অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ Logo মিরপুর বিআরটিএতে দালাল চক্রের ২ সদস্য আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ দিনের কারাদণ্ড Logo পাটগ্রামে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান Logo জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৮ জন : বিআরটিএ Logo দায়িত্ব নিয়ে স্কুল পরিদর্শনে নবনির্বাচিত সভাপতি Logo লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে ট্রাকের চাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত Logo তিস্তায় নতুন ব্যারাজ নির্মাণের পরামর্শ কারিগরি কমিটির Logo এক দিন ছুটি নিলেই টানা ৪ দিনের ছুটি Logo স্বামী চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ Logo খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা:
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠানে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আফরোজা বেগম (১৮) চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের দীন ইসলামের স্ত্রী এবং একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।

সোমবার সকালে চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে দীন ইসলামের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরিবারের অভিযোগ, দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো এবং আফরোজাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

গত শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তাকে মেরে ফেলা হতে পারে। এরপর ফোনটি কেটে যায়।

কিছুক্ষণ পর দীন ইসলাম আফরোজার শ্বশুরকে ফোন করে জানান, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠাতেও বলেন তিনি। টাকা পাঠাতে দেরি হলে পরে আফরোজার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার সকালে একটি লাশবাহী গাড়িতে করে আফরোজার মরদেহ গাজীপুর থেকে দীন ইসলামের বাড়িতে আনা হয়। এরপর বাড়ির উঠানে মরদেহ রেখে গাড়িটি চলে যায়। এ সময় স্বামী বা তার পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি পরিবারের।

নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগমের অভিযোগ, গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন নিহতের স্বজনরা।

তবে আফরোজার সঙ্গে পাঠানো ঢাকার উত্তরা এলাকার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্রে বিষপানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মরদেহের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। সেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ থাকলেও শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা:
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠানে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আফরোজা বেগম (১৮) চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের দীন ইসলামের স্ত্রী এবং একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।

সোমবার সকালে চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে দীন ইসলামের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরিবারের অভিযোগ, দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো এবং আফরোজাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

গত শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তাকে মেরে ফেলা হতে পারে। এরপর ফোনটি কেটে যায়।

কিছুক্ষণ পর দীন ইসলাম আফরোজার শ্বশুরকে ফোন করে জানান, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠাতেও বলেন তিনি। টাকা পাঠাতে দেরি হলে পরে আফরোজার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার সকালে একটি লাশবাহী গাড়িতে করে আফরোজার মরদেহ গাজীপুর থেকে দীন ইসলামের বাড়িতে আনা হয়। এরপর বাড়ির উঠানে মরদেহ রেখে গাড়িটি চলে যায়। এ সময় স্বামী বা তার পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি পরিবারের।

নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগমের অভিযোগ, গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন নিহতের স্বজনরা।

তবে আফরোজার সঙ্গে পাঠানো ঢাকার উত্তরা এলাকার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্রে বিষপানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মরদেহের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। সেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ থাকলেও শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।