনন্য চিত্র। শিক্ষার্থীদের আঁকা একটি গ্রাফিতিতে শহীদ মীর মুগ্ধের স্মরণে উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা হয়েছে “পানি লাগবে পানি”। উল্লেখ্য, শহীদ মীর মুগ্ধ আন্দোলনের সময়ে আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে পানি বিতরণ করছিলেন। যখন তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন। গ্রাফিতিটি কেবল একটি বাক্যই নয়, বরং তা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুগ্ধের আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়, এবং দেশের প্রতি তার নিবেদিত ভালোবাসার একটি মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। আরেকটি গ্রাফিতিতে দেখা যায় বাংলাদেশের পতাকার সামনে শহীদ আবু সাঈদের প্রতিকৃতি, যেখানে তিনি বন্দুকের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে আছেন, দুহাত প্রসারিত করে।
এই ছবিটি যেন সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগকে ফুটিয়ে তুলেছে—তিনি বুক পেতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকেই আগলে রেখেছেন। ছবিটির নিচে লেখা হয়েছে, “শহীদ আবু সাঈদ কারো একার গর্ব না, সে পুরো দেশের গর্ব।”
দেয়ালের আরেকটি অংশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার স্মরণে দেয়ালজুড়ে রক্তাক্ত হাতের ছাপ আঁকা হয়েছে। সাথে একটি লিখা দেখা যায়, “ভয়ের দেয়াল ভাঙলো এবার, জোয়ার এলো ছাত্র-জনতার।” এই গ্রাফিতিটি ছাত্র আন্দোলনের সাহসিকতা এবং ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শিক্ষার্থীদের সংগ্রামকে স্মরণ করিয়ে দেয়। মোকামতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই গ্রাফিতিগুলো শুধু চিত্রশিল্পই নয়, বরং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন এবং বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। এগুলো শুধু দেয়ালে আঁকা কিছু ছবি নয়, বরং প্রতিটি গ্রাফিতিতে লুকিয়ে আছে একটি শক্তিশালী বার্তা, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
গ্রাফিটি গুলোতে ফুটে উঠেছে দুর্জয় এ প্রজন্মের ছাত্র সমাজের দুর্দান্ত সাহসিকতার চিত্র। গ্রাফিতি গুলো যেন নীরব থেকেই বলে বেড়াচ্ছে এক পাল সশস্ত্র শত্রুর মোকাবেলায় একদল নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার এক অভাবনীয় বিপ্লবের গল্প।