অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

৯০ শতাংশ পাটকল বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় বিজেএমএ

ঢাকা: উৎপাদনের অভাবে ৯০ শতাংশ পাটকল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ জুট মিল এসোসিয়েশন(বিজেএমএ)। সংগঠনটির সচিব বারিক খান শীর্ষ নিউজকে এ আশঙ্কার কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের ১৪১টি পাটকলের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বছরই বন্ধ হয়েছে ৮টি পাটকল। তবে এই মুহূর্তে আমরা যদি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ এবং সরকারি সহযোগিতা না পাই তাহলে আমাদের ৯০ শতাংশ পাটকলই বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের অন্যতম এই শিল্পে।

বিজেএমএ জানায়, চরম অর্থসংকটে বেসরকারি পাটকলগুলো পর্যাপ্ত পাট কিনতে পারছে না। এ বছর ১২ লাখ বেল (এক বেলে ৫ দশমিক ৬ মণ) পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ পাটও কিনতে পারেনি এ সংগঠনটি। ফলে, উৎপাদন নেই কোন পাটকলেই।

বেসরকারি পাটকলগুলোর দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে বারিক খান বলেন, ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ না পাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে আমরা কোন পাট কিনতে পারিনি। আর এখন কৃষকদের কাছে কোন পাট নেই। তাই আমাদের যেতে হবে ফড়িয়াদের কাছে। ফলে এখন ঋণ পেলেও লাভের আশঙ্কা নেই। কারণ, তাদের কাছ থেকে বেশি দামেই পাট কিনতে হবে।

বারিক খান অভিযোগ করে বলেন, সরকারি পাটকলগুলোকে বাজেট থেকে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে তারা সময়মত কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনতে পারছে। কম দামে পাট কেনার ফলে পাটবস্ত্র তৈরিতে তাদের খরচও কম। তাই তাদের পাটবস্ত্রের দাম কম হওয়াতে বিদেশি ক্রেতারা তাদের দিকেই ঝুঁকছে।

পাটশিল্পের মন্দার কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, বাধ্যতামূলক পাটের বস্তা ব্যবহার আইন ২০১০ সালে পাশ হওয়া স্বত্বেও আজও তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। এছাড়া সরকারি পাটকলগুলো ঋণ মওকুফের সুবিধা পেলেও বেসরকারি পাটকলগুলো তা পায়নি। ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার, প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন ইত্যাদি কারণও এর জন্য দায়ী।

বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি পাটকলগুলোতে অর্থ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিলেও তফসিলি ব্যাংকগুলো এই নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ এই সংগঠনটির।

এছাড়া সম্প্রতি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় বেসরকারি পাটকলগুলোকে অর্থ সহায়তা প্রদান সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও কিছু জানায়নি বলে জানান বারিক খান।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

৯০ শতাংশ পাটকল বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় বিজেএমএ

আপডেট টাইম : ০৩:১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকা: উৎপাদনের অভাবে ৯০ শতাংশ পাটকল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ জুট মিল এসোসিয়েশন(বিজেএমএ)। সংগঠনটির সচিব বারিক খান শীর্ষ নিউজকে এ আশঙ্কার কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের ১৪১টি পাটকলের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বছরই বন্ধ হয়েছে ৮টি পাটকল। তবে এই মুহূর্তে আমরা যদি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ এবং সরকারি সহযোগিতা না পাই তাহলে আমাদের ৯০ শতাংশ পাটকলই বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের অন্যতম এই শিল্পে।

বিজেএমএ জানায়, চরম অর্থসংকটে বেসরকারি পাটকলগুলো পর্যাপ্ত পাট কিনতে পারছে না। এ বছর ১২ লাখ বেল (এক বেলে ৫ দশমিক ৬ মণ) পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ পাটও কিনতে পারেনি এ সংগঠনটি। ফলে, উৎপাদন নেই কোন পাটকলেই।

বেসরকারি পাটকলগুলোর দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে বারিক খান বলেন, ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ না পাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে আমরা কোন পাট কিনতে পারিনি। আর এখন কৃষকদের কাছে কোন পাট নেই। তাই আমাদের যেতে হবে ফড়িয়াদের কাছে। ফলে এখন ঋণ পেলেও লাভের আশঙ্কা নেই। কারণ, তাদের কাছ থেকে বেশি দামেই পাট কিনতে হবে।

বারিক খান অভিযোগ করে বলেন, সরকারি পাটকলগুলোকে বাজেট থেকে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে তারা সময়মত কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনতে পারছে। কম দামে পাট কেনার ফলে পাটবস্ত্র তৈরিতে তাদের খরচও কম। তাই তাদের পাটবস্ত্রের দাম কম হওয়াতে বিদেশি ক্রেতারা তাদের দিকেই ঝুঁকছে।

পাটশিল্পের মন্দার কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, বাধ্যতামূলক পাটের বস্তা ব্যবহার আইন ২০১০ সালে পাশ হওয়া স্বত্বেও আজও তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। এছাড়া সরকারি পাটকলগুলো ঋণ মওকুফের সুবিধা পেলেও বেসরকারি পাটকলগুলো তা পায়নি। ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার, প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন ইত্যাদি কারণও এর জন্য দায়ী।

বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি পাটকলগুলোতে অর্থ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিলেও তফসিলি ব্যাংকগুলো এই নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ এই সংগঠনটির।

এছাড়া সম্প্রতি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় বেসরকারি পাটকলগুলোকে অর্থ সহায়তা প্রদান সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও কিছু জানায়নি বলে জানান বারিক খান।