অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’: দিপু ভূইয়া

উত্তাল মার্চ আমাদের কে সংগ্রামী হতে শেখায়।

যা খুশি তা করার নাম স্বাধীনতা নয়। অধিকার অর্জনের মাধ্যমে নিজের যাবতীয় যোগ্যতা ও মেধাকে সর্বোচ্চ এবং সঠিক পন্থায় ব্যবহার করার নাম স্বাধীনতা। রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের কিছু অধিকার রয়েছে, যা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত হয়। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের সেই প্রাপ্য অধিকার দিতে গড়িমসি করে বা যথেষ্ট মনোযোগী না হয় তবে বলতেই হবে দেশ স্বাধীন হলেও দেশের মানুষ স্বাধীন নয়। আর জনগণ স্বাধীন না হলে প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তেমনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৭১ সালের আগে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশের) জনগণ। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের আয় ব্যবহার করত পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রমের মাধ্যমে যা উপার্জন করত তার ফল ভোগ করত পশ্চিম পাকিস্তানিরা। ফলে প্রাপ্য অধিকার থেকে সর্বদাই বঞ্চিত থাকত পূর্ব বাংলার জনগণ। তৎকালীন সময়ে পূর্ব বাংলায় প্রচুর পাট উৎপাদিত হতো। উৎপাদিত পাট বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো। এজন্য পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। এই সোনালি আঁশ বিদেশে রপ্তানি করে একটা বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। দুর্ভাগ্য জনক হলেও প্রকট সত্যি যে সেই প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজে। অথচ যারা কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সোনালী আঁশ পাট উৎপাদন করেছিলো তাদেরকে ভৌগোলিক ভাবে উন্নয়ন ও অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত করা হলো।

বস্তুত পক্ষে এভাবেই পূর্ব বাংলার ( আজকের বাংলাদেশ) জনগণ হতো শোষিত, নিপীড়িত ও অধিকার বঞ্চিত। এই অধিকার বঞ্চিত মানুষের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আলাপ-আলোচনা, তীব্র প্রতিবাদ ও অবশেষে স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম। এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন একজন উদারচিন্তার মানুষ ও মানবিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমান ছোট বেলা থেকে প্রচন্ডরকম নেতৃত্বের গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ ছিলেন। এই মহান নেতা তৎকালীন পূর্ব বাংলার জনগণের উপচেপড়া ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। আর এভাবেই তিনি হয়ে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর দিক নির্দেশনায়, নেতৃত্বে ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কতটুকু স্বাধীন? কতটুকু শক্তিশালী? একটা দেশ তখনই স্বাধীন বলে বিবেচিত হয় যখন প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে সামলে নিতে পারে। দেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অন্য দেশের নিকট হাত পাতবে না। দেশের জনগণের চরিত্র এমনভাবে গঠন করবে যেন প্রতিটা মানুষই স্বাধীনতার মূর্ত সৈনিক। আমরা ইতিহাস থেকে জেনেছি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যারা ছিল তাদের প্রত্যেকেই ছিল অনৈতিক। আর এ সমস্ত অনৈতিক লোকদের জন্যই যুদ্ধের সময়ে দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দেশ বিরোধী এই জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ কে কখনই মন থেকে মেনে নিতে পারে নি। এরা বিভিন্ন ভাবে দেশের মধ্যে কৃত্রিম সংকট ও অস্থিরতা তৈরী করার পায়তারায় লিপ্ত। তাই দেশের স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য, দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করার জন্য, দেশের জনগণের যাবতীয় মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশের নাগরিকদের নৈতিক মানুষ রূপে গড়ে তুলতে হবে।

স্বাধীনতা কে শতভাগ ফলপ্রসূ করতে হলে সবার আগে ১৮ কোটি জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরনের প্রতি সবার আগে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের অন্যতম সমস্যা হলো এখনো দেশের একটি বড় অংশ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। ওহ! কতো মর্মান্তিক জীবন এদের। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো নিজেদের কে স্বয়ং সম্পূর্ণ জাতি হিসেবে তৈরি করতে পারি নি। এ দুঃখ আমরা কোথায় রাখবো? ২০২৪ সালের এই স্বাধীনতার মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে আমাদের একটাই লক্ষ্য হোক ” আসুন দেশকে ভালোবাসি, দেশ মাতৃকার সকল কাজে নিজেকে অগ্রগামী করি”।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

