অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

পুলিশে নতুন ২০ সচিব, ৪৭ অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের পদ সৃষ্টি হচ্ছে

এম আই ফারুক : পুলিশ বিভাগে নতুন করে গ্রেড-১ অর্থাৎ সচিব পদমর্যাদার ২০টি পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলো হবে অতিরিক্ত আইজিপি পদ। এছাড়াও গ্রেড-২ অর্থাৎ অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার অতিরিক্ত আইজিপি পদ সৃষ্টি হচ্ছে ৪৭টি। গ্রেড-৩ এর ডিআইজি পর্যায়ের পদ সৃষ্টি হচ্ছে ১০৭টি। পুলিশ বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে।

গত মে মাসে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ৫০ হাজার জনবলের একটা অর্গানোগ্রাম তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছিলো। দাবি জানানো হয়েছিলো ওই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির জন্য। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেননি। অবশ্য পুলিশ বিভাগ বসে থাকেনি। তারা নিজেদের মতো করে প্রস্তাব তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ওই সময় স্বরাষ্ট্র সচিব পদে ছিলেন সিকিউকে মোস্তাক আহমেদ। তিনি এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তাছাড়া এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কোনো সাড়াও পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য তার ওপর চাপ ছিলো প্রচণ্ড। তিনি তাতে রাজি হননি। ফলে এ নিয়ে পুলিশ সদর দফতর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিলো। বাদানুবাদও হয় পুলিশ সদর দফতরের সঙ্গে তখনকার স্বরাষ্ট্র সচিব সিকিউকে মোস্তাক আহমেদের।

গত জুলাই মাসে স্বরাষ্ট্র সচিব পদে পরিবর্তনের পর পুলিশ সদর দফতর আবারো এটি নিয়ে তৎপর হয়ে উঠে। নতুন সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান পুলিশ সদর দফতরের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করেন। তিনি পুলিশ সদর দফতরের প্রস্তাবটি কোনো সংশোধন বা পরিমার্জন ছাড়াই অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বর্তমানে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, পুলিশ বিভাগে সচিব পদমর্যাদার ৬টি পদ ইতিমধ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। নতুনভাবে এখন আরো ২০টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, আগের যে ৬টি সচিব মর্যাদার (গ্রেড-১) পদ সৃষ্টি করা হয়েছিলো সেই পদগুলোতে যারা অধিষ্ঠিত আছেন এদের সবাইকে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিয়ম অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকারী হন পূর্ণ সচিবগণ। পুলিশ সদর দফতর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এদের নামে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যুর জন্য চিঠি দেওয়া হয়। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করে। অথচ নতুন করে কোনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করতে হলে নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার কথা। কিন্তু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত, এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো রকমের যোগাযোগ না করেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট ইস্যু করে। স্ত্রীসহ এ পদে অধিষ্ঠিতরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেয়েছেন। তখনকার স্বরাষ্ট্র সচিব সিকিউকে মোস্তাক আহমেদ এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভৎসনাও করেন বলে জানা যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সচিব মর্যাদার অর্থাৎ গ্রেড-১ এর আরো অনেক পদ আছে। পুলিশ বিভাগের পদগুলোর জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যুর পর গ্রেড-১ ধারী অন্যদেরও কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়ার দাবি উঠেছিলো। এটাকে সামাল দেওয়ার জন্য তখন পুলিশ বিভাগের কূটনৈতিক পাসপোর্টগুলো ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়েছিলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, সিকিউকে মোস্তাক আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর ভালো কর্মকর্তা হিসেবেই জানতেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ সরকারের অন্য নীতিনির্ধারকদেরও গুড বুকে ছিলেন তিনি। তাই মনে করা হয়েছিলো, চাকরির বয়স শেষে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন এই কর্মকর্তা। স্বরাষ্ট্র সচিব পদে না হলেও সরকারের অন্য যে কোনো পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, এমন আবহ তৈরি হয়েছিলো। শুধু পুলিশ বিভাগের সঙ্গে খারাপ সম্পর্কের কারণেই তা আর হয়ে উঠেনি।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

