পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

যেদিন প্রথম খেলেছিলো ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল’

ডেস্ক : ঊনিশশো একাত্তর সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নামের কোনো ক্রিকেট দলের মাঠে নামতে ছ’বছর সময় লেগেছিলো। বাংলাদেশ প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ খেলে ১৯৭৭ সালের ৭ই জানুয়ারি।

তিনদিনের একটি ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ডের একটি ক্লাবের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটি মূলত আয়োজিত হয় বাংলাদেশের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের যোগ্য কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখতেই এই খেলা।

ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলো লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাব মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি।

এমসিসি ক্লাবটির এখন আর কোন টিম নেই তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাথে ক্রিকেটের আইন-কানুন নিয়ে এই এমসিসি এখনও আলোচনা করে থাকে।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের অন্যতম ক্রিকেটার ছিলেন শফিকুল হক হীরা। যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেন।

তার স্মৃতিচারণে উঠে আসে ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের কথা, “মূল প্রশ্ন ছিলো আমাদেরকে সহযোগী সদস্য করবে কি করবে না। কারণ আমরা পূর্ব পাকিস্তান ছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের পর দুই বছর এবং শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাবার পর বেশ ক’দিন ক্রিকেট বন্ধ ছিলো।”

তিনি বলেন, “ফুটবল তখন তুঙ্গে ছিলো, সবাই ছিলো ক্রিকেটের বিরুদ্ধে। লোকের ঝোঁক ছিলো ফুটবলের দিকে। ক্রিকেটকে মনে করা হতো বনেদী খেলা, তাই অনেকেই ক্রিকেটের বিরুদ্ধে ছিলেন।”

“সবাই ভাবতো পাকিস্তান ভালো ক্রিকেট খেলতো, কিন্তু দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশও যে ভালো ক্রিকেট খেলতো সেটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ছিলো না।”

সেই দলে আরো ছিলেন রকিবুল হাসান, জালাল আহমেদ চৌধুরী, ফারুক আহমেদ, সৈয়দ আশরাফুল হক, দিপু রায় চৌধুরী, অধিনায়ক ছিলেন শামীম কবির।

শফিকুল হক হীরা বলেন, “আমরা খুব উত্তেজিত ছিলাম। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এমসিসি খেলবে। এই খেলার ওপর নির্ভর করতো যে আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্য হবো কি না।”

তিনি বলেন, “দল নির্বাচনে একটু সমস্যা ছিলো। আমরা ছিলাম জ্যেষ্ঠ। আমাদের কিছু সুপারিশ ছিলো। তবে পরবর্তীতে সবাই আলোচনা করে দল নিয়ে একমত হন।”

তিনদিনের এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছিলো।

বিশ্লেষক ও ক্রিকেটাররা বলছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ম্যাচের তাৎপর্য অনেক। শফিকুল হক হীরা মনে করেন, বাংলাদেশের সহযোগী সদস্য হওয়া থেকে শুরু করে টেস্ট খেলার মর্যাদা পাওয়া পর্যন্ত এই ক্রিকেট ম্যাচের একটা প্রভাব ছিলো।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

যেদিন প্রথম খেলেছিলো ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল’

আপডেট টাইম : ০৬:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

ডেস্ক : ঊনিশশো একাত্তর সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নামের কোনো ক্রিকেট দলের মাঠে নামতে ছ’বছর সময় লেগেছিলো। বাংলাদেশ প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ খেলে ১৯৭৭ সালের ৭ই জানুয়ারি।

তিনদিনের একটি ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ডের একটি ক্লাবের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটি মূলত আয়োজিত হয় বাংলাদেশের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের যোগ্য কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখতেই এই খেলা।

ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলো লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাব মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি।

এমসিসি ক্লাবটির এখন আর কোন টিম নেই তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাথে ক্রিকেটের আইন-কানুন নিয়ে এই এমসিসি এখনও আলোচনা করে থাকে।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের অন্যতম ক্রিকেটার ছিলেন শফিকুল হক হীরা। যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেন।

তার স্মৃতিচারণে উঠে আসে ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের কথা, “মূল প্রশ্ন ছিলো আমাদেরকে সহযোগী সদস্য করবে কি করবে না। কারণ আমরা পূর্ব পাকিস্তান ছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের পর দুই বছর এবং শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাবার পর বেশ ক’দিন ক্রিকেট বন্ধ ছিলো।”

তিনি বলেন, “ফুটবল তখন তুঙ্গে ছিলো, সবাই ছিলো ক্রিকেটের বিরুদ্ধে। লোকের ঝোঁক ছিলো ফুটবলের দিকে। ক্রিকেটকে মনে করা হতো বনেদী খেলা, তাই অনেকেই ক্রিকেটের বিরুদ্ধে ছিলেন।”

“সবাই ভাবতো পাকিস্তান ভালো ক্রিকেট খেলতো, কিন্তু দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশও যে ভালো ক্রিকেট খেলতো সেটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ছিলো না।”

সেই দলে আরো ছিলেন রকিবুল হাসান, জালাল আহমেদ চৌধুরী, ফারুক আহমেদ, সৈয়দ আশরাফুল হক, দিপু রায় চৌধুরী, অধিনায়ক ছিলেন শামীম কবির।

শফিকুল হক হীরা বলেন, “আমরা খুব উত্তেজিত ছিলাম। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এমসিসি খেলবে। এই খেলার ওপর নির্ভর করতো যে আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্য হবো কি না।”

তিনি বলেন, “দল নির্বাচনে একটু সমস্যা ছিলো। আমরা ছিলাম জ্যেষ্ঠ। আমাদের কিছু সুপারিশ ছিলো। তবে পরবর্তীতে সবাই আলোচনা করে দল নিয়ে একমত হন।”

তিনদিনের এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছিলো।

বিশ্লেষক ও ক্রিকেটাররা বলছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ম্যাচের তাৎপর্য অনেক। শফিকুল হক হীরা মনে করেন, বাংলাদেশের সহযোগী সদস্য হওয়া থেকে শুরু করে টেস্ট খেলার মর্যাদা পাওয়া পর্যন্ত এই ক্রিকেট ম্যাচের একটা প্রভাব ছিলো।