পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

৯০ শতাংশ পাটকল বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় বিজেএমএ

ঢাকা: উৎপাদনের অভাবে ৯০ শতাংশ পাটকল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ জুট মিল এসোসিয়েশন(বিজেএমএ)। সংগঠনটির সচিব বারিক খান শীর্ষ নিউজকে এ আশঙ্কার কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের ১৪১টি পাটকলের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বছরই বন্ধ হয়েছে ৮টি পাটকল। তবে এই মুহূর্তে আমরা যদি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ এবং সরকারি সহযোগিতা না পাই তাহলে আমাদের ৯০ শতাংশ পাটকলই বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের অন্যতম এই শিল্পে।

বিজেএমএ জানায়, চরম অর্থসংকটে বেসরকারি পাটকলগুলো পর্যাপ্ত পাট কিনতে পারছে না। এ বছর ১২ লাখ বেল (এক বেলে ৫ দশমিক ৬ মণ) পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ পাটও কিনতে পারেনি এ সংগঠনটি। ফলে, উৎপাদন নেই কোন পাটকলেই।

বেসরকারি পাটকলগুলোর দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে বারিক খান বলেন, ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ না পাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে আমরা কোন পাট কিনতে পারিনি। আর এখন কৃষকদের কাছে কোন পাট নেই। তাই আমাদের যেতে হবে ফড়িয়াদের কাছে। ফলে এখন ঋণ পেলেও লাভের আশঙ্কা নেই। কারণ, তাদের কাছ থেকে বেশি দামেই পাট কিনতে হবে।

বারিক খান অভিযোগ করে বলেন, সরকারি পাটকলগুলোকে বাজেট থেকে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে তারা সময়মত কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনতে পারছে। কম দামে পাট কেনার ফলে পাটবস্ত্র তৈরিতে তাদের খরচও কম। তাই তাদের পাটবস্ত্রের দাম কম হওয়াতে বিদেশি ক্রেতারা তাদের দিকেই ঝুঁকছে।

পাটশিল্পের মন্দার কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, বাধ্যতামূলক পাটের বস্তা ব্যবহার আইন ২০১০ সালে পাশ হওয়া স্বত্বেও আজও তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। এছাড়া সরকারি পাটকলগুলো ঋণ মওকুফের সুবিধা পেলেও বেসরকারি পাটকলগুলো তা পায়নি। ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার, প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন ইত্যাদি কারণও এর জন্য দায়ী।

বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি পাটকলগুলোতে অর্থ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিলেও তফসিলি ব্যাংকগুলো এই নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ এই সংগঠনটির।

এছাড়া সম্প্রতি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় বেসরকারি পাটকলগুলোকে অর্থ সহায়তা প্রদান সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও কিছু জানায়নি বলে জানান বারিক খান।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

৯০ শতাংশ পাটকল বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় বিজেএমএ

আপডেট টাইম : ০৩:১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকা: উৎপাদনের অভাবে ৯০ শতাংশ পাটকল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ জুট মিল এসোসিয়েশন(বিজেএমএ)। সংগঠনটির সচিব বারিক খান শীর্ষ নিউজকে এ আশঙ্কার কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের ১৪১টি পাটকলের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বছরই বন্ধ হয়েছে ৮টি পাটকল। তবে এই মুহূর্তে আমরা যদি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ এবং সরকারি সহযোগিতা না পাই তাহলে আমাদের ৯০ শতাংশ পাটকলই বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের অন্যতম এই শিল্পে।

বিজেএমএ জানায়, চরম অর্থসংকটে বেসরকারি পাটকলগুলো পর্যাপ্ত পাট কিনতে পারছে না। এ বছর ১২ লাখ বেল (এক বেলে ৫ দশমিক ৬ মণ) পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ পাটও কিনতে পারেনি এ সংগঠনটি। ফলে, উৎপাদন নেই কোন পাটকলেই।

বেসরকারি পাটকলগুলোর দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে বারিক খান বলেন, ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ না পাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে আমরা কোন পাট কিনতে পারিনি। আর এখন কৃষকদের কাছে কোন পাট নেই। তাই আমাদের যেতে হবে ফড়িয়াদের কাছে। ফলে এখন ঋণ পেলেও লাভের আশঙ্কা নেই। কারণ, তাদের কাছ থেকে বেশি দামেই পাট কিনতে হবে।

বারিক খান অভিযোগ করে বলেন, সরকারি পাটকলগুলোকে বাজেট থেকে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে তারা সময়মত কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনতে পারছে। কম দামে পাট কেনার ফলে পাটবস্ত্র তৈরিতে তাদের খরচও কম। তাই তাদের পাটবস্ত্রের দাম কম হওয়াতে বিদেশি ক্রেতারা তাদের দিকেই ঝুঁকছে।

পাটশিল্পের মন্দার কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, বাধ্যতামূলক পাটের বস্তা ব্যবহার আইন ২০১০ সালে পাশ হওয়া স্বত্বেও আজও তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। এছাড়া সরকারি পাটকলগুলো ঋণ মওকুফের সুবিধা পেলেও বেসরকারি পাটকলগুলো তা পায়নি। ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার, প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন ইত্যাদি কারণও এর জন্য দায়ী।

বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি পাটকলগুলোতে অর্থ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিলেও তফসিলি ব্যাংকগুলো এই নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ এই সংগঠনটির।

এছাড়া সম্প্রতি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় বেসরকারি পাটকলগুলোকে অর্থ সহায়তা প্রদান সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও কিছু জানায়নি বলে জানান বারিক খান।