উত্তাল মার্চ আমাদের কে সংগ্রামী হতে শেখায়।

আপডেট টাইম : ০২:১৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

যা খুশি তা করার নাম স্বাধীনতা নয়। অধিকার অর্জনের মাধ্যমে নিজের যাবতীয় যোগ্যতা ও মেধাকে সর্বোচ্চ এবং সঠিক পন্থায় ব্যবহার করার নাম স্বাধীনতা। রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের কিছু অধিকার রয়েছে, যা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত হয়। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের সেই প্রাপ্য অধিকার দিতে গড়িমসি করে বা যথেষ্ট মনোযোগী না হয় তবে বলতেই হবে দেশ স্বাধীন হলেও দেশের মানুষ স্বাধীন নয়। আর জনগণ স্বাধীন না হলে প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তেমনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৭১ সালের আগে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশের) জনগণ। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের আয় ব্যবহার করত পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রমের মাধ্যমে যা উপার্জন করত তার ফল ভোগ করত পশ্চিম পাকিস্তানিরা। ফলে প্রাপ্য অধিকার থেকে সর্বদাই বঞ্চিত থাকত পূর্ব বাংলার জনগণ। তৎকালীন সময়ে পূর্ব বাংলায় প্রচুর পাট উৎপাদিত হতো। উৎপাদিত পাট বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো। এজন্য পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। এই সোনালি আঁশ বিদেশে রপ্তানি করে একটা বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। দুর্ভাগ্য জনক হলেও প্রকট সত্যি যে সেই প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজে। অথচ যারা কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সোনালী আঁশ পাট উৎপাদন করেছিলো তাদেরকে ভৌগোলিক ভাবে উন্নয়ন ও অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত করা হলো।

বস্তুত পক্ষে এভাবেই পূর্ব বাংলার ( আজকের বাংলাদেশ) জনগণ হতো শোষিত, নিপীড়িত ও অধিকার বঞ্চিত। এই অধিকার বঞ্চিত মানুষের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আলাপ-আলোচনা, তীব্র প্রতিবাদ ও অবশেষে স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম। এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন একজন উদারচিন্তার মানুষ ও মানবিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমান ছোট বেলা থেকে প্রচন্ডরকম নেতৃত্বের গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ ছিলেন। এই মহান নেতা তৎকালীন পূর্ব বাংলার জনগণের উপচেপড়া ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। আর এভাবেই তিনি হয়ে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর দিক নির্দেশনায়, নেতৃত্বে ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কতটুকু স্বাধীন? কতটুকু শক্তিশালী? একটা দেশ তখনই স্বাধীন বলে বিবেচিত হয় যখন প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে সামলে নিতে পারে। দেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অন্য দেশের নিকট হাত পাতবে না। দেশের জনগণের চরিত্র এমনভাবে গঠন করবে যেন প্রতিটা মানুষই স্বাধীনতার মূর্ত সৈনিক। আমরা ইতিহাস থেকে জেনেছি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যারা ছিল তাদের প্রত্যেকেই ছিল অনৈতিক। আর এ সমস্ত অনৈতিক লোকদের জন্যই যুদ্ধের সময়ে দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দেশ বিরোধী এই জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ কে কখনই মন থেকে মেনে নিতে পারে নি। এরা বিভিন্ন ভাবে দেশের মধ্যে কৃত্রিম সংকট ও অস্থিরতা তৈরী করার পায়তারায় লিপ্ত। তাই দেশের স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য, দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করার জন্য, দেশের জনগণের যাবতীয় মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশের নাগরিকদের নৈতিক মানুষ রূপে গড়ে তুলতে হবে।

স্বাধীনতা কে শতভাগ ফলপ্রসূ করতে হলে সবার আগে ১৮ কোটি জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরনের প্রতি সবার আগে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের অন্যতম সমস্যা হলো এখনো দেশের একটি বড় অংশ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। ওহ! কতো মর্মান্তিক জীবন এদের। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো নিজেদের কে স্বয়ং সম্পূর্ণ জাতি হিসেবে তৈরি করতে পারি নি। এ দুঃখ আমরা কোথায় রাখবো? ২০২৪ সালের এই স্বাধীনতার মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে আমাদের একটাই লক্ষ্য হোক ” আসুন দেশকে ভালোবাসি, দেশ মাতৃকার সকল কাজে নিজেকে অগ্রগামী করি”।