অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

১৫ বছর পর আলোচিত হুন্ডি কাজলের ৩ বছরের জেল

ঢাকা: ঝিনাইদহের আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের গডফাদার ফারুক আহমদে ওরফে কাজলের জেল জরিমানা করেছেন আদালত। দীর্ঘ ১৫ বছর পর হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ৩ বছরের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমনা করেছেন ঝিনাইদহের একটি আদালত। আর জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঝিনাইদহ বিচারিক আদালতের হাকিম মনিরুজ্জামান আজ সোমবার বিকেলে এ রায় প্রদান করেন। এ মামলায় ৯৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২০০০ সালের ২ ডিসেম্বর কাজলসহ ১৪০ জন হুন্ডির এজেন্টের বিরুদ্ধে সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক দুলাল উদ্দিন আকন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে কাজলসহ ৯৮জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন আদালতে। দীর্ঘ ১৫ বছর এই মামলার তদন্ত ও শুনানি শেষে আজ এ রায় দেন আদালত।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ ১৫ বছরেও বহুল আলোচিত ফারুক আহমেদ ওরফে হুন্ডি কাজলের লোপাটকৃত হাজার কোটি টাকার কোন টাকাই উদ্ধার হয়নি। তিনি এখন কোথায় সে খোঁজও নেই সরকারের কোন দফতরে। গত কয়েক বছর আগে তিনি জামিনে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আত্মগোপনে যান।

আলোচিত এই কাজল কোটচাঁদপুর শহরে ক্ষুদ্র বই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ সালের দিকে অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভন দিয়ে টাকা হাতানোর ব্যবসা শুরু করেন। তিনি প্রতি লাখে ১২ হাজার টাকা করে মুনাফা দেওয়ার কথা প্রচার শুরু করেন। অস্বাভাবিক মুনাফার লোভে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কাজলের কাছে টাকা জমা দিতে থাকেন। ১৯৯৮-৯৯ সালে কাজলের প্রতারণামূলক ব্যবসায় ফুলে উঠেন। কাজল ও তার কয়েকশ’এজেন্ট টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। সাধারণ মানুষ জায়গা-জমি বিক্রি করে তার কাছে লাখ লাখ টাকা জমা রেখে পথে বসেন। এরপর ২০০০ সালের জুনে কাজলের হুন্ডি কারবারের পতন ঘটে। তার কাছে টাকা জমাকারীদের মুনাফা দিতে ব্যর্থ হন। হাজার হাজার মানুষ কাজল ও তার এজেন্টদের বাড়িতে হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেয়। জনরোষের হাত থেকে কাজলকে রক্ষার জন্য পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। আন্দোলনের মুখে টাকা উদ্ধারের জন্য সার্ভে কমিটি গঠন করে তৎকালীন সরকার। ওই কমিটি হাজার কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পান।

২৮ জন এজেন্ট ২শ’ কোটি টাকা লোপাটের কথা স্বীকার করে। এরপর কাজল ও তার এজেন্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আর ওই হুন্ডি ব্যবসার বিরোধে ৩ জন এজেন্ট খুনও হন। আবার টাকার শোকে বেশ কয়েকজন আত্মহত্যা করেন। কয়েকজন লগ্নিকারী ব্যবসায়ী হৃদরোগে মারা যান।

কোটচাঁদপুর থানা সূত্র জানায়, কাজলের বিরুদ্ধে এখনো বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। আর তার নামে ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

১৫ বছর পর আলোচিত হুন্ডি কাজলের ৩ বছরের জেল

আপডেট টাইম : ০১:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০১৬

ঢাকা: ঝিনাইদহের আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের গডফাদার ফারুক আহমদে ওরফে কাজলের জেল জরিমানা করেছেন আদালত। দীর্ঘ ১৫ বছর পর হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ৩ বছরের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমনা করেছেন ঝিনাইদহের একটি আদালত। আর জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঝিনাইদহ বিচারিক আদালতের হাকিম মনিরুজ্জামান আজ সোমবার বিকেলে এ রায় প্রদান করেন। এ মামলায় ৯৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২০০০ সালের ২ ডিসেম্বর কাজলসহ ১৪০ জন হুন্ডির এজেন্টের বিরুদ্ধে সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক দুলাল উদ্দিন আকন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে কাজলসহ ৯৮জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন আদালতে। দীর্ঘ ১৫ বছর এই মামলার তদন্ত ও শুনানি শেষে আজ এ রায় দেন আদালত।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ ১৫ বছরেও বহুল আলোচিত ফারুক আহমেদ ওরফে হুন্ডি কাজলের লোপাটকৃত হাজার কোটি টাকার কোন টাকাই উদ্ধার হয়নি। তিনি এখন কোথায় সে খোঁজও নেই সরকারের কোন দফতরে। গত কয়েক বছর আগে তিনি জামিনে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আত্মগোপনে যান।

আলোচিত এই কাজল কোটচাঁদপুর শহরে ক্ষুদ্র বই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ সালের দিকে অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভন দিয়ে টাকা হাতানোর ব্যবসা শুরু করেন। তিনি প্রতি লাখে ১২ হাজার টাকা করে মুনাফা দেওয়ার কথা প্রচার শুরু করেন। অস্বাভাবিক মুনাফার লোভে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কাজলের কাছে টাকা জমা দিতে থাকেন। ১৯৯৮-৯৯ সালে কাজলের প্রতারণামূলক ব্যবসায় ফুলে উঠেন। কাজল ও তার কয়েকশ’এজেন্ট টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। সাধারণ মানুষ জায়গা-জমি বিক্রি করে তার কাছে লাখ লাখ টাকা জমা রেখে পথে বসেন। এরপর ২০০০ সালের জুনে কাজলের হুন্ডি কারবারের পতন ঘটে। তার কাছে টাকা জমাকারীদের মুনাফা দিতে ব্যর্থ হন। হাজার হাজার মানুষ কাজল ও তার এজেন্টদের বাড়িতে হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেয়। জনরোষের হাত থেকে কাজলকে রক্ষার জন্য পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। আন্দোলনের মুখে টাকা উদ্ধারের জন্য সার্ভে কমিটি গঠন করে তৎকালীন সরকার। ওই কমিটি হাজার কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পান।

২৮ জন এজেন্ট ২শ’ কোটি টাকা লোপাটের কথা স্বীকার করে। এরপর কাজল ও তার এজেন্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আর ওই হুন্ডি ব্যবসার বিরোধে ৩ জন এজেন্ট খুনও হন। আবার টাকার শোকে বেশ কয়েকজন আত্মহত্যা করেন। কয়েকজন লগ্নিকারী ব্যবসায়ী হৃদরোগে মারা যান।

কোটচাঁদপুর থানা সূত্র জানায়, কাজলের বিরুদ্ধে এখনো বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। আর তার নামে ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।