পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

মীর কাসেম আলীর ফাঁসি

ফারুক আহম্মেদ সুজন :index_56442_56462_56464_56468 একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার বেলা ১১ টা ২৮ মিনিটে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মুজিবুর রহমান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ট্রাইব্যুনালের একাদশ রায়।

গত ৪ মে মীর কাসেম আলীর মামলার কার্যক্রম শেষ হলে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মতো ১৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে। ১৪টি অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। তবে এক এবং পাঁচ নং অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষী হাজির করেনি রাষ্ট্রপক্ষ।

২০১৩ সালের ১৬ মে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরে ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয় এবং ১৮ নভেম্বর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামসহ মোট ২৪ জন। এরা হলেন- সৈয়দ মো. এমরান, মো. সানাউল্লাহ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, সুনীল কান্তি বর্ধন দুলাল, শহীদপুত্র শিবু দাস, মৃদুল কুমার দে, প্রদীপ তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা এস্কান্দার আলম চৌধুরী, মো. সালাহউদ্দিন ছুট্টু মিয়া, মো. জাকারিয়া, নাজিমুদ্দিন, মো. হাসান (১), মো. হাসান (২), ফয়েজ আহমেদ সিদ্দিকী, জুলেখা খান, মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর চৌধুরী, হাসিনা খাতুন, এসএম জামাল উদ্দিন, এসএম সরওয়ার উদ্দিন এবং লুৎফর রহমান ফারুক।

জব্দ তালিকার সাক্ষী হলেন চট্টগ্রাম পাবলিক লাইব্রেরির বুক সর্টার কাউসার শেখ, বাংলা একাডেমির সহকারী গ্রন্থাগারিক এজাব উদ্দিন মিয়া এবং বাংলা একাডেমির প্রধান গ্রন্থাগারিক মোবারক মিয়া।

সাক্ষ্য শেষে এদের সবাইকে জেরা করে আসামিপক্ষ।

এরপর ২১ ও ২২ এপ্রিল মীর কাসেম আলীর পক্ষে সাক্ষ্য দেন তিনজন সাফাই সাক্ষী। তারা হলেন, মীর কাসেম আলীর ছোট বোন মমতাজ নুরুদ্দিন, চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানাধীন স্টেশন রোডের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী এবং চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের খান। এর পর তাদের জেরা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

সাক্ষ্য শেষে গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।

এরপর ২৯, ৩০ এপ্রিল ও ৪ মে কাসেম আলীর পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী এ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমীন।

উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে চলতি বছরের ৪ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

মীর কাসেম আলীর ফাঁসি

আপডেট টাইম : ০৬:০০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০১৪

ফারুক আহম্মেদ সুজন :index_56442_56462_56464_56468 একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার বেলা ১১ টা ২৮ মিনিটে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মুজিবুর রহমান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ট্রাইব্যুনালের একাদশ রায়।

গত ৪ মে মীর কাসেম আলীর মামলার কার্যক্রম শেষ হলে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মতো ১৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে। ১৪টি অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। তবে এক এবং পাঁচ নং অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষী হাজির করেনি রাষ্ট্রপক্ষ।

২০১৩ সালের ১৬ মে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরে ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয় এবং ১৮ নভেম্বর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামসহ মোট ২৪ জন। এরা হলেন- সৈয়দ মো. এমরান, মো. সানাউল্লাহ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, সুনীল কান্তি বর্ধন দুলাল, শহীদপুত্র শিবু দাস, মৃদুল কুমার দে, প্রদীপ তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা এস্কান্দার আলম চৌধুরী, মো. সালাহউদ্দিন ছুট্টু মিয়া, মো. জাকারিয়া, নাজিমুদ্দিন, মো. হাসান (১), মো. হাসান (২), ফয়েজ আহমেদ সিদ্দিকী, জুলেখা খান, মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর চৌধুরী, হাসিনা খাতুন, এসএম জামাল উদ্দিন, এসএম সরওয়ার উদ্দিন এবং লুৎফর রহমান ফারুক।

জব্দ তালিকার সাক্ষী হলেন চট্টগ্রাম পাবলিক লাইব্রেরির বুক সর্টার কাউসার শেখ, বাংলা একাডেমির সহকারী গ্রন্থাগারিক এজাব উদ্দিন মিয়া এবং বাংলা একাডেমির প্রধান গ্রন্থাগারিক মোবারক মিয়া।

সাক্ষ্য শেষে এদের সবাইকে জেরা করে আসামিপক্ষ।

এরপর ২১ ও ২২ এপ্রিল মীর কাসেম আলীর পক্ষে সাক্ষ্য দেন তিনজন সাফাই সাক্ষী। তারা হলেন, মীর কাসেম আলীর ছোট বোন মমতাজ নুরুদ্দিন, চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানাধীন স্টেশন রোডের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী এবং চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের খান। এর পর তাদের জেরা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

সাক্ষ্য শেষে গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।

এরপর ২৯, ৩০ এপ্রিল ও ৪ মে কাসেম আলীর পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী এ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমীন।

উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে চলতি বছরের ৪ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।