পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

বাংলাদেশ সীমান্তে গুলির নির্দেশ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর!

ডেস্ক : চুক্তি লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গুলি বর্ষণের সপক্ষে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সম্প্রতি পশ্চিম বঙ্গ সফরে এসে তিনি বলেছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের জন্য ‘নন-লেঠালউইপেন্স’ কৌশল বলে কিছু নেই। উল্লেখ্য যে, বিশেষ করে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পরে বিএসএফ আশ্বস্ত করেছিল যে সীমান্তে আর গুলি চলবে না, বিডিআর-বিএসএফের যৌথ বৈঠকের পরে বলা হয়েছিল যে, বিএসএফ জওয়ানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা আর অনুপ্রবেশকারী বা চোরাচালানী সন্দেহে গুলি করে মারবে না। রাবার বুলেট, বা লাঠি চার্জের মতো নন-লেঠাল অস্ত্র ব্যবহার করবে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলকাতাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’। দি হিন্দুতে রাজনাথ সিংয়ের ওই মন্তব্যের বিষয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ‘মাসুম’ প্রধান কিরিটি রায় ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বরাবর দেয়া এক আবেদনে বলেন, ২০১১ সালের মার্চে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যে, বিএসএফ চার হাজার কিমি দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘লেঠালউইপেন্স’ ব্যবহার করবে না। রাজনাথ সিংয়ের ওই মন্তব্য ওই চুক্তির লঙ্ঘন।

সম্প্রতি উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি সীমান্ত ফাঁড়ি পরিদর্শনকালে রাজনাথ সিং বলেন, ‘নন লেঠাল কৌশল বলে কিছু নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। আমি এরকম একটি পরিস্থিতি কল্পনা করতে পারি না, যেখানে জওয়ানরা আত্মরক্ষার্থে গুলিচালাতে পারবে না।’

কিরিটি রায় যুক্তি দেন যে, আত্ম রক্ষার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু সীমান্তে যেটা দাঁড়িয়েছিল সেটা হলো বিএসএফ সাধারণত গুলি চালাতো আর পরে মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করত। এই সীমান্ত এলাকাটি ওই চুক্তির আগে ‘ট্রিগারহ্যাপি জোন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মন্তব্য তাই অসাংবিধানিক।

অন্যদিকে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন বলেছে, ২০১১ সালের ওই চুক্তির পরে সীমান্তে গুলিতে হত্যার সংখ্যা উল্লেখ যোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাংলা-ভারত সীমান্তে প্রায় ১১শ ব্যক্তির প্রাণ হানি ঘটে।

হিউম্যানরাইটসওয়াচের দক্ষিণ এশীয় পরিচাল মিনাক্ষী গাঙ্গলী অবশ্য বলেছেন, মৃতের সংখ্যা কমলেও ভারতের সীমান্তের দিকে ‘সন্দেহভাজন’দের নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে। বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের পেটাচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

বাংলাদেশ সীমান্তে গুলির নির্দেশ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর!

আপডেট টাইম : ০২:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০১৫

ডেস্ক : চুক্তি লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গুলি বর্ষণের সপক্ষে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সম্প্রতি পশ্চিম বঙ্গ সফরে এসে তিনি বলেছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের জন্য ‘নন-লেঠালউইপেন্স’ কৌশল বলে কিছু নেই। উল্লেখ্য যে, বিশেষ করে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পরে বিএসএফ আশ্বস্ত করেছিল যে সীমান্তে আর গুলি চলবে না, বিডিআর-বিএসএফের যৌথ বৈঠকের পরে বলা হয়েছিল যে, বিএসএফ জওয়ানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা আর অনুপ্রবেশকারী বা চোরাচালানী সন্দেহে গুলি করে মারবে না। রাবার বুলেট, বা লাঠি চার্জের মতো নন-লেঠাল অস্ত্র ব্যবহার করবে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলকাতাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’। দি হিন্দুতে রাজনাথ সিংয়ের ওই মন্তব্যের বিষয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ‘মাসুম’ প্রধান কিরিটি রায় ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বরাবর দেয়া এক আবেদনে বলেন, ২০১১ সালের মার্চে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যে, বিএসএফ চার হাজার কিমি দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘লেঠালউইপেন্স’ ব্যবহার করবে না। রাজনাথ সিংয়ের ওই মন্তব্য ওই চুক্তির লঙ্ঘন।

সম্প্রতি উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি সীমান্ত ফাঁড়ি পরিদর্শনকালে রাজনাথ সিং বলেন, ‘নন লেঠাল কৌশল বলে কিছু নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। আমি এরকম একটি পরিস্থিতি কল্পনা করতে পারি না, যেখানে জওয়ানরা আত্মরক্ষার্থে গুলিচালাতে পারবে না।’

কিরিটি রায় যুক্তি দেন যে, আত্ম রক্ষার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু সীমান্তে যেটা দাঁড়িয়েছিল সেটা হলো বিএসএফ সাধারণত গুলি চালাতো আর পরে মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করত। এই সীমান্ত এলাকাটি ওই চুক্তির আগে ‘ট্রিগারহ্যাপি জোন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মন্তব্য তাই অসাংবিধানিক।

অন্যদিকে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন বলেছে, ২০১১ সালের ওই চুক্তির পরে সীমান্তে গুলিতে হত্যার সংখ্যা উল্লেখ যোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাংলা-ভারত সীমান্তে প্রায় ১১শ ব্যক্তির প্রাণ হানি ঘটে।

হিউম্যানরাইটসওয়াচের দক্ষিণ এশীয় পরিচাল মিনাক্ষী গাঙ্গলী অবশ্য বলেছেন, মৃতের সংখ্যা কমলেও ভারতের সীমান্তের দিকে ‘সন্দেহভাজন’দের নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে। বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের পেটাচ্ছে।