অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

ভুয়া মাদরাসা কার্যক্রমের প্রতিবাদে পাটগ্রামে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের জগতবেড় দাখিল মাদরাসার নামে অনিয়ম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কৃষক আমিনুর রহমান। তিনি মাদরাসাটির একজন জমিদাতা ও ভুক্তভোগী বলে দাবি করেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আশোয়ারপাড়া এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

আমিনুর রহমান জানান, ২০০৫ সালে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি নিজে ২৯ শতক, তার মা হাজেরা খাতুন ২৯ শতক, কাজী আনোয়ার হোসেন ২৫ শতক ও সফিকুল ইসলাম ১৯ শতক জমি দান করেন। সব মিলিয়ে ১০২ শতক জমির ওপর একটি মাদরাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সে সময় একটি প্রাথমিক উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করে টিনের ঘর নির্মাণ করা হয় এবং ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে মাদরাসা অধিদপ্তর ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেও পাঠদানের অনুমোদন না পাওয়ায় ২০০৮ সালে মাদরাসাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১৭ বছর ধরে সেখানে কোনো ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুর রহমান আরও জানান, মাদরাসা বন্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে নিজের জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। মাদরাসার জন্য তিনি ও তার মা মোট ৫৮ শতক জমি দান করেছিলেন। পরবর্তীতে তার মা যে ২৯ শতক জমি দান করেছিলেন, তার সমপরিমাণ জমি তিনি অন্য স্থানে মায়ের নামে লিখে দেন।

তিনি বলেন, মাদরাসা পরিচালনাকালে মো. আবু সাঈদ মুসা সুপার এবং মো. রেজাউল করিম সহকারী সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাদরাসা বন্ধ হয়ে গেলে তারা সবাই অন্যত্র চাকরিতে চলে যান।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ২০২৫ সালে রাতের আঁধারে কাজী আনোয়ার হোসেন ও কাজী ইউনূছ আলী তিনজন জমিদাতাকে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে মাদরাসার সাইনবোর্ড স্থাপন করে আবার কার্যক্রম শুরু করেন, যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক।
এ সময় তিনি অবিলম্বে ভুয়া মাদরাসা কার্যক্রম বন্ধ করা, ভুয়া কাগজপত্র ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, সন্ত্রাসী হামলা ও জমি নষ্টের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা এবং থানায় আটক রাখার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে ভুয়া মাদরাসা ও চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

ভুয়া মাদরাসা কার্যক্রমের প্রতিবাদে পাটগ্রামে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট টাইম : ০১:৪০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের জগতবেড় দাখিল মাদরাসার নামে অনিয়ম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কৃষক আমিনুর রহমান। তিনি মাদরাসাটির একজন জমিদাতা ও ভুক্তভোগী বলে দাবি করেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আশোয়ারপাড়া এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

আমিনুর রহমান জানান, ২০০৫ সালে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি নিজে ২৯ শতক, তার মা হাজেরা খাতুন ২৯ শতক, কাজী আনোয়ার হোসেন ২৫ শতক ও সফিকুল ইসলাম ১৯ শতক জমি দান করেন। সব মিলিয়ে ১০২ শতক জমির ওপর একটি মাদরাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সে সময় একটি প্রাথমিক উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করে টিনের ঘর নির্মাণ করা হয় এবং ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে মাদরাসা অধিদপ্তর ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেও পাঠদানের অনুমোদন না পাওয়ায় ২০০৮ সালে মাদরাসাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১৭ বছর ধরে সেখানে কোনো ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুর রহমান আরও জানান, মাদরাসা বন্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে নিজের জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। মাদরাসার জন্য তিনি ও তার মা মোট ৫৮ শতক জমি দান করেছিলেন। পরবর্তীতে তার মা যে ২৯ শতক জমি দান করেছিলেন, তার সমপরিমাণ জমি তিনি অন্য স্থানে মায়ের নামে লিখে দেন।

তিনি বলেন, মাদরাসা পরিচালনাকালে মো. আবু সাঈদ মুসা সুপার এবং মো. রেজাউল করিম সহকারী সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাদরাসা বন্ধ হয়ে গেলে তারা সবাই অন্যত্র চাকরিতে চলে যান।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ২০২৫ সালে রাতের আঁধারে কাজী আনোয়ার হোসেন ও কাজী ইউনূছ আলী তিনজন জমিদাতাকে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে মাদরাসার সাইনবোর্ড স্থাপন করে আবার কার্যক্রম শুরু করেন, যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক।
এ সময় তিনি অবিলম্বে ভুয়া মাদরাসা কার্যক্রম বন্ধ করা, ভুয়া কাগজপত্র ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, সন্ত্রাসী হামলা ও জমি নষ্টের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা এবং থানায় আটক রাখার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে ভুয়া মাদরাসা ও চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।