অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

‘রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ৩ মাসেই সুন্দরবন ধ্বংস হবে’

সাতক্ষীরা: রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে ‘সুন্দরবন ধ্বংস হতে তিন মাসই যথেষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মোহাম্মদ।

শুক্রবার সাতক্ষীরায় এক সুধী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আনু মোহাম্মদ বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। বিশ্ব ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সুন্দরবন ধ্বংস হলে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সব মানুষের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হবে।

যেকোনো ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে ‘এনভায়রেনমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট’ করতে হয়। কিন্তু রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন আনু মোহাম্মদ।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে শুরু থেকে অনিয়ম করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, রামপালের জমি অধিগ্রহণে কিছু ধনী প্রভাবশালী লাভবান হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা জমি দিতে চায়নি তাদের ক্রস ফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

“রামপালে সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধ্বংস করতে তিন মাসই যথেষ্ট।” যদি কোনো দুর্ঘটনা নাও ঘটে তারপরও সুন্দরবন ধ্বংস হবে।

তিনি বলেন, সরকার বারবার বলছে বাতাস বনের দিকে যাবে না, কিন্তু এটি মিথ্যাচার। কোম্পানির সাথে যুক্ত লোকজন ছাড়া দেশের বেশিরভাগ মানুষ এর পক্ষে নয়।

আনু মোহাম্মদ বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের ভারতের অংশও ধ্বংস হবে বলে ভারতের সচেতন মানুষরাও এ প্রকল্পের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন।

তাই দুই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা পুরাতন আইনজীবী ভবন মিলনায়তনে বিকাল ৫টায় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সাতক্ষীরা শাখা সুধী সমাবেশের আয়োজন করে। আনু মোহাম্মদ ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আজিজুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু ও জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম।

সাতক্ষীরা শাখার আহবায়ক আজাদ হোসেন বেলাল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

‘রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ৩ মাসেই সুন্দরবন ধ্বংস হবে’

আপডেট টাইম : ০২:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৬

সাতক্ষীরা: রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে ‘সুন্দরবন ধ্বংস হতে তিন মাসই যথেষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মোহাম্মদ।

শুক্রবার সাতক্ষীরায় এক সুধী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আনু মোহাম্মদ বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। বিশ্ব ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সুন্দরবন ধ্বংস হলে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সব মানুষের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হবে।

যেকোনো ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে ‘এনভায়রেনমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট’ করতে হয়। কিন্তু রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন আনু মোহাম্মদ।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে শুরু থেকে অনিয়ম করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, রামপালের জমি অধিগ্রহণে কিছু ধনী প্রভাবশালী লাভবান হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা জমি দিতে চায়নি তাদের ক্রস ফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

“রামপালে সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধ্বংস করতে তিন মাসই যথেষ্ট।” যদি কোনো দুর্ঘটনা নাও ঘটে তারপরও সুন্দরবন ধ্বংস হবে।

তিনি বলেন, সরকার বারবার বলছে বাতাস বনের দিকে যাবে না, কিন্তু এটি মিথ্যাচার। কোম্পানির সাথে যুক্ত লোকজন ছাড়া দেশের বেশিরভাগ মানুষ এর পক্ষে নয়।

আনু মোহাম্মদ বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের ভারতের অংশও ধ্বংস হবে বলে ভারতের সচেতন মানুষরাও এ প্রকল্পের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন।

তাই দুই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা পুরাতন আইনজীবী ভবন মিলনায়তনে বিকাল ৫টায় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সাতক্ষীরা শাখা সুধী সমাবেশের আয়োজন করে। আনু মোহাম্মদ ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আজিজুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু ও জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম।

সাতক্ষীরা শাখার আহবায়ক আজাদ হোসেন বেলাল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।