পুলিশে নতুন ২০ সচিব, ৪৭ অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের পদ সৃষ্টি হচ্ছে

আপডেট টাইম : ০২:০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৪

এম আই ফারুক : পুলিশ বিভাগে নতুন করে গ্রেড-১ অর্থাৎ সচিব পদমর্যাদার ২০টি পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলো হবে অতিরিক্ত আইজিপি পদ। এছাড়াও গ্রেড-২ অর্থাৎ অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার অতিরিক্ত আইজিপি পদ সৃষ্টি হচ্ছে ৪৭টি। গ্রেড-৩ এর ডিআইজি পর্যায়ের পদ সৃষ্টি হচ্ছে ১০৭টি। পুলিশ বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে।

গত মে মাসে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ৫০ হাজার জনবলের একটা অর্গানোগ্রাম তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছিলো। দাবি জানানো হয়েছিলো ওই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির জন্য। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেননি। অবশ্য পুলিশ বিভাগ বসে থাকেনি। তারা নিজেদের মতো করে প্রস্তাব তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ওই সময় স্বরাষ্ট্র সচিব পদে ছিলেন সিকিউকে মোস্তাক আহমেদ। তিনি এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তাছাড়া এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কোনো সাড়াও পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য তার ওপর চাপ ছিলো প্রচণ্ড। তিনি তাতে রাজি হননি। ফলে এ নিয়ে পুলিশ সদর দফতর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিলো। বাদানুবাদও হয় পুলিশ সদর দফতরের সঙ্গে তখনকার স্বরাষ্ট্র সচিব সিকিউকে মোস্তাক আহমেদের।

গত জুলাই মাসে স্বরাষ্ট্র সচিব পদে পরিবর্তনের পর পুলিশ সদর দফতর আবারো এটি নিয়ে তৎপর হয়ে উঠে। নতুন সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান পুলিশ সদর দফতরের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করেন। তিনি পুলিশ সদর দফতরের প্রস্তাবটি কোনো সংশোধন বা পরিমার্জন ছাড়াই অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বর্তমানে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, পুলিশ বিভাগে সচিব পদমর্যাদার ৬টি পদ ইতিমধ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। নতুনভাবে এখন আরো ২০টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, আগের যে ৬টি সচিব মর্যাদার (গ্রেড-১) পদ সৃষ্টি করা হয়েছিলো সেই পদগুলোতে যারা অধিষ্ঠিত আছেন এদের সবাইকে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিয়ম অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকারী হন পূর্ণ সচিবগণ। পুলিশ সদর দফতর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এদের নামে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যুর জন্য চিঠি দেওয়া হয়। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করে। অথচ নতুন করে কোনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করতে হলে নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার কথা। কিন্তু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত, এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো রকমের যোগাযোগ না করেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট ইস্যু করে। স্ত্রীসহ এ পদে অধিষ্ঠিতরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেয়েছেন। তখনকার স্বরাষ্ট্র সচিব সিকিউকে মোস্তাক আহমেদ এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভৎসনাও করেন বলে জানা যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সচিব মর্যাদার অর্থাৎ গ্রেড-১ এর আরো অনেক পদ আছে। পুলিশ বিভাগের পদগুলোর জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যুর পর গ্রেড-১ ধারী অন্যদেরও কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়ার দাবি উঠেছিলো। এটাকে সামাল দেওয়ার জন্য তখন পুলিশ বিভাগের কূটনৈতিক পাসপোর্টগুলো ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়েছিলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, সিকিউকে মোস্তাক আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর ভালো কর্মকর্তা হিসেবেই জানতেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ সরকারের অন্য নীতিনির্ধারকদেরও গুড বুকে ছিলেন তিনি। তাই মনে করা হয়েছিলো, চাকরির বয়স শেষে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন এই কর্মকর্তা। স্বরাষ্ট্র সচিব পদে না হলেও সরকারের অন্য যে কোনো পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, এমন আবহ তৈরি হয়েছিলো। শুধু পুলিশ বিভাগের সঙ্গে খারাপ সম্পর্কের কারণেই তা আর হয়ে উঠেনি।