পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

কক্সবাজারের ৮ থানার ওসিকে জরুরি বার্তা

কক্সবাজার : কক্সবাজারের ৮ থানার মাদক ব্যবসায়ীরা ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সহসাই। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রেরণের জন্য ৮ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে জরুরি বার্তা প্রেরণ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক চট্টগ্রামে কর্মরত সিআইডির এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, ডিজিটাল এই ডাটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেই, বাটন চাপলেই বেরিয়ে আসবে ছবিসহ মাদক ব্যবসায়ীদের যাবতীয় সব তথ্য। তবে কয়দিনের মধ্যে এই ডাটাবেজ এর কাজ শেষ হবে তা জানা যায়নি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জরুরি বার্তা পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদির কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জেলার কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

পুলিশের অধরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দেয়া স্মারক নং-কে: অপ:/পু:হে:কো:/৯-২০১০/ (খ–৩)/৮৬৮১(১২), ১১ নভেম্বর/২০১৪ ইং তারিখ এবং সিআইডি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় স্মারক নং-৩১৯১, ১২ নভেম্বর/২০১৪ স্মরক মূলে প্রেরিত পত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক গঠিত ১নং সব কমিটির প্রথম সভার কার্যবিবণীর সিদ্ধান্ত নং-৭ (গ) এর বাস্তবায়ন কল্পে একটি ডাটাবেজ তৈরি লক্ষে কক্সবাজার জেলার কোনো কোনো স্থান দিয়ে মাদক প্রবেশ এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠি এই ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের রেকর্ডসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট ৮ থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানায়, একবার গ্রেফতার হলেই প্রত্যেক মাদক ব্যবসায়ীদের ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত, অপরাধের ধরণ ও কৌশলসহ যাবতীয় তথ্য সেন্ট্রাল ডাটাবেজ সেন্টারে সংরক্ষিত হবে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) আদলে ক্রিমিনাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র দাবি করেন।

পুলিশ সূত্র আরো দাবি করেছে, ক্রিমিনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এক এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর আরেক এলাকায় আত্মগোপন করে বা নিজের নাম পাল্টিয়ে আড়ালে থাকার আর সুযোগ থাকবে না। যে থানা এলাকায় ধরা পড়ুক না কেন, আঙ্গুলের ছাপ সহজেই তার পরিচয় প্রমাণ করে দেবে। নাম ক্লিক করলেই ডাটাবেজের সফটওয়্যার তার সব তথ্য বলে দেবে।

জেলার একাধিক থানার ওসি জানিয়েছেন, এর আগে থানায় শুধু তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ছবি তুলে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে ফিঙ্গার প্রিন্ট, শরীরের দাগ বা বিশেষ চিহ্নসহ হরেক রকমের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতরা গ্রেফতারের পর সহজেই জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ সময়ে এসব অপরাধী নিজেদের নাম-ঠিকানা গোপন করে অপরাধমূলক কর্মকা- চালায়। কিন্তু এই ডাটাবেজের কারণে তারা মিথ্যা বললেও সহজেই ধরা পড়ে যাবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কক্সবাজারের ৮ থানার ওসিকে জরুরি বার্তা

আপডেট টাইম : ০৫:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

কক্সবাজার : কক্সবাজারের ৮ থানার মাদক ব্যবসায়ীরা ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সহসাই। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রেরণের জন্য ৮ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে জরুরি বার্তা প্রেরণ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক চট্টগ্রামে কর্মরত সিআইডির এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, ডিজিটাল এই ডাটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেই, বাটন চাপলেই বেরিয়ে আসবে ছবিসহ মাদক ব্যবসায়ীদের যাবতীয় সব তথ্য। তবে কয়দিনের মধ্যে এই ডাটাবেজ এর কাজ শেষ হবে তা জানা যায়নি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জরুরি বার্তা পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদির কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জেলার কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

পুলিশের অধরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দেয়া স্মারক নং-কে: অপ:/পু:হে:কো:/৯-২০১০/ (খ–৩)/৮৬৮১(১২), ১১ নভেম্বর/২০১৪ ইং তারিখ এবং সিআইডি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় স্মারক নং-৩১৯১, ১২ নভেম্বর/২০১৪ স্মরক মূলে প্রেরিত পত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক গঠিত ১নং সব কমিটির প্রথম সভার কার্যবিবণীর সিদ্ধান্ত নং-৭ (গ) এর বাস্তবায়ন কল্পে একটি ডাটাবেজ তৈরি লক্ষে কক্সবাজার জেলার কোনো কোনো স্থান দিয়ে মাদক প্রবেশ এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠি এই ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের রেকর্ডসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট ৮ থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানায়, একবার গ্রেফতার হলেই প্রত্যেক মাদক ব্যবসায়ীদের ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত, অপরাধের ধরণ ও কৌশলসহ যাবতীয় তথ্য সেন্ট্রাল ডাটাবেজ সেন্টারে সংরক্ষিত হবে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) আদলে ক্রিমিনাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র দাবি করেন।

পুলিশ সূত্র আরো দাবি করেছে, ক্রিমিনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এক এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর আরেক এলাকায় আত্মগোপন করে বা নিজের নাম পাল্টিয়ে আড়ালে থাকার আর সুযোগ থাকবে না। যে থানা এলাকায় ধরা পড়ুক না কেন, আঙ্গুলের ছাপ সহজেই তার পরিচয় প্রমাণ করে দেবে। নাম ক্লিক করলেই ডাটাবেজের সফটওয়্যার তার সব তথ্য বলে দেবে।

জেলার একাধিক থানার ওসি জানিয়েছেন, এর আগে থানায় শুধু তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ছবি তুলে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে ফিঙ্গার প্রিন্ট, শরীরের দাগ বা বিশেষ চিহ্নসহ হরেক রকমের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতরা গ্রেফতারের পর সহজেই জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ সময়ে এসব অপরাধী নিজেদের নাম-ঠিকানা গোপন করে অপরাধমূলক কর্মকা- চালায়। কিন্তু এই ডাটাবেজের কারণে তারা মিথ্যা বললেও সহজেই ধরা পড়ে যাবে।